নজরুলের বিদ্রোহ

আবু সাঈদ
Nazrul-Pic01

ঔপনিবেশিক শক্তি হিসেবে ইংল্যান্ডের আবির্ভাব যোড়শ শতকে আর উনবিংশ শতকেই এ রাষ্ট্র সাম্রাজ্যবাদী শক্তি হিসবে বিশ্ব রঙ্গভূমিতে আবির্ভূত হয়। অষ্টাদশ শতকে পলাশী যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়। ক্ষমতায় এসে ইংরেজরা এদেশে বিদ্যমান সামন্ততন্ত্রকে আঘাত করেছে, ‘গ্রাম্যসমাজের ভিত ভেঙে দিয়েছে, শিল্পবাণিজ্য উচ্ছেদ করেছে।’ এর ফলে এক নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থারও পত্তন হয়। এ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সাহিত্যের প্রথাগত ধারাও বাঁক নেয়। শুরু হয় “আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তন।”
এ নতুন সাহিত্য ধারা সৃষ্টি ও নেতৃত্বে ছিলেন হিন্দু উঠতি-নব্য মধ্যবিত্ত শ্রেণি। যারা ছিলেন প্রথমত ইংরেজ ঘনিষ্ঠ এবং দ্বিতীয়ত ইংরেজিনবীশ। এর ফলে হিন্দু মধ্যবিত্তের বিকাশ ত্বরান্বিত হলেও মুসলিম মধ্যবিত্তের বিকাশ বিলম্বিত হয়। কারণ ইংরেজ শাসনের পত্তনের ফলে মুসলিমদের মধ্যে একদিকে যেমন রাজ্য হারানো মর্মবেদনা ছিল অন্যদিকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, লাখেরাজ সম্পত্তির বাজেয়াপ্তি এবং রাজভাষা ফারসির পরিবর্তে ইংরেজিকরণের ফলে তারা বিত্ত-চিত্ত ও শক্তিহীন হয়ে পড়ছিল। মুসলমানদের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা হয় ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে এবং তা ব্যর্থ হয়। ফলে “পরাজিত মুসলমান অতীতের স্মৃতির মধ্যে আত্মবিলোপ করে। বর্তমান সর্বনাশকে ভুলবার চেষ্টায় মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে রইল। ’ এর ফলে মুসলমান সম্প্রদায় অপসৃয়মাণ সামন্তবাদকে আঁকড়ে থাকলে হিন্দু মধ্যবিত্ত সমপ্রদায় ইংরেজ সংশিষ্ট থেকে ধনতন্ত্রের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধে। এই দুই সম্প্রদায়ের বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এদেশে তার ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ এবং লুণ্ঠনকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সফল হয়। উনবিংশ শতাব্দীর প্রাক্কালে রামমোহন রায় প্রমুখের মাধ্যমে ভারতে জাতীয়তাবোধের উন্মেষ হয়। তবে ‘ভারতবর্ষে জাতীয়তাবাদের ঐক্যের অর্থনৈতিক ভিত্তি কী হবে সে নিয়ে রামমোহন রায় চিন্তা করেননি। করা সম্ভব ছিল না।” ফলে ইংরেজের শাসন তিনি কামনা করেছেন এবং শোষণ-লুণ্ঠনকে অগ্রাহ্য করেছেন।
ঊনিশ শতকের শেষ দিক থেকে উপনিবেশ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোতে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে পরস্পরবিরোধী মৈত্রী চুক্তির কারণে এ সংকট আরো ঘনীভূত হয়। এ সংকটেরই অবশ্যম্ভাবী পরিণাম প্রথম মহাযুদ্ধ। এ অবিশ্বাস এবং সংকটের মধ্যে ১৯১৪ সালের ২৮ জুন বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোতে অস্ট্রিয়া- হাঙ্গেরীর যুবরাজ আর্চডিউক ফ্রান্সিস সস্ত্রীক নিহত হন। এর পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে ২৮ শে জুলাই অস্ট্রিয়া, সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এভাবে প্রথম মহাযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
জাতীয় ও বৈশ্বিক এই রাজনৈতিক সময়ে কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন শিয়ারশোল স্কুলের ছাত্র। ১৯১৭ সালে প্রি-টেস্ট দিয়ে তিনি ৪৯ নং বাঙালি পল্টনে সৈনিক রূপে লাহোর হয়ে নৌশেরাতে যান। সেখানে তিন মাস ট্রেনিংয়ের পর নজরুল চলে যান করাচি সেনানিবাসে। এ বাহিনীর একজন সৈনিক ছিলেন তিনি- হাবিলদার নজরুল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮) সমাপ্ত হলে স্বাক্ষরিত হয় ভার্সাই চুক্তি। এবং নজরুলের ৪৯ নং বাহিনী রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে করাচিতে সংরক্ষিত হয়। ১৯২০ সালে এ ফোর্স ভেঙে দিলে নজরুল স্থায়ীভাবে কলকাতা চলে আসেন এবং কমরেড মুজফফর আহমদের বাসায় বসবাস শুরু করেন। সৈনিক হিসেবে যুদ্ধে অংশগ্রহণের কারণে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর শাসন-শোষণ এবং পাশাপাশি সংকটের স্বরূপকেও তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। সুতরাং নজরুলের পরিচয় শুধু কবি নয়, তিনি অন্যায়-অত্যাচারবিরোধী একজন সৈনিকও।
প্রথম মহাযুদ্ধের পর সাম্রাজ্যবাদী শক্ত হাত ধীরে ধীরে শ্লথ হতে শুরু করলেও নখগুলোও ধারোলো এবং তীক্ষ্ণ হতে শুরু করে। ১৯২২ সালে আয়ারল্যন্ডের স্বাধীনতা, ১৯১৭-এ রুশবিপ্লব, তুরস্কের মুক্তি প্রভৃতি নজরুলকে অনুপ্রাণিত করে থাকবে। এরই ধারাবাহিকতায় আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও স্বাধীনতার প্রশ্নে উপনিবেশিত দেশগুলোতেও জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করে। উপনিবেশিত দেশের নাগরিক হিসেবে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা নজরুলের মধ্যে বরাবরই ক্রিয়াশীল ছিল। ব্রিটিশ রাজশক্তির বিরুদ্ধে এবং ভারতের স্বাধীনতার একজন সৈনিক হিসেবে নজরুল বাংলা সাহিত্যে “ধূমকেতুর” মত আবির্ভূত হলেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ পালাবদল বা ক্রান্তিলগ্নে নজরুলের সাহিত্যজীবন শুরু। ‘উপনিবেশ শৃঙ্খলিত অন্তর্দ্বন্দ্বময় সমাজপ্রবাহে কাজী নজরুল ইসলাম উপগত হন পরাক্রমশালী বিদ্রোহের ভূমিকায়।’ নজরুলের এক হাতে ছিল বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে ছিল রণ-তূর্য। এই রোমান্টিকতা এবং বিদ্রোহের মূলসুর এবং মূলস্বর বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থার বিনির্মাণ। এ শোষণ এবং শাসন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ধ্বংসের জন্য তিনি পৌরাণিক দেবী অসুর বিনাশী দুর্গারও শরণ নিয়েছেন।
দেখ মা আবার দনুজ-দলনী
অশিব-নাশিনী চণ্ডী-রূপ;
দেখাও মা ঐ কল্যাণ-করই
আনিতে পারে কি বিনাশ স্তূপ।
শ্বেত-শতদল-বাসিনী নয় আজ
রক্তাম্বরধারিণী মা,
ধ্বংসের বুকে হাসুক মা তোর
সৃষ্টির নব পূর্ণিমা।
(রক্তাম্বরধারিণী মা, অগ্নিবীণা )
ভারতের জাতীয়তাবাদী নেতারা যখন ব্রিটিশ রাজশক্তির সাথে স্বরাজ বা স্বায়ত্তশাসন নিয়ে বৈঠকের পর বৈঠকে দর কষাকষি এবং লাভ-ক্ষতির হিসাব কষছেন তখনও নজরুল স্বরাজকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, ব্যঙ্গ করেছেন ইংরেজ ঘোষিত ডোমিনিয়ান স্ট্যাটাসকে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে তিনি শুধু তিরস্কৃত করেননি বহিস্কৃতও করতে চেয়েছেন। এজন্য বন্দনা করেছেন কামাল আতাতুর্কের -যিনি সাম্রাজ্যবাদী কবল থেকে তাঁর স্বদেশকে মুক্ত করেছেন – ‘ ঐ ক্ষেপেছে পাগ্‌লি মায়ের দামাল ছেলে/ কামাল ভাই/ অসুর পুরে সুর উঠেছে জোরসে সামাল/ সামাল ভাই”। নজরুলেরও অন্বিষ্ট ছিল এ ধরনের জাতীয় ঐক্যের। উপনিবেশবিরোধী সংগ্রামে সাম্প্রদায়িক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি জানাতে এবং মানতেন। একদিকে তিনি সত্য-সুন্দর ও সাম্যের বীণাবাদক, অন্যদিকে অন্যায় নিপীড়নের বিরুদ্ধে খড়গহস্তে দণ্ডায়মান।
