নতুনদের জায়গা ছেড়ে দিতে হয় বলেছেন বিদায়ী মন্ত্রীরা

সুপ্রভাত ডেস্ক

মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথের আগে সচিবালয়ে নিজেদের শেষ কর্মদিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়ে নতুনদের জায়গা দিতে পুরনোদের সরে যাওয়া চিরায়ত নিয়মের কথাই বলেছেন বিদায়ী মন্ত্রীরা। খবর বিডিনিউজের।
গতকাল দুপুরের পর শেখ হাসিনার চতুর্থ মেয়াদের সরকারের সদস্যরা শপথ নেন। এই সরকারে বাদ পড়েছেন গত সরকারের প্রবীণ মন্ত্রীদের প্রায় সবাই।
নতুন সরকারের শপথের আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিড়্গামন্ত্রী নুরম্নল ইসলাম নাহিদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, খাদ্যমন্ত্রী কামরম্নল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে বিদায় নেন।
নয় বছর বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর স’ান ছেড়ে দিতে পেরে নিজেকে ‘সৌভাগ্যবান’ মনে করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল।
তিনি বলেন, ‘নতুনদের জায়গা দিতে হয়, এটাই স্বাভাবিক, এটাই নিয়ম। আমি সৌভাগ্যবান।’
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য নতুন সরকারের সাফল্য কামনা করে বলেন, ‘যারা মন্ত্রী হচ্ছেন তারা সবাই চমৎকার মানুষ, সৎ, পরীড়্গিত এবং দীর্ঘদিনের রাজনীতিক, এটা তাদের প্রাপ্য।’
বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাওয়া টিপু মুনশিকে ‘বিনয়ী মানুষ’ উলেস্নখ করে তার সফলতা প্রত্যাশা করেন বিদায়ী বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল।
টানা দুই মেয়াদে সরকারে থাকা কামরম্নল বলেন, ‘নতুনদের জন্য পুরাতনদের জায়গা ছেড়ে দিতে হয়।’ ‘ভালো মন্ত্রিসভা হয়েছে’ মত দিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করছি, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।’ খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে নতুন সরকারে যোগ দিচ্ছেন নওগাঁর সংসদ সদস্য সাধন চন্দ্র মজুমদার।
দায়িত্ব পালনের শেষ দিনেও অটিজম আক্রানত্মসহ প্রতিবন্ধীদের যেন কোনোভাবেই অবহেলা না করা হয়, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
এ সংক্রানত্ম আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করতেও কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে যান তিনি।
এতদিন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নুরম্নজ্জামান আহমেদ নতুন সরকারে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। ময়মনসিংহের সংসদ সদস্য শরীফ আহমেদকে করা হয়েছে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী।
একই স’ানে বিদায় নাহিদের
ঠিক ১০ বছর আগে যে দিনে যে সভাকড়্গে বসে প্রথম সভা করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে কাজ শুরম্ন করেছিলেন, সেই সভাকড়্গেই এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে একই দিনে বিদায় নেন শিড়্গামন্ত্রী নাহিদ।
বিদায়ী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বক্তব্য চুপচাপ বসে শোনেন বিদায়ী শিড়্গামন্ত্রী। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিড়্গা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিড়্গা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের বক্তব্য শেষে কথা বলেন তিনি।
নাহিদ বলেন, ‘আশা করছি তারা (নতুন মন্ত্রী) ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মন্ত্রণালয়কে আরো উচ্চ সত্মরে নিয়ে যাবেন।’
নতুন সরকারে দীপু মনি শিড়্গামন্ত্রী এবং মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল শিড়্গা উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
অবসরে বই পড়ে সময় কাটাবেন বলে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিদায়ী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
তিনি বলেন, ‘আমাকে অনেকেই বলেন অবসরে কী করব? বাংলাদেশের করার কোনো ড়্গেত্রের অভাব নেই। আমার সংগ্রহে ৫০ হাজার বই আছে, একগুলোর সবগুলো পড়া হয়নি, এগুলো পড়বো। আর আমি ৩৪টি বই লিখেছি, আরও বই লিখব।’
নিজে থেকে বিদায় নিতে পারাকে ‘সৌভাগ্য’ মনত্মব্য করে হাসতে হাসতে মুহিত বলেন, ‘অবসর না নিয়ে ঝেঁটিয়ে বিদায় হয়ে যাওয়া, সেটার থেকে তো রড়্গা পেয়েছি। এটি খুব আমার আনন্দের বিষয় আমাকে বিদায়-টিদায় করতে হয়নি, আমি নিজে নিজেই বিদায়টা নিয়ে নিয়েছি। সেজন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অত্যানত্ম কৃতজ্ঞ।’
নতুন মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে আসছেন এতদিন পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা আ হ ম মুসত্মফা কামাল।