নবমী ও দশমীর সাজ

ইরা ডি. কস্তা
2

দেবী মাকে বিদায়ের সময় এগিয়ে আসে নবমী ও দশমীতে। তাই এই দুদিন নিজেকে সাজিয়ে নিতে পারেন জমকালো ভাবে। পূজার শেষ এই দুই দিনে নিজেকে মন ভরে সাজানোর টিপস জেনে নিন।

দেবী মাকে বিদায়ের সময় এগিয়ে আসে নবমী ও দশমীতে। তাই এই দুদিন নিজেকে সাজিয়ে নিতে পারেন জমকালো ভাবে। পূজার শেষ এই দুই দিনে নিজেকে মন ভরে সাজানোর পরামর্শ দেন রূপবিশেষজ্ঞ শিবানী দে।
নবমীর সাজ
মেইকআপের শুরুতে ক্লিনজিং মিল্ক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে সানস্ক্রিন লোশন লাগিয়ে নিতে হবে। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা মেইকআপ দীর্ঘস্থায়ী করতে শুরুতে খানিকটা প্রাইমার লাগিয়ে নেওয়া উচিত।
শিবানী বলেন, “নবমীর সাজ হবে অন্য রকম। দিনের বেলার সাজে ন্যাচারাল লুক ধরে রেখে নিজেকে সাজাতে হবে। দিনে মন্দিরে যাওয়া বা পূজার অঞ্জলি দেওয়ার স্নিগ্ধ সাজই বেশি মানানসই। যে কোন রংয়ের শাড়ি পরতে পারেন। দিনের উৎসবে বেইজ করার জন্য ত্বকের রংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার বা খুব হালকা করে ফাউন্ডেশন দেওয়া যেতে পারে। এর উপর পাউডার বুলিয়ে নিন।”
পোশাকের রংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে বা ভিন্ন রং দিয়ে চোখ সাজিয়ে নেওয়া যেতে পারে। দিনের বেলা স্মোকি আই লুক বেশ মানানসই। চোখের পাপড়িতে ঘন করে মাশকারা পরে নেওয়া যেতে পারে। ঠোঁটে হালকা রংয়ের লিপস্টিক সকালের সাজে ভালো লাগবে। গালে বুলিয়ে নিন হালকা বাদামি বা কোরাল রংয়ের ব্লাশন। কপালে বড় লাল টিপ পরলে ভালো মানাবে। বিবাহিতদের সিঁথিতে সিঁদুর পরলে সাজে পূর্ণতা আসবে। পছন্দ মতো পায়ে আলতা পরে নিতে পারেন।
শিবানি দে বলেন, “রূপা বা মেটাল প্লেট করা গয়না বেছে নেওয়া যেতে পারেন এদিনে। বাইরে বের হওয়ার আগে ভালো মানের সুগন্ধী ব্যবহার করে নিন। চুল সামনের দিকে সেট করে পিছনে খোঁপা করে রাখুন। কানের পেছনে গুঁজে দিন ফুল।”
নবমীতে হয় সান্ধ্যপূজা। তাই এ দিনে সবাই সন্ধ্যার পরই মন্দিরে যায়। আর সন্ধ্যার পর বলেই এদিন বেশ জমকালো সাজে মানাবে সবাইবে। ভারি গয়না, উজ্জ্বল রংয়ের পোশাক, ভারী মেইকআপ, চুলের সাজ, তাজা ফুল এদিনের সাজের অনুষঙ্গ।
শিবানী দে বলেন, “গায়ের রংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে ফাউন্ডেশন লাগিয়ে এর ওপর ফেইস পাউডার লাগিয়ে মেইকআপ সেট করে নিন। চোখের ওপর গাঢ় আইশ্যাডো বেশ ভালো লাগবে সান্ধ্যপূজায়। এর ওপর হাইলাইট করুণ সোনালি রং দিয়ে। চাইলে চোখের বাইরের কোণে কালো বা গাঢ় রং দিয়ে স্মোকি লুক আনতে পারেন। চোখে মোটা করে কাজলের রেখা টেনে, পাপড়িতে মাশকারা পরলেই চোখের সাজ শেষ।
সন্ধ্যার সাজে গালে গাঢ় ব্লাশন ভালো মানাবে। চোখে হালকা মেইকআপ করা হলে ঠোঁটের জন্য গাঢ় রংয়ের লিপস্টিক বেছে নিতে পারেন।
কপালে বড় লাল বা শাড়ির রংয়ের টিপ বেশ মানাবে। আঙুলে বড় আংটি, গলায় ও কানে পাথরের গয়না রাতের সাজকে আরও জমকালো করে তুলবে। সুগন্ধী ব্যবহারের বিষয় ভুলে গেলে চলবে না। শাড়ি বা কামিজ যে পোশাকই পরুন না কেন, চুলের বেছে নিতে হবে সুবিধা বুঝে।
দশমীর সাজ
দশমী অর্থাৎ দুর্গা মায়ের বিসর্জন। শারদীয় পূজার প্রধান আকর্ষণ দশমী। এদিনের সাজ মানে লাল পেড়ে সাদা শাড়ি, একদম লালরঙা শাড়ি বা সাদা জামদানি আর লাল ব্লাউজে হাতের কাজের নকশা।
সব বয়সী নারীরাই এ রংগুলো বেছে নিতে পারেন এদিনে। অনেকে আবার প্রতিমার মতো করে নিজেকে সাজতে পছন্দ করেন।
চোখের নিচে ঘন কাজল আর টানা লাইনার, লাল লিপস্টিক, স্নিগ্ধ মেইকআপ আর সিঁদুর। এদিন ঠাকুরকে সিঁদুর পরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিজেরাও মেতে উঠেন সিঁদুর খেলায়।
শিবানি দে বলেন, “একান্তই যদি শাড়ি না পরেন তা হলে সাদা আর লালের কম্বিনেশনের কোনো সালোয়ার কামিজও পরা যেতে পারে। সাদা কুতির্র সঙ্গে লাল পায়জামা আর লাল ওড়নাও বেশ ফ্যাশেনেবল লাগবে। সাদা শাড়ির সঙ্গে লাল নেটের ফুল হাতা ব্লাউজ খুব ভালো মানাবে। মাথায় একগুচ্ছ সাদা ফুলের মালা আর কপালে বড় লাল টিপে পরিপূর্ণ আপনার দশমীর সাজ।”