নগরীতে পশুবাজার পরিবেশ রক্ষা ও জনভোগান্তি কমাতে শর্তারোপ করুন

সম্পাদকীয়

আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে প্রায় ছয় কোটি টাকায় নগরীর পাঁচটি অস’ায়ী পশুরহাট ইজারা দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। একটি প্রত্যাশিত দর না পাওয়ায় এখনো ইজারা দেওয়া হয়নি। পাঁচটি বাজার হলো, কর্ণফুলী পশু বাজার, স্টিল মিল, পতেঙ্গা সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ (কাঠগড়), পোস্তারপাড় স্কুল মাঠ ছাগল বাজার, সল্টগোলা রেলক্রসিং এবং কমলমহাজন হাট। ঈদুল আযহা উপলক্ষে গত ১০ জুলাই চসিককে অস’ায়ী পশুবাজার বসানোর অনুমতিপত্র দেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। ১৩ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত ১০ দিনের জন্য পশুবাজার বসানোর অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
এই অস’ায়ী বাজারগুলো ছাড়াও চসিকের আওতাধীন বেশ কযেকটি পশুবাজার আছে নগরীতে। এরমধ্যে বিবিরহাট এবং পাহাড়তলী সিডিএ মার্কেট সবচেয়ে বড়। স’ায়ী পশুবাজারগুলোতে অনেক আগে থেকেই পশু বেচা-কেনা শুরু হবে। কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে এর বাইরেও কিছু অস’ায়ী পশুরহাট বসতে দেখা যায়। অনেক সময় নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায়ও বেশকিছু পশু দেখা যায় যা বিক্রির উদ্দেশ্যে জড়ো করা হয়।
কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েক লাখ পশু বেচা-কেনা হয়ে থাকে এইসব বাজার থেকে। ফলে প্রতিদিন অসংখ্য পশুর আমদানি হয় বাজারগুলোতে। এতে পশুর মলমূত্রসহ নানা বর্জ্যে বাজার এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস’্যকর হয়ে পড়ে। স্বাস’্যঝুঁকি প্রকট হয়ে ওঠে। এছাড়া এবার কোরবানি ঈদের সময় বর্ষা মৌসুম থাকবে। ফলে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে বেশি। এ কারণে এবার আগে থেকে প্রস’তি নিয়ে না রাখলে বেচা-কেনার সময়ে বৃষ্টি বাড়তি বিড়ম্বনা তৈরি করতে পারে। বৃষ্টিতে পশুবাজারের বর্জ্য যেন আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে তার আগাম ব্যবস’াও গড়ে তোলা প্রয়োজন।
এসব বিষয়ে চসিক আগাম পরিকল্পনা নিয়ে রাখতে পারে। যেহেতু পশুবাজারের সময় চসিকের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে উঠতে পারে। সে কথা মাথায় রেখে এখন থেকে অস’ায়ী পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি পশুবাজার ইজারাদারদের নিজস্ব ব্যবস’াপনায় পরিচ্ছন্ন রাখার শর্ত যোগ করতে পারে।
কয়েকদিন আগে পত্রিকার বরাতে জানা গেল নগরীতে আধুনিক জবাইখানা তৈরি করা হচ্ছে। সাধুবাদ জানিয়ে যোগ করতে চাই কোরবান ঈদে পশু জবাই স্বাস’্যসম্মত উপায়ে নির্ধারিত স’ানে করার বিষয়ে চসিকের সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ যেন সঠিকভাবে পালিত হয় সে বিষয়ে তদারকি জারি রাখা দরকার। এবং সে সাথে সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও স্বাস’্যসম্মত উপায়ে পশু জবাই করার বিষয়ে আগ্রহ তৈরি করার পরিকল্পনাও দিতে হবে। মনে রাখা দরকার নগরীর বহু অংশ কয়েকমাস থেকে প্রচণ্ড স্বাস’্য ও পরিবেশগত ঝুঁকিতে আছে। কোরবান উপলক্ষে এই ঝুঁকি যেন আরও বৃদ্ধি না পায় সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে।