নিলাম স’গিত জব্দকৃত পাথর চুরি আলীকদমে

নিজস্ব প্রতিনিধি, আলীকদম
Alikadam-Stoon-Nilam-News-p

আলীকদমে পাথর নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড শুরু হয়েছে। জব্দ, চুরি, নিলাম এই তিন নিয়ে সংশ্লিষ্টমহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কে করেছে? কার যোগসাজশে করেছে, মিলছে না এর উত্তর। সম্প্রতি আলীকদমে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জব্দ হওয়া পাথর চুরি হওয়ায় বুধবার এ সংক্রান্ত একটি পূর্বনির্ধারিত নিলাম প্রক্রিয়া স’গিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এনিয়ে রহস্য ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে সংশ্লিষ্টমহলে। নিলাম স’গিত ঘোষণা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস’া নেওয়া কথা জানিয়েছেন ইউএনও।
স’ানীয়রা জব্দকৃত পাথর ‘হাওয়া’ হয়ে যাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দুর্বলতা ও উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন স’ানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সমর রঞ্জন বড়-য়া। তিনি বলেন, চুরি হওয়া পাথরগুলি নিলাম হলে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা রাজস্ব পাওয়া যেত।
জব্দের পর জেলা প্রশাসনের ‘অনুমতি’ নিয়ে পাথর নিলাম দেওয়ার জন্য গত ৪ অক্টোবর ইউএনও’র স্বাক্ষরিত ‘নিলাম বিজ্ঞপ্তি’ জারি করা হয়।
গতকাল বুধবার (১১ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রকাশ্য নিলামের দিন ধার্য ছিল।
স’ানীয়রা এবং গোয়েন্দাসূত্র ইউএনওকে নিলামের আগে জানান, সংশ্লিষ্ট স’ানে পরিমাণমত পাথর নেই। ১০/১৫ ফুট পাথর রয়েছে সেখানে। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ইউএনও নিলাম প্রক্রিয়া স’গিত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, গত ২৮ আগস্ট আলীকদমের ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তৈনখাল সংলগ্ন লাইক্যার ঝিরির পাশে ৪ হাজার ২শ ঘনফুট পাথর জব্দ করেন। জব্দকালে থানার ওসি, চারজন হেডম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপসি’ত ছিলেন। পাথরগুলি সরকারি অনুমতি ছাড়া মজুত করা হয়েছিল।
আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী সা্ইদুর রহমান জানান, এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনই সিদ্ধান্ত নেবেন।
আলীকদম মৌজার হেডম্যান অংহ্লাচিং মার্মা জানান, ‘আমি সার্ভেয়ারসহ সরেজমিন গিয়ে সেখানে পরিমাণমত পাথর দেখতে পাইনি। ১০/১৫ ফুট পাথর রয়েছে মাত্র।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তিনি জানার পর পাথর নিলাম স’গিত করেছেন। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস’া নেওয়া হবে।