নিলাম হয়নি দুই বছরেও

নষ্ট হচ্ছে ৫০ হাজার মামলার আলামত

সরকার হাবীব

চট্টগ্রাম আদালতে অবসি’ত মহানগর ও জেলা মালখানায় অসংখ্য মামলার আলামত ও জব্দ গাড়ি রাখা হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। স’ান সংকট ও রক্ষাণাবেক্ষণের অভাবে বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে নষ্ট হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৫০ হাজার মামলার আলামত। বিভিন্ন সময় চুরি হওয়ার ফলে একদিকে বিচারকার্য বিঘ্নিত হচ্ছে আর অন্যদিকে অনেক মামলার আসামি নির্দোষ প্রমাণিত হলেও ফেরত পান না জব্দ হওয়া মালামাল।
এছাড়া প্রায় দুই বছর ধরে নিলাম হয়নি গুরুত্বপূর্ণ দুই মালখানায় রক্ষিত নিষ্পত্তি হওয়া মামলার মালামাল। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে নিলাম হয় বলে মালখানার দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা জানায়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর নিলাম না হওয়ার ফলে সরকার হারাচ্ছে বড় অংকের রাজস্ব।
হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, মাদক, চোরাচালানসহ বিভিন্ন মামলার আলামত বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত মালখানা দুটিতে সংরক্ষণ করা হয়। মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পর আলামত হিসেবে জব্দ করা মাদক জাতীয় বস’ একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপসি’তিতে ধ্বংস করা হয়। গাড়িসহ ব্যবহার্য জিনিস মালখানা থেকে প্রকাশ্যে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। বিক্রির পর ওই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
গত মঙ্গলবার আদালতে গিয়ে দেখা যায়, আলামত হিসেবে জব্দ করা মালামাল নতুন আদালত ভবন প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। এসব গাড়ির বেশির ভাগ মরিচা ধরে গেছে এবং যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। কোনোটির নেই চাকা, কোনোটির আবার দরজা নেই। অথচ আদালতে নিয়ে আসার আগে এসব আলামত ব্যবহারযোগ্য ছিল।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মহানগর ও জেলার ৩২ টি থানার সিভিল এবং ফৌজদারি মামলার বিচারকার্য পরিচালনা হয় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আদালত ও জেলা জজ আদালতে। মেট্রোপলিটন ও জেলা জজ আদালত মিলে চট্টগ্রামে ৭৮টি আদালত রয়েছে। এ সকল আদালতে জব্দ করা মালামাল জেলা ও মহানগর মালখানায় রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। দুই মালখানায় যে সকল মালামাল নষ্ট হচ্ছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মেট্রোপলিটন মালখানায় মোটরসাইকেল, সিএনজি, কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক, মিনি ট্রাক, প্রাইভেট কার, হায়েস, সাইকেল, রিকশা, ভ্যান, নসিমন, করিমন এবং ইঞ্জিন ভ্যান। এছাড়া মালখানার ভিতরে ঠাসাঠাসি অবস’া হওয়ার কারণেও নষ্ট হচ্ছে অনেক আলামত।
জানা যায়, ২০০৭ সালে বিচার বিভাগ বিভক্তিকরণের পূর্বে মালখানার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব্বে ছিলো নির্বাহী বিভাগ তথা জেলা প্রশাসক। বিচার বিভাগ বিভক্তিকরণের পরে এ দায়িত্ব অর্পিত হয় বিচার বিভাগ তথা জেলা
জজ আদালতের ওপর। মালখানার দায়িত্ব রদবদল হলেও প্রয়োজন অনুুযায়ী বাড়ানো হয়নি জায়গা। তৈরি হয়নি কোনো নতুন মালখানা।
মালখানায় দায়িত্বরত এক পুলিশ কনস্টেবল বলেন, নিষ্পত্তি হওয়া মামলার মালামাল নিলাম না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তা বারান্দা এবং বাইরে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ফলে রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে দুই মালখানায় রাখা মামলার আলামত।
মহানগর মালখানার দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শক রুবেল দে সুপ্রভাতকে বলেন, মামলার আলামত রাখার জন্য নতুন স’াপনা বা শেড নির্মাণের বিষয়টি অনেকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। কিন’ এখনো পর্যন্ত স’ান সংকট সমস্যার কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। এছাড়া নিষ্পত্তি হওয়া মামলার মালামাল নিলামের ব্যাপারেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ অল্প কিছুদিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া মালামালের নিলাম হতে পারে বলেও জানান তিনি।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শেখ ইফতেখার সায়মুল চৌধুরী সুপ্রভাতকে বলেন, অপরাধ প্রমাণে মামলার আলামত খুবই জরুরি এবং খোলা আকাশের নিচে আলামত পড়ে থাকা দুঃখজনক।’ ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন ধরনের গাড়িসহ নানা আলামত সংরক্ষণ করে রাখার জন্য অত্যাধুনিক আলাদা শেড নির্মাণ করা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার সাথে সাথে মাদক জাতীয় আলামত ধংস করা এবং ব্যবহারযোগ্য আলামত নিলামে উঠানো উচিত। এটা করা হলে রাষ্ট্রকে রাজস্ব হারাতে হবে না।’