ব্রিটিেেশর আশীর্বাদ-পুষ্ট খণ্ডিত স্বাধীনতা তিনি চাননি। তিনি চেয়েছেন ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার। এজন্য তাঁর কাঙ্ক্ষিত ছিল সামপ্রদায়িক ঐক্যসহ ভারতীয়দের ঐক্য। কারণ জাতি প্রতিষ্ঠা, জাতীয় সংহতি, জাতীয় সত্তা বিনির্মাণে এই ঐক্যের অন্যকোন বিকল্প নেই। রবীন্দ্রনাথ ‘সমস্যা’ নামক প্রবন্ধে ভারতীয়দের অনৈক্যের জন্য আক্ষেপ করেছিলেন। ‘যে দেশে একটি মহান জাতি বাঁধিয়া ওঠে নাই সে দেশ স্বাধীন হইতেই পারে না। স্বাধীনতা কাহার স্বাধীনতা? ভারতবর্ষে বাঙালি যদি স্বাধীন হয় তবে দাক্ষিণাত্যের নায়র জাতি নিজেকে স্বাধীন বলে গণ্য করিবে না।” কিন্তু বিচিত্র কারণে ভারতে এ জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠেনি বরং বাঙালি জাতির ক্ষেত্রে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের কারণে সামপ্রদায়িক দূরত্ব দীর্ঘ থেকে আরো দীর্ঘতর হয়েছে। নজরুল এ অনৈক্যের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেন। জাতীয়তাবাদের অসামপ্রদায়িকতার সাহিত্যিকরূপ নজরুল সাহিত্যে বলিষ্ঠতা পায়।
অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরণ,
কাণ্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পণ!
‘হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?
কাণ্ডারী! বলো, ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মা’র
( কাণ্ডারী হুঁশিয়ার; সর্বহারা)
জাতীয়তাবাদী নেতারা যখন ভারতের স্বাধীনতার প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত তখন নজরুল ধূমকেতু’ পত্রিকায় ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা দাবি করেন। – ‘সর্বপ্রথমে ধূমকেতু ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা চায়।’ মহাত্মা গান্ধীর স্বরাজ দাবিকেও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ক্ষুধাতুর শিশু চায়না স্বরাজ, চায় দুটো ভাত একটু নুন।
বেলা বয়ে যায়, খায়নি ক বাছা, কচি পেটে তার জ্বলে আগুন !
কেঁদে ছুটে আসি পাগলের প্রায়,
স্বরাজের নেশা কোথা ছুটে যায়
(আমার কৈফিয়ৎ; সর্বহারা)
কাজী নজরুল ইসলাম শুধু শিল্প-সাহিত্য সংস্কৃতিতে নতুন সুর সংযোজন করেছেন তা নয়, রাজনীতিতেও তিনি নব প্রাণের সঞ্চার করেছেন। তাঁর সমকালীন অনেক সাহিত্যিক ‘সাহিত্যে বিদ্রোহে’ আস্থা রাখলেও কাজী নজরুল এর সঙ্গে রাজনীতিকেও যুক্ত করেছেন সচেতনভাবে। ‘কবিতাকে তিনি মৌনমুহূর্তের গুঞ্জন হিসেবে দেখেননি। কবিতাকে জনগোষ্ঠীর মুক্তির একটি অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করেছেন’। আর্থ-সামাজিক- রাজনৈতিক শাষন-শোষণের বিরুদ্ধে, পুরোহিত-মোল্লাতন্ত্রের বিরুদ্ধে, শাসক-শোষক শ্রেণির বিরুদ্ধেই ছিল তার বিদ্রোহ। এ বিদ্রোহ ছিল সামন্তবাদ, পুঁজিবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদসহ সকল ধরণের বৈষম্যের বিরুদ্ধে। কারণ তিনি জানতেন এ ভারতে উপনিবেশ শাসনের গোড়াপত্তন সহজ হয়েছে ভারতবর্ষে সামাজিক অনৈক্য, সামন্ততান্ত্রিকতার চর্চা, বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্য, কুসংস্কার লালন, ধর্মীয় গোঁড়ামির পালন, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, রাজনৈতিক চিন্তায় অনগ্রসরতা, ধর্মীয় শাসন ও অনুশাসন, পুরোহিততন্ত্র -মোল্লাতন্ত্রের নিষ্ঠুরতার কারণে। এসব কারণে এদেশে জাতীয়তাবোধ সৃষ্টিও হয়নি। আচারসর্বস্ব মুসলিম সমাজের জন্য অনুকম্পা এবং তাদের জাগরণের প্রয়োজনীয়তা তিনি অনুভব করেছেন।
“ কসাই-খানার সাত-কোটি মেষ
ইহাদেরি শুধু নাই কি প্রাণ?
