নৌকার বিজয় দেখছেন আত্মবিশ্বাসী বাদল

নিজস্ব প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে তৃতীয় বারের মতো নৌকার প্রার্থী হয়েছেন মইন উদ্দিন খান বাদল। শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস’ হলেও দৃঢ় মনোবল নিয়ে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন ৭০ বছর বয়সী এই জাসদ নেতা।
২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উলস্নাহকে পরাসত্ম করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বাদল। ২০১৪ সালের একপেশে নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় অনায়াসে জয়লাভ করেন।
এবারো দৃঢ় মনোবল নিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটযুদ্ধে লড়াই করতে নেমেছেন একাত্তরের এই মুক্তিযোদ্ধা।
নগরীর হামজারবাগ এলাকায় গতকাল সকালে স’ানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় যোগ দেন বাদল। অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে তিনি রাসত্মার আশে-পাশে দুয়েকটি দোকানে ভোটারদের সাথে কুশলবিনিময় করেন। এসময় তাঁকে বেশ উৎফুলস্ন দেখা যায়। সভায় বক্তব্য দিয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে। তাঁর বক্তব্য শুনে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
ভোটযুদ্ধে বাদলের দৃঢ় মনোবলের পেছনে অন্যতম কারণ হলো, সংসদীয় এলাকার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি। তাদের শক্তিতে মনোবল চাঙ্গা হয়েছে বাদলের।
গতকাল ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় নেতাকর্মীরা মান-অভিমান ভুলে নির্বাচনে তাঁর পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। নেতাদের অনেকে বক্তব্যে বাদলকে উৎসাহিত করেন।
নির্বাচনে বাদলের সামনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান।
নতুন মুখ সুফিয়ানকে তিনি কঠিন বাধা মনে না করলেও সহজভাবে নিচ্ছেন না।
মইন উদ্দিন খান বাদল সুপ্রভাতকে বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে নতুন হলেও আমি তাকে সহজভাবে নিচ্ছি না। তবে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’
আত্মবিশ্বাসটা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নৌকা প্রেমিকরাই আমার আত্মবিশ্বাস। তারাই আমার নৌকাকে পার করাবে।’
সংসদীয় এলাকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলেছেন, ভোটারদের কাছে বাদল পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। দুই বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। যে কারণে এলাকার মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বেশি। কিন’ ভোটারদের কাছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সেই পরিচিতি নেই।’
এ সংসদীয় আসনের ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইয়াকুব আলী সুপ্রভাতকে বলেন, ‘বাদল সাহেব একজন জাতীয় নেতা। এলাকায় তার ব্যাপক পরিচিতি আছে, যা আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রার্থীর নেই। এ কারণে আমাদের প্রার্থী অনায়াসে জিতবেন বলে মনে হচ্ছে।’