নিরক্ষরতা থেকে বেরিয়ে আসছে বান্দরবানের মুরংরা

হাসান মাহমুদ, আলীকদম
Bandarban-Mro-news-pc-2

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে রয়েছে ছোট বড় ১৩টি জাতিগোষ্ঠীর সহাবস’ান। জাতিগত বৈচিত্রের এ জেলাটি দেশের একমাত্র মুরং অধ্যুষিত জনপদ।
অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্ভার এখানকার ভৌগলিক পরিবেশকে করেছে সমৃদ্ধ। জাতিগত ও প্রাকৃতিক বৈচিত্রের এই সম্মিলন দেশের অন্য কোথাও যেন কল্পনারও অতীত।
একসময় এ জনপদের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ছিল মুরংরা। শিক্ষার আলো কখনো ছুঁয়েও দেখেনি পাহাড়ি এ জনপদের আনাচে কানাচে বাস করা মুরং জনগোষ্ঠীকে। অথচ আজকের দিনে প্রায় শতভাগ মুরং শিশুই শিক্ষিত মানুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দ্বারপ্রান্তে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, বান্দরবান জেলার লামা, আলীকদম ও থানচি উপজেলায় মুরংদের বসবাস। ২০১১ সালের পরিসংখ্যান মতে, এসব উপজেলায় সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার মুরং রয়েছে। যা জেলার মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৩ শতাংশ। বর্তমানে ৩টি উপজেলায় মুরং জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় লাখের ওপরে।
বিগত শতকের আটের দশকেও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিল এ জনগোষ্ঠীর লোকজন। প্রায় শতভাগ পরিবারই ছিল জুমচাষ নির্ভর। যোগাযোগ ব্যবস’া ছিল না বললেই চলে। এছাড়াও দুর্গম পাহাড়ি এসব অঞ্চলে স্কুল বলতে তো কিছুই ছিলই না।
তবে আটের দশকে বান্দরবান জেলার মুরংদের জন্য একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল ‘শোয়ালগ মুরং আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়’। প্রতিষ্ঠার করার পর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ‘ইনটিগ্রেটেড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (আইসিডিপি)’ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে স্কুলটি।
থানচি উপজেলায় ‘আশার আলো’ নামে একটি আবাসিক হোস্টেল রয়েছে। এতে বর্তমানে ৫০জন ছাত্র-ছাত্রী আবাসিক সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। ‘আশার আলোর’ মাধ্যমিক স্তরের আরো একটি শাখা রয়েছে বান্দরবান সদরের বালাঘাটা এলাকায়। এখানেও আবাসিক সুবিধা নিচ্ছে মাধ্যমিক স্তরের ৩০জন ছাত্র-ছাত্রী।
এছাড়াও আলীকদম উপজেলায় রয়েছে ‘আলীকদম মুরং কল্যাণ ছাত্রাবাস’। এখানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ১১০জন ছাত্র-ছাত্রী আবাসিক সুবিধাসহ বিভিন্ন স্কুলে অধ্যয়নরত।
এ বিষয়ে থানচি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান খামলাই ম্রো সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, ‘চলমান দশকে মুরং ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনায় অনেকটা এগিয়ে এলেও থানচি উপজেলার বড় মদক, ইয়াংবম, মালুমদিয়া, লিক্রি, পানঝিরি ও তিন্দু ইউনিয়নের কিছু কিছু এলাকায় মুরং ছেলে-মেয়েরা যোগাযোগ ব্যবস’ার কারণে এখনো পিছিয়ে। এছাড়াও পার্বত্য এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির কারণেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর কিছু ব্যক্তি মুরং ছেলে-মেয়েদের শিক্ষিত করার আশ্বাসে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।’
তিনি আশা করেন, ‘এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেওয়া হলে মুরং ছেলে-মেয়েরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।’
এ বিষয়ে আলীকদম সেনা জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান (পিএসসি) বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে ও প্রধানমন্ত্রীর গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এরই প্রেক্ষিতে পিছিয়ে পড়া মুরং জনগোষ্ঠীকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষা ব্যবস’াকে আরো সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন। তাই মুরংদের পাশে থেকে তাদেরকে শিক্ষা দীক্ষায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সচেষ্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।’