নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হলো

কথা রাখছেন না ব্যবসায়ীরা, কেজিতে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ টাকা পর্যনত্ম বেড়েছে

মুহাম্মদ সাইফুলস্নাহ

রমজান সামনে রেখে দুই মাস আগে থেকে ব্যবসায়ীরা জোর গলায় বলে আসছিলেন এ রমজানে সবধরনের ভোগ্যপণ্য ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কোন আশঙ্কা নেই। কারণ হিসেবে তারা বলতেন, বিশ্ববাজারে এবছর সবধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম কম, দেশের বাজারে স্বাভাবিকের চেয়ে আমদানি বেশি। তাই দাম বাড়ার কোন কারণ নেই। দাম না বাড়ার কারণ দুটো যথাযথভাবে দৃশ্যমান থাকলেও এতে সাধারণ মানুষের কোন সুফল মেলেনি। কারণ রমজান মাসের অতি প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য হিসেবে পরিচিত ছোলা, খেসারি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, খেজুর, মসুর ডাল, মুগডাল, ভোজ্য তেলসহ সব ভোগ্যপণ্যই কিছু না কিছু বেড়েছে। এর পেছনে ব্যবসায়ীরা তাদের বারোমাসি অজুহাত চাহিদা-যোগানের জটিল তত্ত্বের কথা বাদ দিয়ে এখন নতুন অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন পরিবহন খরচকেই। ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব ও সাধারণ ভোক্তাদের ধারণা, ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিশ্রম্নতি রাখছেন না।
মো. রেজাউল করিম নামের একজন কলেজ শিড়্গক সুপ্রভাতকে বলেন, রমজান শুরম্ন হতে না হতেই পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে ব্যবসায়ীরা সবধরনের ভোগ্যপণ্য ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমার ধারণা, এটা নিছক একটা অজুহাত ছাড়া আর কিছু না। অনত্মত চট্টগ্রামের অভ্যনত্মরীণ বাজারে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দেওয়া অযৌক্তিক। কারণ খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজার পর্যনত্ম ভোগ্যপণ্য আসতে আর কতই বা খরচ বাড়তে পারে!
গতকাল বহদ্দারহাট, চকবাজারসহ একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমান বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫-২৬ টাকা, রসুন ১৩০-১৪০ টাকা, আদা ৮৫-৯০ টাকা, অস্ট্রেলিয়ান সাদা ছোলা ৭০ টাকা, মিয়ানমারের হলদে ছোলা ৭৫ টাকা, চনার ডাল ৪০ টাকা,

মসুর ডাল (চিকন) ১০০ টাকা, মসুর ডাল (মোটা) ৭০ টাকা, খেসারি ৭০ টাকা, চিনি ৬২ টাকা, কোম্পানি ভেদে প্যাকেট ও বোতল জাত ভোজ্য তেল লিটার প্রতি ১০২-১০৮ টাকা, খোলা ভোজ্য তেল ৭৫-৮৫ টাকা এবং পাম অয়েল প্রতি লিটার ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অথচ দুই সপ্তাহ আগে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২২-২৬ টাকা, রসুন ৭০ টাকা, আদা ৫৫-৬৫ টাকা, অস্ট্রেলিয়ান সাদা ছোলা ৬৫ টাকা, মিয়ানমারের হলদে ছোলা ৭০ টাকা, চনার ডাল ৩৫ টাকা, মসুর ডাল (চিকন) ৯৫ টাকা, মসুর ডাল (মোটা) ৬৫ টাকা, খেসারি ৬৮ টাকা, চিনি ৬০ টাকা, কোম্পানি ভেদে প্যাকেট ও বোতল জাত ভোজ্য তেল লিটার প্রতি ১০০-১০৫ টাকা, খোলা ভোজ্যতেল ৭০-৮০ টাকা এবং পাম অয়েল প্রতি লিটার ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বহদ্দারহাট বাজারের মুদি দোকানদার আব্দুস সালাম সওদাগরকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রায় সবধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম বসত্মাপ্রতি ৫০-৬০ টাকা বেড়ে গেছে বলে জানান।
খাতুনগঞ্জভিত্তিক চিনি ও ভোজ্য তেলের ডিলার মো. কামাল, পেঁয়াজ-রসুনের কমিশন এজেন্ট রাজেশ্বর দাশ রাজু এবং চট্টগ্রাম ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দীন মহিমের সাথে কথা বললে তারা সবাই একযোগে পরিবহনজনিত খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা বলেন। তাদের ভাষায়, বাজারে কোন ধরনের ভোগ্যপণ্যের সরবরাহে ঘাটতি নেই কথাটি ঠিক। কিন’ অভ্যনত্মরীণ পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে দাম সামান্য বেড়েছে। তবে দাম আরও বাড়তে পারে যদি প্রশাসন ক্রমবর্ধমান পরিবহন খরচ কমাতে কার্যকর পদড়্গেপ গ্রহণ না করে।
প্রায় একই কথা বললেন চাক্তাই চালপট্টির আড়তদার এম সরোয়ার চৌধুরী। তিনি বলেন, রমজান সামনে রেখে চালের দাম বাড়ার মত কোন কারণ না ঘটলেও অতি মাত্রায় যানজট ও মহাসড়কে ‘এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ’ আইনের প্রয়োগের কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রায় সবধরনের চালের দাম বসত্মাপ্রতি ৫০-৬০ টাকা বেড়ে গেছে।
নগরীর খুচরা বাজার সমূহে ঘুরে তার কথার প্রতিধ্বনি পাওয়া গেল। প্রতিকেজি স্বর্ণা (সিদ্ধ) চাল ৫৬ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৭ টাকা, মিনিকেট-১ (আতপ) ৫৮ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, জিরাশাইল (নতুন) ৫৪ থেকে বেড়ে ৫৫ টাকা, বেতি-১ (আতপ) ৫২ থেকে বেড়ে ৫৪ টাকা, পাইজাম (মোটা) ৪৮ থেকে বেড়ে ৫০ টাকা, দিনাজপুরি পাইজাম ৫০ থেকে বেড়ে ৫২ টাকা, কাটারিভোগ ৬০ থেকে বেড়ে ৬২ টাকা, সিদ্ধ জিরাশাইল (চিকন) ৫৫ থেকে বেড়ে ৫৬ টাকা এবং সিদ্ধ মিনিকেট ৫৪ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ‘ক্যাব’ এর চট্টগ্রাম জোনের এর পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন এ ব্যাপারে সুপ্রভাতকে বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা রমজানের আগে প্রশাসনকে যে প্রতিশ্রম্নতি দিয়েছিলেন তারা তা রাখছেন না। প্রশাসন তো আর সারাদিন তাদের পাহারা দিয়ে রাখতে পারবে না। কোন জিনিসে কতটুকু লাভ করা উচিত এ ব্যাপারে তাদের ন্যূনতম নীতি-নৈতিকতা থাকতে হবে। আমাদের পর্যবেড়্গণে এমনও আছে ঢাকা থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে কাপড় কিনে এনে ব্যবসায়ীরা এখানে (চট্টগ্রাম) ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন! এ ব্যাপারে ভোক্তা সাধারণের মধ্যেও সচেতনতা জরম্নরি। বাজার থেকে কোন পণ্য শেষ হয়ে যাবে- এ আতঙ্কে বেশি জিনিস একসাথে কেনার অভ্যাস পরিহার করতে হবে।’