নিজ বাসায় ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ

আর্থিক লেনদেন নাকি পারিবারিক বিরোধ খতিয়ে দেখছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
1

নগরে সজল নন্দী (৪৮) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বেলা ১১টার দিকে সল্টগোলা ধোপপুল এলাকার নিজ বাসা থেকে সজল নন্দীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে বন্দর থানা পুলিশ। নিহত সজল রূপালি ব্যাংকের সল্টগোলা শাখায় ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত সজল নন্দী বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকার সাধন নন্দীর ছেলে।
বন্দর থানার ওসি ময়নুল ইসলামের ভাষ্য, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। এ ঘটনায় তার ভাই স্বপন নন্দী বাদি হয়ে থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে। ঘটনার তদন্ত চলছে। এর আগে রোববার বেলা ১১টার দিকে স’ানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে নিজ বাসা থেকে সজলের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় সজল ক্যাজুয়াল পোশাক ও পায়ে জুতা এবং মোজা পরিহিত ছিলেন।
ওসি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার হাজি বাড়ির ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন সজল। তবে ঘটনার সময় তার স্ত্রী বাসায় ছিলেন না। তার স্ত্রী রুমা দে’কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়ে ওসি ময়নুল বলেন, ‘ঘটনার সময় কারা ঘরে প্রবেশ করে এবং কী কারণে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। সিএমপির বন্দর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার কামরুল হাসান জানান, কর্মস’লে আর্থিক লেনদেন ও পারিবারিক বিরোধ এ দুটি বিষয়কে সামনে রেখে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। তবে নিহত সজল খুব নিরীহ ছিলেন।
পুলিশ জানায়, নিহত সজলের স্ত্রী রুমা দে চাকুরেজীবী। ঘটনার সময় তিনি কর্মস’লের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর কে বা কারা ঘরে ঢুকে সজলকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। তবে সকাল ৯টার দিকে ওই বাসায় হইচইয়ের শব্দ পেয়ে প্রতিবেশীরা বাসায় গেলে বাসার দরজা খোলা অবস’ায় সজলের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। পরে পুলিশ ও তার স্ত্রীকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে। এসময় তার স্ত্রীও চাকরি থেকে বাসায় আসেন। সজলের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়ে বন্দর থানার এসআই আবু হানিফ বলেন, কী কারণে, কেন এ ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।