নেতাদের বাসায় কর্মীদের ঈদ উৎসব

সালাহ উদ্দিন সায়েম

নগরীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বাসায় ঈদ উৎসবে মেতেছেন কর্মীরা। ঈদের দিন ও পরের দিন সকাল থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বাসায় শুভেচ্ছা জানাতে ছুটে যান থানা-ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কর্মীদের জন্য অনেক নেতা গরু জবাই করে মেজবানির আয়োজন করেছেন, আবার অনেক নেতার বাসায় নানা মুখরোচক খাবারের আয়োজন ছিল।
নগরীতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতার বাসায় এবার ঈদে কর্মীদের জন্য ছিল ঘটা আয়োজন।
বিএনপির স’ায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের পর দিন নগরীর মেহেদীবাগের বাসায় দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য বাকরখানি দিয়ে গরুর মাংস ও জর্দা ভাতের আয়োজন করেন। নগরীর বন্দর-পতেঙ্গা এবং হালিশহর-পাহাড়তলী থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাবেক এ মন্ত্রীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে ছুটে আসেন। আমীর খসরু নিজ হাতে কর্মীদের আপ্যায়ন করেন।
নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর চশমা হিলের বাসায় দলীয়
নেতাকর্মীদের জন্য মেজবানের আয়োজন করা হয়। এবার চশমা হিলের বাসায় প্রয়াত মহিউদ্দিনের ছায়া হন ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। ঈদের দিন সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন থানা-ওয়ার্ড থেকে দলে দলে ছুটে আসেন কর্মীরা। প্রয়াত মহিউদ্দিনের টিন শেডের সেই কক্ষে বসে ব্যারিস্টার নওফেল কর্মীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কুশলবিনিময় শেষে কর্মীরা মেজবানের স্বাদ নেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস’ান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির নগরীর খুলশীর বাসায়ও নেতাকর্মীদের ভিড় ছিল। নগর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা তাঁকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে ছুটে যান। এছাড়া নগরীর বাকলিয়া ও কোতোয়ালী নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে যান। মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি নেতাকর্মীদের জন্য গরু আর মুরগির গোশত দিয়ে তেহেরি, সেমাই, নুডুলস, মিষ্টি এবং বিভিন্ন ধরনের পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন করেন।
মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের আন্দরকিল্লা নজির আহমদ চৌধুরী রোডের বাসা ঈদের দিন সকাল থেকে দলীয় নেতাকর্মী আর সাধারণ মানুষের আনাগোনায় মুখরিত ছিল। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কাউন্সিলররাও মেয়রের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে যান। বাসায় বিভিন্ন মুখরোচক খাবার দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়।
সাবেক মন্ত্রী ও নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. আফছারুল আমীনের নগরীর কাট্টলীর বাসায়ও ছিল নেতাকর্মীদের ভিড়। তার সংসদীয় এলাকার আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানাতে ছুটে আসেন। নেতাকর্মীদের মেজবানি মাংস, সেমাই, নুডুলস, মিষ্টি বিভিন্ন মুখরোচক খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করেন তিনি।
দুই বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান ও ডা. শাহাদাত হোসেন গত বছর ঈদে মহাধুমধামে দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য মেজবানের আয়োজন করেছিলেন। কিন’ এবার তাঁরা নেতাকর্মীদের জন্য এমন আয়োজন করেননি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও সুস’তা কামনায় দোয়া মাহফিল ও এতিম-দুস’দের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন এই দুই বিএনপি নেতা।
ডা. শাহাদাত নগরীর জামাল খান রীমা কনভেনশন সেন্টারে খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও সুস’তা কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। সেখানে তিনি এবার এতিম-দুস’দের জন্য মেজবানের আয়োজন করেন। নেতাকর্মীদের জন্য মেজবানের আয়োজন করা না হলেও তারা সেখানে গিয়ে ডা. শাহাদাতের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।