নগরে অবৈধ খাদ্যপণ্য উৎপাদন থামছে না ৭১ দিনে ৫৫ অভিযান, ৩৪ প্রতিষ্ঠানের বিরম্নদ্ধে মামলা

সরকার হাবীব

খাদ্যপণ্য উৎপাদন এবং বাজারজাত করার ড়্গেত্রে প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়। প্রতিদিন বাজারে নতুন নতুন অসংখ্য খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আসছে।
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, বৈধ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নগরীতে অসংখ্য অবৈধ পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ঢুকে পড়েছে এবং এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি করছে অবৈধ ও নকল খাদ্যপণ্য। পণ্য উৎপাদন এবং বাজারজাত করার জন্য যাদের কাছে নেই বিএসটিআই কতৃক সিএম (সার্টিফিকেশন মার্ক) সনদ বা লাইসেন্স।
এদিকে অবৈধ পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরম্নদ্ধে অভিযান পরিচালনা এবং অভিযান পরিচালনা শেষে অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরম্নদ্ধে মামলা দেওয়ার পরও অবৈধ পণ্য উৎপাদন কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না।
ভোক্তারা বলছেন, প্রায় প্রতিদিনই নগরীতে নতুন নতুন ড্রিংকিং ওয়াটার এবং বেকারি পণ্য উৎপাদন হচ্ছে এবং সেগুলো বাজারে আসছে।
পণ্যগুলোতে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী বিএসটিআইয়ের কোনো সিল থাকে না। সিল থাকলেও সেটা বৈধ কি অবৈধ সেটা বোঝা যায় না।
গত জানুয়ারি-ফেব্রম্নয়ারি এবং চলতি মাসের ১৩ মার্চ পর্যনত্ম মোট ৭১ দিনে অবৈধভাবে পণ্য উৎপাদন করছে এমন প্রতিষ্ঠানের বিরম্নদ্ধে ৫৫টি অভিযান চালিয়েছেন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং এনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। অভিযানে (সার্টিফিকেশন মার্ক) সিএম সনদ না থাকা এবং অবৈধ পণ্য উৎপাদনের অন্যান্য নমুনা পাওয়ায় ৩৪টি ঁ
প্রতিষ্ঠানের বিরম্নদ্ধে আদালতে মামলা করেছে বিএসটিআই। বাংলাদেশ স্ট্যার্ন্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন আইন ২০১৮ অনুযায়ী চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করা হয়। আদালতে দায়ের করা এই ৩৪টি মামলায় আসামি করা হয়েছে অবৈধ পণ্য উৎপাদন করেন এমন প্রতিষ্ঠানের মালিকদের। এছাড়াও একই সময় ১৬৮টি প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্যের মান নির্ণয় করতে নমুনা সংগ্রহ করেছেন বিএসটিআই।
সংশিস্নষ্টরা আরও বলছেন, আইনে বাধা থাকায় নগরী থেকে পরিপূর্ণভাবে অবৈধ পণ্য উৎপাদন বন্ধ করা যাচ্ছে না। লাইসেন্স ছাড়া নগরীতে তারা প্রতিনিয়ত ড্রিংকিং ওয়াটার এবং বেকারি পণ্য উৎপাদন করছেন। সাধারণদের কথা চিনত্মা করে নগরী থেকে অবৈধ পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা প্রয়োজন।
সংশিস্নষ্টরা আরও বলছেন, পণ্য উৎপাদন তদারকি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই অবৈধ পণ্য উৎপাদনের বিরম্নদ্ধে অভিযান চালাতে পারেন এবং মামলাও দিতে পারেন। কিন’ তারা অবৈধ পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে পারে না। যার ফলে নগর থেকে এসব অবৈধ পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা যাচ্ছে না।
বিএসটিআই সূত্রে জানা গেছে, তারা মূলত অবৈধ ড্রিংকিং ওয়াটার এবং বেকারি পণ্যসহ ১৮২টি পণ্যের মান দেখা এবং পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে সনদ দেওয়ার কাজ করেন। যেসব প্রতিষ্ঠান অবৈধ পণ্য উৎপাদন করে তাদের বিরম্নদ্ধে আদালতে মামলা দেন। বিএসটিআই সূত্রে আরও জানা গেছে, মোবাইল কোর্টের সাথে তফসিলভুক্ত না হওয়ায় বিএসটিআই অবৈধ কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে পারেন না এবং অবৈধ কোনো প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাও করতে পারেন না। জরিমানা এবং বন্ধ করার এখতিয়ার না থাকায় অবৈধ পণ্য উৎপাদন ঠেকাতে বিএসটিআইকে হিমসিম পোহাতে হয়।
বাংলাদেশ স্ট্যার্ন্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মোসত্মাক আহমেদ সুপ্রভাতকে বলেন, যারা অবৈধভাবে পণ্য উৎপাদন করছেন তাদের বিরম্নদ্ধে তারা অভিযান পরিচালনা করছেন এবং পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করছেন। অভিযানে যাদের কাছে সিএম সনদ পাওয়া যায় না তাদের বিরম্নদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি তারা একটি উদ্যোগ নিয়েছেন। সেটা হলো-নগরীর বৈধ পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম পত্রিকার মাধ্যমে ভোক্তাদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাতে ভোক্তারা প্রতারিত না হন।