নিয়ম বহির্ভূত সাব ডিলার নিয়োগ সার পাচ্ছে না প্রান্তিক চাষিরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, পটিয়া

পটিয়া সীমান্তের চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নের মুরাদাবাদের ৪নম্বর ওয়ার্ডের প্রান্তিক কৃষকের সার কালো বাজারে বিক্রির হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান ইমাম অনিয়ম করে একই জায়গায় দু’টি সারের সাব ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় মূলত এখানকার কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার ক্রয় করতে পারছে না বলে জানা যায়। চলতি বোরো মৌসুমে সারের অভাবে পটিয়া সীমান্তের মুরাদাবাদ এলাকার অনেক কৃষক চাষাবাদও শুরু করতে পারেনি। অভিযোগ ওঠেছে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীতিমালা অনুসরণ না করেই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সাব ডিলার নিয়োগ দেওয়ার কারণে ইউরিয়া (সাদা সার), টিএসপি (কালা সার), পটাশ (লাল সার) ও জিপসাম সার অবৈধভাবে বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে। যার কারণে প্রকৃত কৃষকরা চলতি বোরো মৌসুমে ন্যায্যমূল্যে পর্যাপ্ত সার পাচ্ছে না।গত মঙ্গলবার সকালে মুরাদাবাদ এলাকার সাব ডিলার মাহবুবুল আলম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে গিয়েও কোন সুরাহা হয়নি। তবে এর আগে সাব ডিলারের আবেদনের প্রেক্ষিতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রূপায়ন চৌধুরী নতুন সাব ডিলার বাতিল করে প্রকৃত ডিলারের মাধ্যমে কৃষকের মাঝে সার বিক্রির জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বরাবরে একটি প্রতিবেদনও দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদন এখনও কার্যকর না হওয়ায় সাব ডিলার ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ডিলার ও কৃষক সূত্রে জানা গেছে, চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নের মুরাদাবাদ গ্রামের ৪নম্বর ওয়ার্ডের এলাকাটি পটিয়া উপজেলা সীমান্তে। ওই উপজেলায় মূল ডিলার ১০জন ও সাব ডিলার প্রায় ৯০ জন। প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে সাব ডিলার থাকার নিয়ম থাকলেও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে ২০১৮ সালে মুরাদাবাদের ৪নম্বর ওয়ার্ডে একই জায়গায় মো. রফিক সওদাগর নামের আরেকজনকে সাব ডিলার নিয়োগ দিয়েছেন। অথচ ২০১১ সাল থেকে মাহবুবুল আলম নামের অন্যজন সাব ডিলার কৃষকের মাঝে ইউরিয়াসহ বিভিন্ন সার বিক্রি করে যাচ্ছেন। অবৈধভাবে সাব ডিলার নিয়োগ দেওয়ার কারণে প্রকৃত সাব ডিলার মাহবুবুল আলম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান ইমামের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রূপায়ন চৌধুরী মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত প্রতিবেদন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বরাবরে দাখিল করেন। একটি ওয়ার্ডে দুইজন সাব ডিলার থাকার কারণে প্রান্তিক কৃষকরা সার পাচ্ছে না। মুরাদাবাদ এলাকার কৃষক মো. সেকান্দর অভিযোগ করেছেন, নতুন সাব ডিলার মো. রফিক সওদাগরকে দেওয়ার কারণে তাদের এলাকার কৃষকরা সার কোনভাবে পাচ্ছে না। প্রায় সময় রফিক সওদাগরের দোকান বন্ধ থাকে। এ ব্যাপারে চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান ইমাম বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে সাব ডিলার থাকার নিয়ম তা ঠিক। তবে একজন জনপ্রতিনিধির সুপারিশে মুরাদাবাদের ৪নম্বর ওয়ার্ডে আরেকজন সাব ডিলার দেওয়া হয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনে নতুন সাব ডিলার বাতিল করা হবে। তবে কৃষকের সার কালো বাজারে বিক্রি হওয়ার বিষয়টি সত্য নয় বলে তিনি জানান। মুরাদাবাদ এলাকার সাব ডিলার মাহবুবুল আলম বলেন, একই এলাকার দুইজন সাব ডিলার দেওয়ার কারণে মূল ডিলার থেকে নতুন সাব ডিলার সার উত্তোলন করে নিচ্ছে। তবে ওই সার কৃষক পাচ্ছে না। অবিলম্বে নতুন সাব ডিলার বাতিল করার দাবি জানান।