‘নতুন প্রজন্মকে আমাদের সুযোগ দিতে হবে’

Murshed-Khan.2

এম মোরশেদ খান। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান। বয়স ৭৮ বছর। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী আসন থেকে চার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বিএনপির এ শীর্ষ নেতা মাঠে-ময়দানের রাজনীতিতে এখন সক্রিয় না থাকলেও নেপথ্যে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছেন। নগরের চট্টেশ্বরী রোডের ‘এভেন হাউস’ বাসভবনে গতকাল বুধবার বিকেলে নিজের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক জীবন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন
সুপ্রভাত বাংলাদেশের প্রতিবেদক সালাহ উদ্দিন সায়েম

সুপ্রভাত: আপনার রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে জানতে চাই। বিএনপির রাজনীতির সাথে কিভাবে জড়ালেন ?
এম মোরশেদ খান : আমি ছাত্র থাকা অবস’ায় যুক্তফ্রন্টের রাজনীতি করতাম। ১৪ বছর বয়সে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়ি। এরপরে আমি যখন চট্টগ্রাম কলেজ ও পরবর্তীতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ভর্তি হই তখন ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে যাই। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর ১৯৬২ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য আমি জাপান চলে যাই। ১৯৬৭ সালে দেশে এসে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করি। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হই। এরআগে ১৯৮৬ সালে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হই।
সুপ্রভাত বাংলাদেশ : আপনাকে তো বিএনপির মাঠে-ময়দানের রাজনীতিতে এখন দেখা যায় না…
এম মোরশেদ খান : বয়স তো কম হয়নি। এখন নতুন প্রজন্মকে আমাদের সুযোগ দিতে হবে। যাদের অনেকেই এখন দলের বিভিন্ন দায়িত্বে আছেন। আমরা তাদের অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করবো।
সুপ্রভাত: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন প্রস্তাবনার বিষয়টি কিভাবে দেখছেন ?
মোরশেদ খান : রাজনৈতিক দলের প্রধান অস্ত্র হলো ভোট, জনগণের ভোটাধিকার। জনগণের এ ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে দলীয়মুক্ত করতে যে প্রস্তাবনা দিয়েছেন তা অবশ্যই ইতিবাচক একটা পদক্ষেপ। নির্বাচন কমিশনের মতো রাষ্ট্রের কিছু প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণমুক্ত করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যে ঐকমত্য হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
সুপ্রভাত: আপনি তো বিএনপি সরকারের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন। চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। পরপর পরপর দুইবার দলের ভাইস চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতিতে আর কি আকাঙ্ক্ষা আছে আপনার ? বিশেষ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কি কোনো পরিকল্পনা করছেন?
মোরশেদ খান : না, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন নিয়ে আমি কোনো চিন্তাই করছি না। নির্বাচন করে চারবার এমপি হয়েছি। সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছি। আমি আমার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পেয়েছি। আমার আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। এজন্য আমি কৃতজ্ঞ আমার দল ও নেত্রীর কাছে, দেশের মানুষের কাছে।
সুপ্রভাত: তাহলে আগামীতে রাজনীতিতে আপনার উত্তরসূরী কে হবেন ? আপনার ছেলে কি রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন ?
মোরশেদ খান : না, আমার ছেলের রাজনীতি নিয়ে কোনো চাহিদা নেই। সে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে মনোযোগী। তবে জনগণ যদি আমার পরিবারের কাউকে চায় তাহলে উত্তরসূরী কেউ হতেই পারে।
সুপ্রভাত : চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা তো কমিটি নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত। বিষয়টা কীভাবে দেখছেন ?
মোরশেদ খান : দক্ষিণ জেলা বিএনপি নিয়ে আমি কোনো মাথা ঘামাবো না। আমি কারও বিরাগভাজন হতে চাই না। দলের চেয়ারপারসন যাদের নাম লিখে পাঠাবেন তারাই নেতৃত্বে আসবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন