রিয়েল এস্টেট আইনে নিবন্ধন ফি ১০ হাজার, সিডিএ’র দাবি একলাখ

নিবন্ধন ফি জটিলতায় আবাসন কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন

ভূঁইয়া নজরম্নল

নিবন্ধন ফি জটিলতায় সাত বছর ধরে আটকে আছে রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন। ২০১২ সালে নিবন্ধন দেয়ার জন্য আবেদন নিলেও এখন পর্যনত্ম তা দিতে পারেনি নিয়ন্ত্রণকারী সংস’া চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপড়্গ (সিডিএ)। অথচ রিয়েল এস্টেট আইনে সিডিএ’র কাছ থেকে অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রকল্প গ্রাহকদের কাছে বিক্রি বা প্রদর্শন করতে পারবে না ডেভেলপার কোম্পানিগুলো। যদি কেউ অনুমোদন ছাড়া তা করে থাকে তাহলে সেই ডেভেলপারের বিরম্নদ্ধে আইনগত ব্যবস’া নেয়ার এখতিয়ারও সিডিএ’র রয়েছে।
রিয়েল এস্টেট আইন-২০১০ অনুযায়ী ফ্ল্যাট ও পস্নট বিক্রি কার্যক্রমে জড়িত সব কোম্পানিকে সরকারি উন্নয়ন কর্তৃপড়্গ (চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপড়্গ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপড়্গ, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপড়্গ, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপড়্গ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপড়্গ প্রভৃতি) থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। আর যেসব কোম্পানি রিয়েল এস্টেট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এর সদস্য শুধুমাত্র তারাই উন্নয়ন কর্তৃপড়্গ থেকে এই নিবন্ধন পাবে। রিহ্যাব সদস্য ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন পাবে না। এই উদ্দেশ্য থেকেই ২০১২ সালে রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো থেকে আবেদন গ্রহণ করেছিলেন সিডিএ’র তৎকালীন অথরাইজড অফিসার মোহাম্মদ সেলিম। এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রিয়েল এস্টেট আইনের বাসত্মবায়ন এবং কোম্পানিগুলোকে মনিটরিং করতে নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন’ এখনো পর্যনত্ম তা শেষ করা যায়নি।’
কেন এখনো পর্যনত্ম নিবন্ধন দেয়া যায়নি জানতে চাইলে সিডিএ’র প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ স’পতি শাহীনুল ইসলাম খান বলেন, ‘নিবন্ধন ফি নিয়ে ডেভেলপার কোম্পানিগুলোর সাথে বিরোধ দেখা দেয়ায় তা বিলম্বিত হয়েছে। আমরা (সিডিএ) চেয়েছিলাম নিবন্ধন ফি একলাখ টাকা করতে কিন’ রিহ্যাব বলছে দশ হাজার টাকা।’
এবিষয়ে রিহ্যাব চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান ও রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল কৈয়ূম বলেন, ‘রিয়েল এস্টেট আইন অনুযায়ী নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকার কথা বলা হয়েছে। আমরা আইন অনুযায়ী ফি দিয়ে নিবন্ধনের জন্য সাত বছর আগে জমা দিয়েছি। পরবর্তীতে সিডিএ ঁ
নিবন্ধন ফি একলাখ চাইলে আমরা তা দিতে রাজি হয়নি।’
তবে এই বিলম্বের কারণের পেছনে সিডিএ’র কর্মকর্তাদের ধীরগতিও অন্যতম। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিডিএ’র একাধিক কর্মকর্তা জানান, কেউ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে না। যদি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতো তাহলে গত সাত বছর ধরে এটা ঝুলে থাকতো না।
সিডিএ’র পড়্গে বর্তমানে তা মনিটরিং করছেন অথরাইজড অফিসার মোহাম্মদ শামীম। নিবন্ধন দিতে বিলম্বের কারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের চাহিদামতো মাত্র নগরীর ছয় থেকে সাতটি ডেভেলপার নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করে। কিন’ রিহ্যাব বলছে প্রায় ৫০টির বেশি ডেভেলপারকে নিবন্ধন দিতে। এটা নিয়ে সমঝোতা না হওয়াও বিলম্বের কারণ।’
কিন’ এখানে সমঝোতার প্রশ্ন কেন আসবে? রিয়েল এস্টেট আইনে সিডিএকে নিবন্ধনের ড়্গমতা দেয়া হয়েছে, আইন অনুযায়ী যে পাবে সিডিএ তাকেই নিবন্ধন দেবে। এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,‘ আমরা শিগগিরই এবিষয়ে একটি চূড়ানত্ম সিদ্ধানেত্ম এসে নিবন্ধন দেয়ার কাজ শুরম্ন করবো।’
নগরীর অন্যতম ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ইকুইটি প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস’াপনা পরিচালক ডা. আইনুল হক বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশে সরকার থেকে ডেভেলপার কোম্পানিগুলোকে গ্রেডেশন (এ, বি, সি প্রভৃতি) করে দেয়। গ্রাহকরা সেই গ্রেডেশন দেখে পছন্দসই ডেভেলপারের কাছে যাবে। এচিত্র শুধু ডেভেলপার নয় সবড়্গেত্রেই রয়েছে। কিন’ আমরা এখনো নিবন্ধন কার্যক্রমও শেষ করতে পারিনি।’
এবিষয়ে জানতে চাইলে নগরীর অন্যতম সেরা ডেভেলপার সিপিডিএল প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস’াপনা পরিচালক প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিডিএ যতো দ্রম্নত সম্ভব নিবন্ধন দেবে ততোই আবাসন খাতের জন্য ভাল। আমরা আশা করবো সিডিএ তা দ্রম্নত বাসত্মবায়ন করবে।’
কবে নাগাদ এই নিবন্ধন দেয়া হতে পারে জানতে চাইলে সিডিএ’র প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ স’পতি শাহীনুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী যেসব প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্যতা রাখে তাদেরকে আমরা শিগগিরই নিবন্ধন দেয়ার উদ্যোগ নেব।’
উলেস্নখ্য, রিহ্যাব চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারে বর্তমান ৯৩ জন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান রিহ্যাবের সদস্য হিসেবে রয়েছে। কিন’ মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে খুব কম প্রতিষ্ঠান।