নতুন ‘মাটির ঘরে’ চিরঘুমে আইয়ুব বাচ্চু

মোহাম্মদ রফিক

নতুন একটি পাকা ঘর করার স্বপ্ন ছিল কিংবদনিত্ম শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর। আর সেই ঘরটি হবে নান্দনিক। পরিবার ছাড়াও ওই ঘরে থাকবেন বাবাও। গিটার জাদুকরের নতুন ঘর তো তৈরি হয়েছে বটে। তবে সেটি পাকা নয়, এক চালা ‘মাটির ঘর’। আর এ ঘরেই চিরনিদ্রায় শায়িত থাকবেন রম্নপালি গিটারের জাদুকর আইয়ুব বাচ্চু। গতকাল শনিবার বিকালে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে নামাজে জানাজার আগে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় আইয়ুব বাচ্চুর বাবা হাজি মো. ইছহাকের সঙ্গে। লাঠিতে ভর দিয়ে তিনি চলাফেরা করেন। গতকাল আইয়ুব বাচ্চুর লাশবাহী গাড়ির পাশেই একটি চেয়ারে বসেছিলেন আশিউর্ধ্ব বৃদ্ধ হাজি মো. ইছহাক।
ছেলের প্রতি অগণিত মানুষের এমন শ্রদ্ধা দেখে আবেগ-আপস্নুত হয়ে পড়েন তিনি। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার আমার বাচ্চু ফোন করেছিলো। সে বলেছিল-‘বাবা আমার জন্য দোয়া করবেন। ইনশাআলস্নাহ চট্টগ্রামে একটি নতুন বাড়ি করব। ওই বাড়িতে আমি থাকব। বাবা তোমাকেও রাখব। কিন’ ছেলের বাড়ি তো আর পাকা হলো না। ঠাঁই হলো নতুন মাটির ঘরে।’ এ কথা বলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন তার বাবা। জানা গেছে, গতকাল শনিবার সকাল দশটার আগে চৈতন্য গলির কবরস’ানে তার ‘নতুন বাড়ি’ তৈরির কাজ করেছেন সরওয়ার, জাফর ও ইমাম হোসেন। সকাল সাতটা থেকে কবর তৈরির কাজ শুরম্ন করেন তারা। নগরের স্টেশন রোডের বাইশ মহলস্না চৈতন্য গলির কবরস’ানে মায়ের কবরের বাম পাশে বাচ্চুর জন্য তৈরি হয় সাড়ে তিন হাত দৈর্ঘ্যের এ ‘মাটির ঘর’।
ইমাম হোসেন বলেন, ‘আইয়ুব বাচ্চুর ইচ্ছে ছিল তাকে যেন তার মায়ের পাশেই দাফন করা হয়। দেশের কিংবদনিত্ম এ শিল্পীর কবর তৈরির কাজ করতে পেরে গর্ববোধ করছি।’ কবরটিও সুন্দরভাবেই তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। জানা গেছে, কবরে শোয়ানোর পর বাচ্চুর মরদেহের ওপর দেয়ার জন্য বাঁশ-চাটাই সংগ্রহ করেন তারই (বাচ্চু) প্রতিবেশী সেকান্দার মিয়া। তিনি বলেন, ‘বাচ্চু ভাইয়ের মৃত্যুতে প্রমাণ হলো-তিনি কত জনপ্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। দেশ ছাড়িয়ে ওপার বাংলায়ও যে তার ভক্ত রয়েছে সেটা এতদিন কল্পনাও করিনি।’ গতকাল বিকাল ৪টা ৩৯ মিনিটে নগরের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে চতুর্থ জানাজা শেষে চৈতন্যগলির কবরস’ানে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয় কিংবদনিত্ম এ শিল্পীকে।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ আক্টোবর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান কিংবদনিত্ম আইয়ুব বাচ্চু। গত শুক্রবার বাদ জুমা জাতীয় ঈদগাহে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ নেওয়া হয় আর গানের স্টুডিও মগবাজারে ‘এবি কিচেনে’। সেখানে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ নেওয়া হয় চ্যানেল আই কার্যালয়ে। সেখানে তৃতীয় জানাজা হয়। এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যনত্ম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার মরদেহ রাখা হয় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, পেস্নব্যাক শিল্পী। এলআরবি ব্যান্ড দলের লিড গিটারিস্ট ছিলেন তিনি। ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মো. ইছহাক।