নগরীর ক্ষতবিক্ষত সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়, দ্রুত সংস্কার করুন

সম্পাদকীয়

মহানগরীর বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়ক যান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিছু সড়কে সংস্কার কাজ চলছে কিন’ অতি ধীরগতিতে। যান চলাচলের জন্য সড়কের একপাশ খোলা রাখলেও যানজট তীব্র হয়ে থাকছে। যানবাহন চলছে ধীর গতিতে, থেমে থেমে। অধৈর্য হয়ে পড়ছেন যাত্রীরা। নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পরও গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন না। ফলে সময় নষ্ট হচ্ছে কিন’ কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। তদুপরি রাস্তার সকল অংশে খানা-খন্দ, যে কোন মুহূর্তে দুর্ঘটনার শঙ্কা। আমরা নগরীর জন্য মেগা প্রকল্প করছি কিন’ সময়ের কাজ সময়ে করতে পারি না। প্রাক্কলন তৈরি, অনুমোদন, বরাদ্দ, কার্যাদেশ প্রদান- এসব করতে করতে রাস্তার ক্ষত আরও সম্প্রসারিত হয়ে চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে প্রাক্কলন বাড়ে, ব্যয় বেড়ে যায়। আমাদের সকল ধরনের উন্নয়ন কাজের ধারা মোটামুটি এই রকমই।
আমাদের গতকালের পত্রিকায় বহদ্দারহাট থেকে নতুন ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের নির্মাণ ও সংস্কার কাজের এক সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গতবছর এই সড়কটি ৬ লেনের করার সিদ্ধান্ত হয়। কাজটি চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্প ব্যবস’াপক ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকল্পের ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে মর্মে আমাদের প্রতিবেদককে জানান। সড়কের চলমান কাজের যে অবস’া প্রতিবেদনে এসেছে তাতে নির্ধারিত সময়ে কাজটি শেষ হবে, নিশ্চিতভাবে সেটি বলা যাবে না। দক্ষিণ চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার মানুষকে প্রতিদিনই এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সড়কের বর্তমান অবস’া, যানজট তাদের জন্য দুর্ভোগই এনেছে। সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে- এ জন্য বিকল্প সড়ক প্রয়োজন। তাছাড়া সংস্কার কাজ যথাসময়ে করতে পারলে মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমে।
নগরীর অন্য ২টি গুরুত্বপূর্ণ আগ্রাবাদ-হালিশহর সড়ক এবং নিমতলী থেকে অলংকার মোড় পর্যন্ত সড়কের সংস্কার কাজ চলছে। এর ফলে আগ্রাবাদ এবং বন্দর এলাকায় যানজট তীব্র হয়েছে। চট্টগ্রামের অর্থনীতি, ব্যবসাবাণিজ্য, জনজীবন সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলির সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন। আমাদের দেশে সড়ক নির্মাণের ব্যয় অত্যধিক, তারপরও তৈরি সড়কের স’ায়িত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। প্রতিবছর বর্ষাতে সড়ক ক্ষতবিক্ষত হয়। ছোট বড় গর্ত দেখা দেয়, সময়ে সংস্কার না হওয়ায় ক্ষতি আরও বাড়ে। একদিকে জনগণের অর্থের অপচয়, অন্যদিকে চরম ভোগান্তি হয় জনগণের। নাগরিকদের ভোগান্তি সারাবছরই। বিভিন্ন সংস’ার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, সড়ক সংস্কার, ফ্লাইওভার নির্মাণ, সরকারি-বেসরকারি সংস’ার নানা অবকাঠামো নির্মাণ এসবের কারণে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ, যানজট, দুর্ঘটনা, নগরবাসীর নিত্যসঙ্গী অথচ সরকারি শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন উন্নয়নের সুফল পেতে ভোগান্তি সইতেই হবে। জনগণ ভোগান্তি-দুর্ভোগ মেনে নিচ্ছেও কিন’ তা সহনীয় মাত্রায় রাখার দায়িত্ব সরকারি কর্মকর্তাদের। জনগণের অর্থে উন্নয়ন কাজ ও সরকারি কর্মচারীদের বেতনভাতার সংস’ান হয় অথচ তাদের সারা বছরের দুর্ভোগের অবসান হয় না।