পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) আজ

নগরীতে বের হবে জশনে জুলুস নেতৃত্ব দেবেন সৈয়দ মুহাম্মদ হামেদ শাহ্

আজ ১২ রবিউল আউয়াল। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)। এই দিনে সৃষ্টিকুলের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক মুক্তির দূত শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (দ.) জন্ম নিয়েছিলেন, আর একই দিনে ইহলোক ত্যাগ করেন। আজ যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন করবে মুসলিম বিশ্ব।
দিনটি যথাযথভাবে উদযাপন করতে বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও নেয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি। এর মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক আয়োজন হচ্ছে অরাজনৈতিক সংগঠন আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট চট্টগ্রামের ব্যবস’াপনায় ঐতিহাসিক বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস (শোভাযাত্রা)। আজ বুধবার সকাল ৮টায় নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে এ জশনে জুলুস বের হবে। জুলুসে নেতৃত্ব দেবেন পাকিসত্মান দরবারে আলীয়া কাদেরিয়া ছিরিকোট শরিফের শাহজাদা আলস্নামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ হামেদ শাহ্ মাদ্দাজিলস্নুহুল আলী।
ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলড়্গে কোরআনের বাণী, হামদ, না’ত সহকারে ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে নগরীর গুরম্নত্বপূর্ণ গোল চত্বর। আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের উদ্যোগে নগরের অনেক স’ানে ডিজিটাল ব্যানার সহকারে সুদৃশ্য তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে নগরের বিভিন্ন স’ানে গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ, ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট ইসলামী ছাত্রসেনাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলড়্গে শোভাযাত্রা বের করে।
মুসলমান সমপ্রদায়ের কাছে আজকের এই দিন অত্যনত্ম গুরম্নত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ। মুসলিম বিশ্ব বিভিন্নভাবে আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ করে বিশেষ আনুষ্ঠানিকতায় দিবসটি উদযাপন করে। ফাতেহা, ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে ঘরে ঈদে মিলাদুন্নবীর আনন্দকে ভাগ করে নেওয়া হয়।
প্রায় দেড় হাজার বছর আগে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র মক্কা নগরীর অভিজাত কুরাইশ বংশে শুভ আবির্ভাব ঘটে নবীকুলের শিরোমণি রহমাতুলস্নীল আলামীন হযরত মুহাম্মদ মোসত্মফা (দ.) এর। ৬৩ বছর বয়সে ১২ রবিউল আউয়ালে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় তিনি আমাদের জন্য রেখে যান পবিত্র কুরআন আর সুন্নাহ্।
এ দিনের মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য সম্পর্কে আলস্ন্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর প্রিয় রাসূল (দ.) সম্পর্কে পবিত্র কোরআন শরিফে ঘোষণা করেছেন- ‘মুহাম্মদকে সৃষ্টি না করলে আমি পৃথিবী সৃষ্টি করতাম না।’ তিনি সব কুসংস্কার, গোঁড়ামি, অন্যায়, অবিচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তির বার্তা বয়ে এনেছিলেন। মহানবীর (দ.) আগমনে মানবজাতি লাভ করেছে কল্যাণময় পথের পরিপূর্ণ দিকনির্দেশনা, মানবিক মূল্যবোধ ও মর্যাদার গভীরতম চেতনা। রবিউল আউয়ালের এই রজনীতে গোটা দুনিয়ায় ধ্বনিত হয়- ‘ইয়ানবী সালামু আলাইকা, ইয়া রাসূল সালামু আলাইকা।’
ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলড়্গে রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ, ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। আজ সরকারি ছুটির দিন। সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের অফিস-আদালত বন্ধ থাকছে।