নবজাতকের দাম লাখ টাকা!

নগরীর প্রবর্তক মোড় এলাকার বদনা শাহ মাজারের সামনে থেকে চার দিনের নবজাতকটি গত ১৬ জানুয়ারি উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক আয়াসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
আটক আয়ার নাম মনোয়ারা বেগম। তিনি আউটসোর্সিং সিস্টেমে হাসপাতালের ইনডোরে আয়া পদে কাজ করতেন। আটকদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।
এছাড়াও উদ্ধার হওয়া নবজাতককে ওইদিন রাতেই চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতালের ৩২ নম্বর নিউনেটাল ওয়ার্ডে গত চার মাস ধরে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
পাঁচলাইশ মডেল থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম সুপ্রভাতকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ঘটনার দিন সকালে এক ব্যক্তি আমাকে নবজাতক বিক্রির সংবাদ দেয়। খবর শুনে তদন্ত শুরু করি। যারা নবজাতকটি বিক্রি করবে, তাদের নম্বর সংগ্রহ করে ফোনে কথা বলি। তারা নবজাতকের দাম চেয়েছিল এক লাখ টাকা। পরে তাদের ঠিকানা জেনে টাকা নিয়ে আমি সেখানে যায়। সেসময় তিন নারীকে হাতেনাতে আটক ও ওই নবজাতককে উদ্ধার করি।
এসআই নুরুল ইসলাম বলেন, আটকদের একজন হাসপাতালের আয়া। বাকিরা বাইরের। ধারণা করা হচ্ছে বাচ্চাটি হাসপাতাল থেকে চুরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে হাটহাজারীর এক বাসিন্দা নবজাতকটিকে নিজের সন্তান দাবি করেছে। ওই ব্যক্তির দাবি, ঘটনার দিন হাসপাতালের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে তার স্ত্রী জমজ সন্তানের জন্ম দেয়। কিন’ তাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছিল একটি বাচ্চা।
মামলার বর্তমান অবস’া জানতে চাইলে এসআই নুরুল ইসলাম বলেন, সন্তান দাবি করা ব্যক্তির ডিএনএ টেস্টের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এছাড়াও কয়েকজন দম্পতি বাচ্চাটি দত্তক নেয়ার আবেদন করেছেন। বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন। আমরা আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করবো।
হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার রাজীব কুমার দে বলেন, ঘটনা সম্পর্কে আমরা অবগত। আটক আয়া আউটসোর্সিং সিস্টেমে হাসপাতালের ইনডোরে কাজ করতো। ঘটনার পর তার চাকরি চলে যায়।
এক ব্যক্তির সন্তান দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে রাজীব কুমার দে বলেন, আমার জানামতে হাসপাতালের কোনো ওয়ার্ড থেকে বাচ্চা চুরি হয়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর বিস্তারিত উঠে আসবে।
এব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনালের মো. জালাল উদ্দিন সুপ্রভাতকে বলেন, উদ্ধার হওয়া এক বাচ্চাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আদালতে নির্দেশে আমরা তাকে চিকিৎসা দিচ্ছি। হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে ওই বাচ্চার যাবতীয় খরচ বহন করছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন দম্পতি বাচ্চাটি দত্তক নিতে চেয়েছে। আমরা তাদের আদালতে যেতে বলেছি। এছাড়াও এক ব্যক্তি বাচ্চাটির পিতৃত্ব দাবি করেছে বলে শুনেছি।