নগরীর মার্কেট, শপিংমল, শিল্প-কারখানা অগ্নি-দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে

নগরীর অধিকাংশ মার্কেট, শপিংমল, দোকান অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে। নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজার, তামাকুমন্ডি লেন, টেরিবাজার, আছাদগঞ্জ, সেন্ট্রালপ্লাজায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এ চিত্র উঠে এসেছে। এসব মার্কেট এলাকা ঘিঞ্জি পরিবেশে গড়ে উঠেছে। ছাড়পত্র থাকলেও এসব স্থাপনায় নেই অগ্নি নির্বাপক সরঞ্জাম, মার্কেটগুলি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে গলি উপ-গলিতে ২টি রিকশা পাশাপাশি যেতে পারে না, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকবে কি ভাবে? আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণে মার্কেটের পরিবেশ, কাঠামো নির্মাণগত পরিস্থিতিই বৈরী হয়ে ওঠে, আগুন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পক্ষে। ফলে অগ্নিদুর্ঘটনায় সর্বস্বান্ত মানুষদের আহাজারি, দুঃখদুর্দশা চরমে উঠলেও কিছু করার থাকে না অথচ প্রতিকারমূলক পদক্ষেপগুলি নেয়া হলে সমূহ সর্বনাশ থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পাওয়া সম্ভব। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে মার্কেট আবাসিক ভবন, স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে কিন্তু বিধিবিধান কিংবা আইনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক অথচ তা নেই। স্থাপনা নির্মাণে পর্যাপ্ত জায়গা রাখতে হবে, কোন মালিক প্রতিষ্ঠান তা মানবে না, যারা এসব মার্কেট-কাঠামো নির্মাণের অনুমতি দেয় তাদেরও পর্যাপ্ত নজরদারি নেই। ব্যবসায়ী সমিতি কিংবা যারা ব্যবসা করেন তারাও অগ্নিকাণ্ডে ভায়বহতার আশঙ্কা জেনেও এক প্রকার নির্বিকার থাকেন।
রেয়াজউদ্দিন বাজারেই রয়েছে ১৪০ টির মতো ছোট ছোট মার্কেট, চৈতন্যগলি ছাড়া আর কোন রাস্তায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকা সম্ভব নয় আছাদগঞ্জে আছে কেমিক্যাল ও স্পিরিটের দোকান-গুদাম অথচ অগ্নি নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থা নেই, টেরিবাজার, খাতুনগঞ্জ, আছাদগঞ্জ, চাক্তাই এলাকায় আবাসিক স্থাপনাও রয়েছে, অগ্নিদুর্ঘটনা হলে এসব এলাকার মানুষও ঝুঁকিতে পড়বেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র মতে, গত বছর নগরীতে ৪৫৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, এসব অগ্নিকাণ্ডে ৫জন নিহত ও ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, ক্ষতি ৮ কোটি টাকার মতো। তাদের মতে নগরীর ৭০ শতাংশ বহুতল ভবনে অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র নেই, অধিকাংশ ভবনের এনওসি (অনাপত্তি ) ছাড়পত্র নেই। এসব তথ্য উঠে এসেছে আমাদের প্রতিবেদনে।
ফায়ার সার্ভিস দোকান মালিকদের প্রতিরক্ষা ও প্রতিকারমূলক সতর্কতার বিষয়ে নির্দেশনা দিলেও তা মানা হয় না।
জেলা প্রশাসন নগরীর বিভিন্ন শপিং মল, বিপণিবিতান কলকারখানা ও গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে অগ্নি নির্বাপণ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করছে, এতে দেখা গেছে, অগ্নি নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই ৭০ শতাংশ দোকান ব্যবসা করছে বছরের পর বছর।
শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিদুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি। ফায়ার সার্ভিস এর পরিসংখ্যান মতে নগরীতে গড়ে প্রতিদিন ১টির বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে গত বছর, সুতরাং একে হালকাভাবে নেয়ার কোন কারণ নেই। আমরা মনে করি, ফায়ার সার্ভিস এবং জেলা প্রশাসন থেকে যে সকল মার্কেট, স্থাপনা বহুতল আবাসিক ভবনে অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম রাখেনি অথবা আইনকানুন মেনে স্থাপনা নির্মাণ করেনি সেগুলির বিশদ জরিপ শুরু করে বিধিব্যাবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। স্থাপনার মালিক, অবকাঠামো নির্মাণকারী, ব্যবসায়ী সমিতিকে অবশ্যই অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। গলি-উপগলি প্রশস্ত করতে হবে যাতে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত অকুস্থলে যেতে পারে।
আরো ক্ষতি হওয়ার আগে জলাশয়গুলো ভরাট করা রোধ করতে হবে। জনগণ ও প্রতিষ্ঠান মালিক সচেতন না হলে কিংবা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক সরঞ্জাম না রেখে কেবলমাত্র ভাগ্যকে দোষারোপ করলে কোন লাভ হবে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন