সরকারের ৪র্থ বছরপূর্তি

নগর আওয়ামী লীগের বিশাল সমাবেশ

বিশৃঙ্খলায় বক্তব্য দেননি তিন নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগ সরকারের ৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশাল সমাবেশ ও আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ। ঐতিহাসিক লালদীঘি মাঠে গতকাল বিকাল চারটায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি লালদীঘি চত্বর থেকে শুরু হয়ে আন্দরকিল্লা, কদম মোবারক মোমিন রোড, চেরাগী পাহাড় মোড়, বৌদ্ধমন্দির, নন্দনকানন হয়ে নগর আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয় দারুল ফজল মার্কেটে এসে শেষ হয়। র‌্যালিতে নগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, হকার্স লীগসহ সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী ফেস্টুন-ব্যানারসহ অংশগ্রহণ করে।
আনন্দ র‌্যালিতে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের প্রটোকল অফিসার ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এছাড়া র‌্যালি পূর্ববর্তী সমাবেশে ছাত্রলীগের স্লোগানের কারণে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এতে বিরক্ত হয়ে নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ তিন নেতা মঞ্চে উঠে মাইক্রোফোন হাতে নিয়েও বক্তব্য দেননি।
লালদীঘি চত্বরে অবস্থান করে দেখা যায়, বিকাল চারটার দিকে সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী সভার কার্যক্রম শুরু করেন। পরবর্তীতে আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীর সঞ্চালনায় সহ-সভাপতি নঈম উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক এমএ রশিদ, রেজাউল করিম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, তথ্য-গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, শ্রম সম্পাদক আবদুল আহাদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এর মধ্যে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির নেতৃত্বে শেখ হাসিনা, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ছবি সম্বলিত একটি বিশাল মিছিল নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে চত্বরে প্রবেশ করে। এ সময় সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বক্তব্য দিতে মাইক্রোফোন হাতে নিলেও ছাত্রলীগের স্লোগান থামেনি। স্লোগানের কারণে বক্তব্য দিতে পারছিলেন না সুজন। তিনি স্লোগান বন্ধ করতে বার বার নিষেধ করলেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গায়ে মাখেননি। পরবর্তীতে সুজন জয় বাংলা বলে বক্তব্য শেষ করেন। তার হাত থেকে মাইক্রোফোন নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের স্লোগান বন্ধ করতে বার বার নিষেধ করেন সভার সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। কিন্তু ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তখনও স্লোগান বন্ধ না করাতে তিনিও কোনো বক্তব্য দেননি। এরপর সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনও একই কারণে কিছু না বলে র‌্যালি শুরু করার নির্দেশনা দেন।