১৩ পুলিশ সদস্য আহত

নয়াপল্টন রণক্ষেত্র

ভোটের পরিবেশ নষ্ট করছে সরকার : ফখরম্নল ‘ইস্যু’ তৈরির লড়্গ্যে পল্টনের সংঘর্ষ : মনিরম্নল

সুপ্রভাত ডেস্ক

নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রমের মধ্যেই ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
গতকাল বেলা ১টা থেকে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণড়্গেত্রে পরিণত হয়। আহত হন পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক।
পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। অন্যদিকে বিএনপি কর্মীরা বেশ কিছু যানবাহন ভাংচুর করে এবং পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন দেয়। এই সংঘর্ষের জন্য দুই পড়্গই পরস্পরকে দোষারোপ করেছে। বিএনপি বলেছে, ‘সরকারের নির্দেশে’ পুলিশ বিনা উসকানিতে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর ‘হামলা’ চালিয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ বলেছে, নির্বাচন সামনে রেখে ‘ইস্যু তৈরির লড়্গ্যে’ বিনা উস্কানিতে বিএনপি কর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
প্রত্যড়্গদর্শীরা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রিকে কেন্দ্র করে গত দুই দিনের মত গতকালও নয়া পল্টনের সড়কে ছিল মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কর্মী সমর্থকদের ভিড়। পুলিশ সদস্যরা তাদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছিলেন।
এর মধ্যে বেলা পৌনে ১টার দিকে বিএনপির স’ায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের কর্মী সমর্থকরা বড় একটি মিছিল নিয়ে ফকিরাপুলের দিক থেকে বিএনপি কার্যালয়ের দিকে আসেন। তার পেছনেই ছিল দড়্গিণ বিএনপির সহসভাপতি নবীউলস্নাহ নবীর সমর্থকদের আরেকটি মিছিল।
বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর মিছিলের কারণে বিএনপি কার্যালয়ের সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ তাদের রাসত্মা বন্ধ করে মিছিল নিয়ে যেতে নিষেধ করলে উত্তেজনার মধ্যে শুরম্ন হয় বাকবিত-া। পরে তা সংঘর্ষের রূপ নেয়।
বিএনপি কর্মীরা পুলিশের দিকে ঢিল ছুড়তে শুরম্ন করলে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে লাঠিপেটা।
এক পর্যায়ে পুলিশ কিছুটা সরে গিয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ে অবস’ান নেয়। বিএনপি কর্মীরা তখন নয়া পল্টনের সড়কে থাকা বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
সংঘর্ষের মধ্যে বিএনপি অফিসের সামনে থাকা অনেকে আশ্রয়ের আশায় কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে যান। বিএনপি অফিসের সবগুলো ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পল্টন থানার ওসি মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘পার্টি অফিসের সামনে আসা নেতাকর্মীরা সড়কে বিশৃঙ্খলভাবে অবস’ান করছিল। পুলিশ তাদের সুশৃঙ্খলভাবে থাকতে অনুরোধ করেছিল। কিন’ তারা বিনা উসকানিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।’
বেলা দেড়টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে গাড়িতে দেওয়া আগুন নেভাতে কাজ শুরম্ন করেন। বিএনপিকর্মীরা রাসত্মা আটকে রাখায় ঘটনাস’লে পৌঁছাতে বেগ পেতে হয় বলে অগ্নি নির্বাপক বাহিনীর কর্মীরা জানান।
এই সংঘর্ষের সময় কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুলের দিকে রাসত্মার উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে বিকাল সোয়া ৩টার পর থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরম্ন করে।
ভোটের পরিবেশ নষ্ট করছে সরকার : ফখরম্নল
নয়া পল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের জন্য পুলিশকে দায়ী করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম বলেছেন, এর মাধ্যমে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। খবর বিডিনিউজের।
গতকাল দুপুরে ওই সংঘর্ষের ঘটনার দুই ঘণ্টার মাথায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন কমিশনে আলোচনায় বসার আগে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
ফখরম্নল বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এ ধরনের পরিসি’তি করে সরকার নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করছে।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এ মুখপাত্র সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা এ ধরনের পরিসি’তি না ঘটানোর আহ্বান জানাই। ভোটের অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানাই।’
‘ইস্যু’ তৈরির লড়্গ্যে পল্টনের সংঘর্ষ : মনিরম্নল
বিএনপি কর্মীরা নির্বাচন সামনে রেখে ‘ইস্যু তৈরির লড়্গ্যে’ বিনা উসকানিতে নয়া পল্টনে সংঘর্ষে জড়িয়েছে বলে মনত্মব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরম্নল ইসলাম।
গতকাল দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এক ঘণ্টার বেশি সময় পুলিশের সঙ্গে দলটির কর্মীদের সংঘর্ষের পর কাউন্টার টেররিজমের প্রধান মনিরম্নলের এ মনত্মব্য আসে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের এডিসিসহ ১৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সংঘর্ষ থিতিয়ে আসার পর ঘটনাস’লে এসে পুলিশ কর্মকর্তা মনিরম্নল বলেন, ‘বিনা উসকানিতে ইস্যু তৈরি করার জন্য এটা করেছে ওরা।’
নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের পড়্গ থেকে অনুরোধ করা হলেও বিএনপি নেতাকর্মীরা তা মানেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনাস’লে উপসি’ত একজন পুলিশ সদস্য বলেন, বুধবার বেলা পৌনে ১টার দিকে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ও নবীউলস্নাহ নবীর কর্মী-সমর্থকরা মিছিল নিয়ে বিএনপি কার্যালয়ের দিকে আসার সময় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ সময় পুলিশ পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে গেলে বিড়্গুব্ধ নেতাকর্মীরা ঢিল ছুড়তে শুরম্ন করে বলে অভিযোগ করেন মনিরম্নল।
তিনি বলেন, ‘দুজন রাজনৈতিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় হাজার হাজার নেতাকর্মী পার্টি অফিসের সামনে আসে। এ সময় রাসত্মা বন্ধ হয়ে হয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।’সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশের দুটি সেডান গাড়ি ও একটি ভ্যানে বিএনপিকর্মীরা হামলা করে এবং পরে দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানান তিনি।
বিএনপি নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খলভাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার অনুরোধ জানিয়ে মনিরম্নল বলেন, ‘পুলিশ রাষ্ট্রের কর্মচারী। পুলিশকে প্রতিপড়্গ ভাববেন না।’
পুলিশের হামলা ‘সরকারের নির্দেশে’
পুলিশ ‘সরকারের নির্দেশে’ নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের ওপর ‘হামলা’ চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রম্নহুল কবির রিজভী। খবর বিডিনিউজের।
তিনি বলেছেন, ‘আপনারা আজ যা করলেন, আপনারা মৌচাকে ঢিল মেরেছেন কেন? আপনারা মনে করেন গুলির ভয়ে জাতীয়বাদী শক্তি মাটির নিচে ঢুকে যাবে? ঢুকে যাবে না। লাঠিচার্জ করে, টিয়ারগ্যাস মেরে দমন করতে পারবেন না।’