নভেম্বর থেকে জুন জাটকা ধরা নিষিদ্ধ : মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

সুপ্রভাত ডেস্ক

ইলিশ রড়্গায় আগামী নভেম্বর মাস থেকে জুন (২০২০) পর্যনত্ম টানা ছয় মাস ১০ ইঞ্চি সাইজের জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। প্রতিবছরই এই সময়ে জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করা হয়। ‘জাতীয় জাটকা সংরড়্গণ সপ্তাহ-২০১৯’ উদযাপন উপলড়্গে গতকাল মৎস্য ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরম্ন এসব কথা বলেন। খবর বাংলাট্রিবিউনের।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাড়াও পৃথিবীর আরও ১৩টি দেশে ইলিশ পাওয়া গেলেও আমাদের সংস্কৃতি ঁ
ও অর্থনীতিতে ইলিশের বিরাট অবদান রয়েছে। দেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান এক শতাংশ এবং দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের ১২ শতাংশ। তাই ইলিশ আমাদের আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস’ান ও দারিদ্র্য বিমোচনে অত্যনত্ম গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ইলিশ আহরণে উপকূলীয় মৎস্যজীবী প্রায় পাঁচ লাখ লোক সরাসরি এবং পরিবহন, বিক্রয়, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, রফতানিসহ বিভিন্ন কাজে পরোড়্গভাবে জড়িত রয়েছেন আরো ২৫ লাখ লোক।’
ইলিশকে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই পণ্য) উলেস্নখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরম্ন আরও বলেন, ‘ইলিশসম্পদ রড়্গা ও উন্নয়নে প্রতিবছর নভেম্বর থেকে জুন পর্যনত্ম জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করা হয়। এ সময় মৎস্য সংরড়্গণ আইনের আওতায় নদী, মাছঘাট, মৎস্যআড়ত ও বাজারে অভিযান চালানো হয়। তখন জেলেরা যাতে ড়্গুধায় কষ্ট না পান, সেজন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা প্রদান, জাটকা আহরণে বিরত অতিদরিদ্র জেলেদের বিকল্প কর্মসংস’ান সৃষ্টি, পদ্মা, মেঘনা, আন্ধার মানিক ও তেঁতুলিয়াসহ অন্যান্য উপকূলীয় নদীতে জাটকার বিচরণ ড়্গেত্রে ইলিশের অভয়াশ্রম তৈরি, মা-ইলিশ রড়্গায় প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ২০০৮-০৯ অর্থবছরে যেখানে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ দশমিক ৯৯ লাখ মেট্রিক টন, সেখানে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫ দশমিক ১৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। মা-ইলিশ রড়্গা পাওয়ায় নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারছে। এতে মেঘনা থেকে পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, সুরমায় ‘জাটকা’ বিসত্মৃতি লাভ করেছে। পদ্মা নদীর দুই পাড়ের ফরিদপুর, রাজবাড়ী, পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং যমুনা নদীর তীরবর্তী জেলা সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে।’ জাটকা ও মা-ইলিশ রড়্গায় চলমান কার্যক্রমগুলো বাসত্মবায়ন করা গেলে সারা বছর ইলিশের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উলেস্নখ্য, জাটকা রড়্গার ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৬ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যনত্ম ‘জাটকা সংরড়্গণ সপ্তাহ-২০১৯’ পালন করা হচ্ছে।