নতুন বই হাতে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

বছরের প্রথম দিনে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নিল শিড়্গার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের আগেই শিড়্গার্থীরা স্কুল গেট কিংবা মাঠে অপেড়্গা করছিল কখন বই হাতে আসবে। বই হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাস-আনন্দে মেতে উঠলো তারা। নতুন বই পাওয়ার আনন্দের ছাপ শিড়্গক ও অভিভাবকদের মধ্যেও লড়্গ করা গেছে।
গতকাল পহেলা জানুয়ারি সারাদেশে একযোগে উৎসমুখর পরিবেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিড়্গার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করা হয়। চট্টগ্রামেও উৎসবমুখর পরিবেশে বই বিতরণ করা হয়।
চট্টগ্রামে বই উৎসব দুই জায়গায় উদ্বোধন হয়। জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিড়্গা অফিস সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম নগরীর খাসত্মগীর বালিকা সরকারি বিদ্যালয়ে জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন আনুষ্ঠানিক বই উৎসব উদ্বোধন করেন। এছাড়া একই সময়ে উপজেলা পর্যায়ে বই উৎসব উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান।
সহকারী জেলা প্রাথমিক শিড়্গা অফিসার জহির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নগরীর ৬টি থানাসহ ১৪টি উপজেলার ৪ হাজার ৪৩০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০ লাখ ১৬ হাজার ২১৭ শিড়্গার্থীর জন্য মোট বই বিতরণ করা হয়েছে ৪৮ লাখ ৪৯ হাজার ৯৪৪টি ।
বেলা ১২টায় কৃষ্ণকুমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, আনন্দপূর্ণ পরিবেশে শিড়্গার্থী ও অভিভাবকেরা মাঠে বই বিতরণের অপেড়্গায় ছিলেন। জানা যায়, সকাল থেকেই নতুন বই পাওয়ার লড়্গে শিড়্গার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে উপসি’ত হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় বই বিতরণ শুরম্ন হয়। বিতরণের আগে জাতীয় সংগীত ও শপথ পাঠ করা হয়। বই পেয়ে ব্যাগে না রেখে তারা উল্টিয়ে-উল্টিয়ে দেখছিল। বিদ্যালয়ের প্রধান শিড়্গিকা আয়েশা খাতুন বলেন, ‘এবার বছরের প্রথম দিনেই সকল শিড়্গার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।’
তবে মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিড়্গিকা নুর নাহার বলেন. আমাদের বিদ্যালয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলে শিড়্গার্থী সংখ্যা সাড়ে ৮০০’র মতো। মাধ্যমিকের শতভাগ বই গত ২৭ তারিখে হাতে পেলেও প্রাথমিকের প্রায় ৩০ শতাংশ বই এখনও আসেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী জেলা জেলা প্রাথমিক শিড়্গা অফিসার বলেন, নির্বাচনের জন্য ২৭ ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা সকল স্কুলে-স্কুলে শতভাগ বই প্রেরণ করেছি। কেন এই বিদ্যালয়ে শতভাগ বই যায়নি, তা জানি না। আমরা তদনত্ম করে দেখছি।
জেলা মাধ্যমিক শিড়্গা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, নগরীর ৬টি থানা ও ১৪টি উপজেলার ২ হাজার ৬৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১২ লাখ শিড়্গার্থীর মাঝে ১ কোটি ৫২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৮১টি বই বিতরণ করা হয়।
তিনি বলেন, গত ২৭ ডিসেম্বরের মধ্যে আমাদের কাছে শতভাগ বই এসে পৌঁছালে আমরাও প্রতিটি বিদ্যালয়ে বই প্রেরণ করেছি।
নতুন বই হাতে পেয়ে অপর্ণাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিড়্গার্থী তানজিনা রহমান তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলে, নতুন বই পেয়ে আমি অনেক খুশি। আজ থেকে পড়া শুরম্ন করবো।
একজন অভিভাবক বললেন, বছরের প্রথম দিন আজ। প্রথম দিনেই নতুন বই পেয়েছে আমার মেয়ে। আমিও বই উল্টিয়ে দেখেছি। বইগুলো খুব সুন্দর। কোনো সমস্যা দেখিনি।