মার খেয়ে মরিয়া হইয়া
উঠিতে এদের নাই কি প্রাণ?
জেগেছে আরব ইরান তুরান
মরক্কো আফগান মেসের
এয় খোদা! এ জাগরণ রোলে
এ মেষের দেশও জাগাও ফের।
( সুবহ-উম্মেদ, জিঞ্জীর)
সাম্রাজ্যবাদী শক্তিও নজরুলকে ছাড় দেয়নি। বারবার কারান্তরালে নিক্ষেপ করে তাদের অশুভ শক্তি প্রদর্শন করেছে। এ অত্যাচারের বিরুদ্ধে তাঁর সোচ্চার উচ্চারণ।
পূজারী, কাহারে দাও অঞ্জলি?
মুক্ত ভারতী ভারতে কই?
আইন যেখানে ন্যায়ের শাসক,
সত্য বলিলে বন্দী হই
এ শক্তির আরেকরূপ পুস্তক নিষিদ্ধকরণ। পুস্তক নিষিদ্ধ করে সভ্যতার চাকাকে স্তব্দ করতেও চেয়েছে। তবু দমে যাওয়ার পাত্র ছিলেন না নজরুল। বরং এতবড় রাজশক্তি তাঁর কাছে হয়েছে উপহাসের বস্তুতে।
বন্ধু! তোমরা দিলে না ক’ দাম,
রাজ-সরকার রেখেছেন মান!
যাহা কিছু লিখি অমূল্য ব’লে অ-মূল্যে নেন। আর কিছু
শুনেছ কি, হুঁ হুঁ ফিরিছে রাজার প্রহরী সদাই কার পিছু?
( আমার কৈফিয়ৎ, সর্বহারা)
নজরুল কাব্যরচনার প্রথম থেকেই শত্রু হিসেবে ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদকে চিহ্নিত করেছেন এবং তার উচ্ছেদের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তাঁর ‘রাজনৈতিক পরিজ্ঞান ছিল স্বচ্ছ; তৎকালীন নানা-দ্বিধায় অন্বিত নেতৃবর্গের তুলনায় তো বটেই। এমনকি তাঁর দৃষ্টি উপনিবেশ-শৃঙ্খলমুক্তি পেরিয়ে সার্বিক অর্থনৈতিক মুক্তির চিন্তায় সমর্পিত ছিল। তিনি সত্যিকার অর্থেই ছিলেন ক্রান্তিদ্রষ্টা। তাঁর মতো করে পরাধীন ভারতে আর কোন কবি এত স্পষ্টভাবে ব্রিটিশবিরোধিতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও ক্ষুধামুক্তির কথা” বলেননি। নজরুলের কর্মময় জীবনের মতো তাঁর সাহিত্যজীবনও ছিল বর্ণবহুল ; বিচিত্র তাঁর সাহিত্য-যাত্রাও। প্রথাগত শিক্ষা এবং জীবনধারাকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। নজরুল ছিলেন ‘শৈশব থেকেই অশান্ত উদ্দাম উপপ্লবী।’ পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও ঔপনিবেশিকতার পাশাপাশি তাঁর সংগ্রাম ছিল মৌলবাদ ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে। যে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে তিনি সংগ্রামের ডাক দিয়েছেন তার আবেদন এখনো শেষ হয়নি। শেষ হবেওনা যতদিন পর্যন্ত বৈষম্য থাকবে।
তথ্যসূত্র:
মুজফ্‌ফর আহমদ, কাজী নজরুল ইসলাম: স্মৃতি কথা, ন্যাশনাল বুক এজেন্সি প্রা. লি. কলকাতা,২০০৯।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, কাজী নজরুল ইসলাম, ঢাকা, ১৯৬৬।
বিশ্বজিৎ ঘোষ, জীবনানন্দ জসীম উদ্‌দীন এবং অনন্যা, ঢাকা-২০০২।
দৈনিক সমকাল ,২০ মে ২০১১,ঢাকা।
অরুণ মজুমদার, আধুনিক সভ্যতা ও সাম্যবাদীর সংকট, দে’জ পাব. কলকাতা, ১৯৯৩।
মুজফফর আহমদ, আমার জীবন ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাশনাল বুক এজেন্সি প্রা. লি. কলকাতা,২০০৯।