নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ বিতর্কিত : টিআইবি

সুপ্রভাত ডেস্ক

প্রার্থীরা সমান সুযোগ না পাওয়াসহ বিভিন্ন ত্রম্নটির কারণে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত’ বলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। দুর্নীতির বিরম্নদ্ধে জনমত তৈরিতে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস’াটির মতে, এ ধরনের নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নয়। খবর বিডিনিউজ।
‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যালোচনার’ প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলড়্গে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের এই পর্যবেড়্গণ উঠে আসে। ভোট নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর বিচার বিভাগীয় তদনত্ম করার দাবি করে টিআইবি বলেছে, ‘নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, বিতর্কিত হয়েছে।’
গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পায় ড়্গমতাসীন আওয়ামী লীগ। ভোট হওয়া ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে জয় পেয়েছে দলটি, জোটগতভাবে তারা পেয়েছে ২৮৮ আসন। অপরদিকে তাদের প্রধান প্রতিপড়্গ বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা সব মিলিয়ে মাত্র সাতটি আসন পেয়েছে।
ভোটে জয়ী আওয়ামী লীগ এরইমধ্যে সরকার গঠন করলেও নির্বাচনে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ তুলে বিএনপি জোটের নেতারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। নির্দলীয় সরকারের অধীনে পুনঃভোট দাবি করেছেন তারা।
ভোট নিয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনে টিআইবি বলেছে, ‘সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক বলা গেলেও তা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারেনি।’
এই প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে টিআইবি কর্মকর্তারা জানান, ৩০০টি আসনের মধ্যে ৫০টি আসন দৈবচয়নের ভিত্তিতে বেছে নিয়ে সেখানে সংশিস্নষ্টদের বক্তব্য নেন তারা। প্রধান দুটি জোটের এবং ড়্গেত্র বিশেষে তৃতীয় প্রার্থীর ওপর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়। মোট ১০৭ জন প্রার্থীর তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কমিশন গুরম্নত্বপূর্ণ অনেক ড়্গেত্রে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে সমর্থ হয়নি। নির্বাচন কমিশন সব দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারেনি। ‘লেভেল পেস্নয়িং ফিল্ড’ আছে কি না তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল।’
এছাড়া নির্বাচনের সময়ে তথ্য প্রবাহ ‘নিয়ন্ত্রণ’ ছাড়াও ড়্গমতাসীন দল-জোটের কোনে কোনো কার্যক্রম নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে বলে পর্যবেড়্গণ টিআইবির।
তারা বলছে, প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘনের প্রবণতা দেখা গেছে। প্রচারণার জন্য নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া আসন প্রতি নির্ধারিত ব্যয়সীমার চেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে। এটা আইনপ্রণেতাদের আইন মেনে চলার ড়্গেত্রে অনীহার প্রমাণ দেয়।
প্রতিবেদনটি সংবাদ সম্মেলনে উপস’াপনের পর টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারম্নজ্জামান বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠান পর্যনত্ম বিভিন্ন পর্যায়ে বিধি মানা না হওয়ায় নির্বাচন আংশিক অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। ভোটারদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভোট দেওয়ার সমান সুযোগ ছিল না। সব দলের প্রার্থীরা প্রচারণায় সমান সুযোগ পায়নি।’
নির্বাচন কমিশনের প্রত্যাশিত নিরপেড়্গতার অভাব ছিল মনত্মব্য করে তিনি বলেন, ‘সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সময়মতো উদ্যোগ নেওয়ায় ব্যর্থতা ছিল। মোটা দাগে নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক বলা যায় কারণ সব দল প্রার্থী দিয়েছিল। আংশিক অংশগ্রহণমূলক এ কারণে বলা হচ্ছে, সকলে সমান সুযোগ পায়নি।
‘গণতন্ত্রের জন্য এ ধরনের নির্বাচন ইতিবাচক নয়। এটাও ঠিক যে একটা নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র আসে না আবার ধ্বংসও হয় না।’
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, ‘নির্বাচনে যদি সমান সুযোগ দেওয়া না হয় তবে গণতন্ত্রের জন্য এটা ভালো নয়। সেই কারণে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলা হচ্ছে। নির্বাচনে সবাই সমান সুযোগ পাবে এটাই বাঞ্ছিত।
‘সবাই সমান সুযোগ না পেলে সংশয় থেকেই যায়। এটা গণতন্ত্রের জন্য ভালো উদাহরণ রাখে না। নির্বাচন পরিচালনায় প্রচুর ত্রম্নটি ছিল। এজন্য আমরা বলছি, ত্রম্নটিগুলো সংশোধন করে সামনের নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু করবেন।’