নির্বাচনী দৌড়ে সরব আওয়ামী লীগ আলোচনায় নজিবুল বশর

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচানের জন্য ফটিকছড়িতে সরকারি দল ভোটের প্রস’তি নিচ্ছে। নির্বাচনে ঘিরে সম্ভাব্য অনেকের নামও আলোচনায় আসছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও নেমে পড়েছেন গণসংযোগে। নেতাকমীদের মধ্যে নির্বাচন ও প্রার্থী নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের একাধিক নেতা এলাকায় তৎপরতা চালাচ্ছেন। তবে নেতারা অস্বীকার করলেও দলের ভেতর রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে বিভক্তি স্পষ্ট। দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের অবস’ান জানান দিচ্ছেন তারা। নানাভাবে হাইকমান্ডের কাছে নিজেকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে উপস’াপনের চেষ্টা করছেন।
তৃণমূলের অভিমত, নানা কারণে এলাকায় সমালোচিত নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া কষ্টসাধ্য হবে। মনোনয়ন দৌড়ে থাকা কারো বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও দলীয় কোন্দল সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে। নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এমনকি বিএনপি নেতাদের নিয়ে নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করারও অভিযোগ আছে মনোনয়ন প্রত্যাশীর বিরুদ্ধে।
এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম বাবু, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত রফিকুল আনোয়ারের ছোটভাই ফখরুল আনোয়ার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুল হক, সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, সাবেক এমপি প্রয়াত রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা এসএম আবু তৈয়ব এবং ফটিকছড়ি চেয়ারম্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগ নেতা মো. জানে আলম।
তৃণমূল নেতাকর্মীর অভিযোগ, মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি অংশ মাঠে প্রকাশ্যে জোটের বর্তমান সংসদ সদস্য তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারির বিরোধিতা না করলেও আরেকটি অংশ বিরোধিতায় তৎপর। জানতে চাইলে মনোনয়ন প্রত্যাশী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এটিএম পেয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি এলাকায় থাকেন না। ফটিকছড়ির জনগণ তাকে আর গ্রহণ করছে না। তার পক্ষে শূন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশ জনসমর্থনও নেই।’
এক প্রশ্নের উত্তরে পেয়ারুল বলেন, ‘আমি মনোনয়ন প্রত্যাশী। দীর্ঘদিন ধরে গণমানুষের সাথে নিজেকে সম্পৃত্ত রেখে চলছি। আমার প্রচেষ্টায় ফটিকছড়িতে সাতটি ব্রিজ, দুটি রাবার ড্যাম, নাজিরহাট ও বিবিরহাট পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস, মাইজভান্ডার দরবার শরীফ সড়ক এবং অসংখ্য কালভার্ট নির্মাণ হয়েছে। এছাড়া আমার প্রচেষ্টায় ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পেলাগাজীর দিঘি-হারুয়ালছড়ি-হোঁয়াকো সড়ক নির্মাণ শুরু হচ্ছে।’
এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে ফখরুল আনোয়ার বলেন, ‘দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) মনোনয়ন দেয়ায় নজিবুল বশর মাইজভান্ডারির পক্ষে কাজ করেছি। তাকে জিতিয়েছি। এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে তাকে জেতানো কষ্ট হবে।’
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম বাবু বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে আমি মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে নেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে কাজ করব। আরেক প্রশ্নের জবাবে বাবু বলেন, ‘বড়দল হিসেবে নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে যখন বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও নৌকা প্রতীকের কথা আসবে তখন আমাদের ঐক্যবন্ধ হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।’
ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সদস্য জানান, আগামী নির্বাচনেও নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারিকে মনোনয়ন দেওয়া হলে প্রকাশ্যে না করলেও আওয়ামী লীগের একাংশের নেতারা গোপনে তার বিরোধিতা করবেন। এক্ষেত্রে যদি বিএনপি নির্বাচনে আসে তাহলে তারা লাভবান হবে।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, তরিকত ফেডারেশন ১৪ দলীয় জোটে থাকুক বা না-ই থাকুক নজিবুল বশর মাইজভান্ডারির মনোনয়ন অনেকটা চূড়ান্তই বলা যায়। ফটিকছড়িতে গৃহবিবাদ থাকায় আগামী নির্বাচনেও নেত্রীর ভরসা তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি। কারণ শুধু ফটিকছড়ি নয়, সারাদেশে মাইজভান্ডারি দর্শনের বিপুল অনুসারী আছে। এ আসনটি নজিবুল বশরকে ছাড় না দেয়ার কোনো পরিকল্পনা সরকারের থাকলে তা হবে আত্মঘাতী।
এদিকে ফটিকছড়িতে সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা নানা সমীকরণ মেলানো শুরু করলেও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ খুব একটা দেখা যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করে স’ানীয় একাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তি সুপ্রভাতের সাথে কথা বলেছেন। ফটিকছড়ি ডিগ্রি কলেজের এক প্রভাষক বলেন, আগামী নির্বাচন হবে দলীয় সরকারের অধীনেই। বিএনপি এটি মানছে না। এ পরিসি’তিতে দেশ এখন রাজনৈতিক সংকটে ভুগছে। সরকারের উচিত দেশ ও জনগণের স্বার্থে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা। তবেই সার্থক হবে নির্বাচন।
বিবিরহাট এলাকার বাসিন্দা সাবেক এক ব্যাংকার বলেন, জাতীয় নির্বাচন ক্ষমতার পালা বদল ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন’ সিংহাসন হারানোর ভয়ে একদল কাতর, অপর দল হারানো সাম্রাজ্য উদ্ধারে মরিয়া। এ পরিসি’তিতে নির্বাচন ঘিরে সাধারণ মানুষের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যাবে।’