নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় সরকার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে

এম. বশিরুল আলম, লামা

সারাদেশের মত পার্বত্য বান্দরবানেও নারী উন্নয়নে ২০১৫-২০১৬ চক্রের ভিজিডি কর্মসূচির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ফর সোস্যাল এডভান্সমেন্ট (বাসা), প্রগতির অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তিতে রূপ নিচ্ছে এ জনপদের নারীসমাজ। বান্দরবান জেলা প্রশাসক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও ভিজিডি কর্মসূচির সাথে চুক্তিবদ্ধ এনজিওগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ওয়ার্ড পর্যায়ে ওয়ার্কশপ-এর মাধ্যমে আর্থ-সামাজিকভাবে নারীর উন্নয়নে এ সফল কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
বান্দরবান জেলায় ২০১৫-২০১৬ চক্রে মোট ১২১৩৯ জন দরিদ্র নারীকে (ভিজিডি উপকারভোগী পরিবার) বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রুপান্তর করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সামাজিক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস’াপনা, এইচআইভি/এইড্স প্রতিরোধ, স্বাস’্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মা ও শিশু স্বাস’্য, খাদ্য ও পুষ্টি এবং নারীর ক্ষমতায়ন।
আয়বর্ধক দক্ষতাবিষয়ক প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে হাঁস-মুরগি পালন, গাভী ও ছাগল পালন, সবজিচাষ, ক্ষুদ্রব্যবসা ব্যবস’াপনা এবং এলাকা উপযোগী অন্যান্য বিষয়। ক্ষুদ্র ব্যস’াপনা বাধ্যতামূলক। এছাড়া সঞ্চয় ব্যবস’াপনায় রয়েছে, সকল ভিজিডি মহিলাদের সঞ্চয় মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাপ্তাহিক ন্যূনতম ১০ টাকা মাসিক ৪০ টাকা কিংবা তার উর্ধ্বহারে সঞ্চয় আদায় করা। আদায়কৃত সঞ্চয়ের টাকা ভিজিডি সঞ্চয় হিসাবে যৌথভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এবং এনজিও প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের এ সফল প্রয়াসের ফলে ভিজিডিচক্রের আওতায় বান্দরবান জেলায় এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত অসংখ্য নারী স্বাবলম্বী হতে চলেছে। এ ব্যপারে আলাপকালে বান্দরবান জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুস্মিতা খীসা জানান, ইতোমধ্যে অনেক অবহেলিত নারী খাদ্য নিরাপত্তা ও বাসা এনজিওসহ অন্যান্য এনজিও সংস’া কর্তৃক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সামাজিক মর্যাদা অর্জনে সক্ষম হচ্ছে। আর্থিক সচ্ছলতার ফলে পারিবারিক কলহ হ্রাস পাচ্ছে, সে সাথে প্রতিটি পরিবারের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে সন্তানদের পড়ালোখা করার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
১২ মে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে এক সাক্ষাতকারে তিনি এই প্রতিনিধিকে জানান, সরকার পল্লি অঞ্চলের দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে তাঁদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে দরিদ্র মা’র জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কার্যক্রমটি চলমান রয়েছে। এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র মা ও শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস, মাতৃদু পানের হারবৃদ্ধি, গর্ভাবস’ায় উন্নত পুষ্টি উপাদান গ্রহণ বৃদ্ধি। এ কার্যক্রমের আওতায় দরিদ্র গর্ভবতী মহিলাদের ভাতা প্রদানের পাশাপাশি স্বাস’্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে। মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক মাঠ পর্যায়ে সারা দেশে ৩২৮টি এনজিও/সিবিও-এর মাধ্যমে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে। নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধে যে সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে তাদের সমন্বয়ে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নেতৃত্বে এলায়েন্স টু কমবেট ট্রাফিকিং ইন উম্যান এন্ড চিলড্রেন (এসিটিডব্লিউসি) নামে একটি জোট গঠন করা হয়েছে।
কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানিরোধে বিজ্ঞ আদালতের হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত রিট পিটিশনের আলোকে অত্র অধিদপ্তরে একটি কমপ্লেন্ট কমিটি গঠন করা করেছে। গঠিত কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক কর্মসে’লে যৌন হয়রানিরোধে গাইডলাইন সকলকে অবহিত করার জন্য মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস’াপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুর্যোগ ব্যবস’াপনা ও ত্রাণ বিভাগের প্রকল্পের সহায়তায় বিভিন্ন দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের প্রক্রিয়া হিসাবে বিভাগওয়ারী ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং একটি কন্টিজেন্সি ওর্য়াক প্লান তৈরি করা হয়েছে। যার ফলে এসংক্রান্ত বিষয়ে অনেক সুফল ইতিমধ্যে আমরা পেতে যাচ্ছি।
তিনি জানান, যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নিয়মিত মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়সমূহে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এছাড়াও যৌতুক প্রতিরোধে জেলা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে যে সকল কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে তার তথ্য সংগ্রহপূর্বক সন্নিবেশিত আকারে প্রতিবেদন প্রতিমাসে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়।
নারী ও শিশু পাচার-প্রতিরোধে জেলা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে যে সকল কর্মসূচি গৃহীত হয়, তার তথ্য সংগ্রহপূর্বক সন্নিবেশিত আকারে প্রতিবেদন প্রতি মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হচ্ছে।
লামা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত বান্দরবান জেলা) সুস্মিতা খীসা ব্যক্তিজীবনের কথা তুলে ধরে বলেন, একজন নারী একজন মানুষ। আর একজন মানুষের ওপর সামাজিক যেসব দায়িত্ব রয়েছে, তার পুরাটা পালন করা সম্ভব, যদি ইচ্ছে থাকে। তিনি বলেন, নারীর নিরাপদ অবয়ব সৃষ্টি করতে বর্তমান সরকার সফল হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকবে, এমনটি আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমান নারীরা সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস’ার উন্নয়নে সক্রিয় অবদান রেখে চলেছেন। এর ফলে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে একটি প্রগতি ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন