নানা আয়োজনে দেশগ্রামে বর্ষবরণ

দেশগ্রাম ডেস্ক

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশগ্রামে বরণ করা হয়েছে বাংলা নববর্ষকে।গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য বলী খেলা,মেলা ,সাঁড়েরর লড়াই ছাড়াও ছিল বর্ষবরণের বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা।আলোচনায় বক্তারা বাংলা নতুন বছরকে বরণ করার সাথে সাথে একটি সুখি ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ফটিকছড়ি: আমাদের ফটিকছড়ি প্রতিনিধি জানায়,ফটিকছড়ির হেয়াকোঁ বাংলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্ষবরণ সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বিদ্যালয়ের শিক্ষক রুপন ভট্রাচার্যের সঞ্চালনায় শনিবার সকাল ৯টায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাংবাদিক মো. আবু মনসুরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২নম্বর দাঁতমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. জানে আলম।বিশেষ অতিথি ছিলেন ২নম্বর দাতঁমারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ওবায়দুল হক,ইউপি সদস্য মো. নুরনবী,বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম, মো.মোস্তফা,নুরুল ইসলাম বাবুল,মো. জাহাঙ্গীর আলম,নাজিম উদ্দিন, বেলাল হোসেন সদ্দার,ডা. নুরনবী, নুরুল আমিন পিন্টু,নুর মোহাম্মদ লিটন প্রমুখ। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বর্ষবরণ র‌্যালি শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন শিক্ষা সবার স্কুলে পাঠদান শেষে সন্তানরা যাতে সব বিষয়ে ভালভাবে শিখতে পারে সে দিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন সব অভিভাবকের।
পটিয়া: আমাদের পটিয়া প্রতিনিধি জানায়, পটিয়া সম্মিলিত বর্ষ বরণ ও বর্ষ বিদায় উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত প্রথমবারের বলি খেলায় মানুষের ঢল নামে। গত শুক্রবার বিকেলে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়েছে। শনিবার বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুইদিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানমালা শেষ হয়। বর্ষবিদায়ের প্রথম আকর্ষণ ছিল বলি খেলা। এ বলি খেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন পটিয়ার এমপি সামশুল হক চৌধুরী। বলি খেলার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা। উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নুর আলম ছিদ্দিকীর সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আ’লীগ সভাপতি আ.ক.ম. শামসুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক সভাপতি শামসুদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান দেবব্রত দাশ, পটিয়া উপজেলা আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, দক্ষিণ জেলা যুবলীগ সভাপতি আ.ম.ম. টিপু সুলতান চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) এমরান ভুইয়া, পটিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ, উপজেলা আ’লীগ নেতা আবদুল খালেক চেয়ারম্যান, মুহাম্মদ ছৈয়দ চেয়ারম্যান, আশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এম এ হাসেম, উপজেলা আ’লীগ নেতা আলমগীর খালেদ, জেলা যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন পারভেজ, বর্ষ বরণ উদযাপন পরিষদের অর্থ সচিব প্রণব দাশ। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক (ক্ষ্যাপা পাগলার প্যাঁচাল), পাপেট থিয়েটার (নাটক-আশ্রয়),নীতিনাট্য (সাম্পানওয়ালা) অনুষ্ঠিত হয়। দুইদিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে ২২টি সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করেন। বলি খেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মনা বলি এবং রানার আপ হয়েছে জাহেদ। বলি খেলা শেষে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এমপি সামশুল হক চৌধুরী ও জেলা পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা ট্রফি ও প্রাইজমানি তুলে দেন। উল্লেখ্য, বর্ষবিদায় উপলক্ষে ৩০টি সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনায় সাহিত্য, সাংস্কৃতিক, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বাঙালি ও লোক সংস্কৃতির প্রাণ ঐতিহ্যবাহী ‘বলিখেলা’, নাটক, পাপেট থিয়েটার, গীতিনাট্য ও বর্ষবরণ মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে শনিবার শুরু হয়। ওইদিন দলীয় গান, নৃত্য পরিবেশনা, সম্মাননা প্রদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলা পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় । চন্দনাইশ:আমাদের চন্দনাইশ প্রতিনিধি জানায়, চন্দনাইশে নানা আয়োজন আর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে গত শনিবার বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ পালিত হয়। নতুন বছরকে বরণ করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে শেষ হয়। পরে উপজেলা মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহনাজ বেগম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডার জাফর আলী হিরু, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু কাউসার, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান আল মামুন, মাস্টার আহসান ফারুক প্রমুখ।বক্তারা বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালীদের একটি সার্বজনিন লোকজ উৎসব। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যে ইউনেস্কো এ উৎসবকে “মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য” হিসেবে ঘোষণা করে। পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতির মহামিলন মেলা। হিন্দু মুসলিম জাতিধর্ম নির্বিশেষে এই উৎসবে শামিল হয় শিশু-কিশোরসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। এ ঐতিহ্য আমাদের ধরে রাখতে হবে।
আনোয়ারা: আমাদের আনোয়ারা প্রতিনিধি জানায়,উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নে গত শুক্রবার সকাল থেকে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বরুমচড়া শহীদ বশরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে বিদায়, বর্ষবরণ, জেএসসি কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকালের অধিবেশনে পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক আবুল মনসুর মোহাম্মদ হাবীবের সভাপতিত্‌্েব ও সমন্বয়ক মাউসুফ উদ্দিন মাসুমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বশরুজ্জামান ছাত্র পরিষদের আহবায়ক তৌহিদুল হক চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আমিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা এস.এম নুরুল আমিন, আনোয়ারা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম.এ আনোয়ারুল হক, এম.এ হারুন, মোহাম্মদ আলী, আজাদ সিকদার, আশরাফ উদ্দীন চৌধুরী, রশিদ মিয়া, মো. মোনায়েম খান, নজরুল ইসলাম। বিকালের অধিবেশনে ছাত্র পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক আজিজুল হক নসুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গৌতম বাড়ৈ। প্রধান বক্তা ছিলেন বোরহান উদ্দিন মুরাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন আমানত উল্লাহ্‌ সিকদার, রিয়াজ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, এ.কে.এম নুরুল ইসলাম, মরিয়ম বেগম মিনা, প্রিতোষ ঘোষ, নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
মানিকছড়ি: আমাদের মানিকছড়ি প্রতিনিধি জানায়, উপজেলায় ১৩ এপ্রিল বিকালে পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে মারমা উন্নয়ন সংসদ। উপজেলার গচ্ছাবিল চৌধুরী পাড়া, মযূরখীল ধর্মঘর,তিনটহরী চৌধুরী পাড়া,বড়বিল, রাজপাড়া, মহামুনি পাড়া ,বাটনাতলী থেকে দলে দলে মারমা শিশু-কিশোর,তরুণ-তরুণী শোভাযাত্রায় সমবেত হয়। ১ কিলোমিটার দীর্ঘ শোভাযাত্রায় হাজারো পাহাড়ি-বাঙালির উপস্থিতি ছিল।শোভাযাত্রাটি বেলা সাড়ে ৪টায় আমতলায় এসে মূল স্রোতধারায় মিলিত হয়। পরে সেটি উপজেলা পরিষদ ঘুরে মহামুনি বৌদ্ধ মেলাস্থল হেডম্যান কার্যালয় মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
উক্ত শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ম্রাগ্য মারমা, বিশেষ অতিথি ছিলেন,অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রশীদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন, ইউপি চেয়ারম্যান মো.শফিকুর রহমান ফারুক, মো. সামাউন ফরাজী সামু, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মংশেপ্রু মারমা,কংজপ্রু মারমা, উদ্রাচাই কার্বারিসহ হাজারো শিশু-কিশোর,তরুণ-তরুণী মারমাদের ঐতিহ্যবাহী নানা সাজে সজ্জিত হয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।