পৃথক ৯ বিভাগ নিয়ে ৫০০ শয্যার জন্য গড়ে উঠবে নতুন ১০ তলা ভবন

ধারণ ক্ষমতা বাড়ছে চমেক হাসপাতালের

সালাহ উদ্দিন সায়েম

নেই পর্যাপ্ত শয্যা (বেড), নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম। এটা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চিরচেনা সংকট! এই হাসপাতালটিতে যারা চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন, তাদের এমন সংকটের কথা জানা আছে।
১৯৬২ সালে ১২০টি শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল হাসপাতালটি। এ অঞ্চলের সাড়ে ৪ কোটি জনগোষ্ঠীর বিপরীতে সরকারি এ হাসপাতালটির বর্তমানে শয্যা সংখ্যা হলো মাত্র ১ হাজার ৩১৩টি। অথচ হাসপাতালটির ইনডোরে প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকে ধারণ ক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ, ২২০০ থেকে ২৫০০ জন।
শয্যা সংখ্যা যেখানে অপ্রতুল, সেখানে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি পর্যাপ্ত হয় কি করে!
মাত্র ১২টি আইসিইউ বেড, ২২টি অপারেশন থিয়েটার (ওটি) একটি এমআরআই, একটি সিটি স্ক্যান, একটি এনজিওগ্রাম, একটি রেডিওগ্রাফি মেশিন। পরীক্ষার জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয় রোগীদের।
এমন সংকট মাথায় নিয়ে রোগীদের সেবা দিতে দিতে যেন কাহিল হয়ে পড়েছে ৬০ বছরের পুরনো ৬ তলা ভবনটিও!
চট্টগ্রামের প্রাচীনতম এই হাসপাতালটি অবশেষে এমন সংকটের ধকল কাটিয়ে উঠতে যাচ্ছে।
আরো ৫০০ শয্যা নিয়ে নতুন একটি ১০ তলা ভবন গড়ে উঠছে হাসপাতালটির। এখানে থাকবে ৯টি স্বতন্ত্র বিভাগ।
নতুন ৫০০ শয্যার জন্য অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য একটি কমিটি করা হয়। এই কমিটি একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করেছে। কমিটির প্রধান ছিলেন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. অশোক কুমার দত্ত।
প্রস্তাবনাটি আজ মঙ্গলবার স্বাস’্য অধিদপ্তরের পরিচালকের নিকট (হাসপাতাল) পাঠাচ্ছে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখান থেকে প্রস্তাবনাটি যাচাই-বাছাই শেষে স্বাস’্য মন্ত্রণালয়ে যাবে। পরবর্তীতে এটি কেবিনেটে পাশ হবে।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন সুপ্রভাতকে বলেন, ‘৫০০ শয্যার প্রকল্পটা চট্টগ্রামবাসীর জন্য আশার আলো। আমাদের অবকাঠামোর মাত্রাতিরিক্ত যে সংকট এ প্রকল্পটি হয়ে গেলে তা থেকে আমরা নিস্তার পাবো। আশা করছি, ১০ তলা ভবনটি হলে রোগীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আশা করছি, বছর দুয়েকের মধ্যে ৫০০ শয্যার ১০ তলা ভবনটি দাঁড়িয়ে যাবে।’
৫০০ শয্যার জন্য নতুন বহুতল ভবনটি গড়ে তোলা হবে হাসপাতালের উত্তর পাশে লাগোয়া রাস্তার উত্তর পাশের খালি জায়গা প্রথমে দক্ষিণ থেকে উত্তর পর্যন্ত, এরপর পুরাতন ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ পর্যন্ত হবে প্রথম ব্লক। পুরাতন ফার্মাকোলজি বিল্ডিংয়ের সামনে হবে দ্বিতীয় ব্লক এবং পুরাতন লাইব্রেরি বরাবরে উত্তর দিকে মর্গ পর্যন্ত স’াপন হবে তৃতীয় ব্লক।
প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, হাসপাতালের পুরাতন ভবন থেকে ৯টি বিভাগ নতুন শয্যা সংযোজন করে ১০ তলা ভবনটিতে স’ানান্তর করা হবে। বিভাগগুলো হলো-জেনারেল সার্জারি বিভাগ, নিউরোসার্জারি বিভাগ, নিউরো মেডিসিন বিভাগ, ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগ, শিশু সার্জারি বিভাগ, ইউরোলজি বিভাগ, বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ, আইসিইউ বিভাগ এবং অ্যানেসথেসিয়া বিভাগ। প্রস্তাবনায় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের জন্য ৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের বৃহৎ ওয়ার্ড স’াপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
চমেক হাসপাতালে বর্তমানে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা আছে ১২টি। ৫০০ শয্যা প্রকল্প থেকে নতুন ২৩টি বেড যুক্ত হবে। মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫টি। বর্তমানে ওটি আছে ২২টি। নতুন করে সংযোজন হবে ১৪টি। তখন মোট ওটির সংখ্যা হবে ৩৬টি। এছাড়া আরো একটি এমআরআই ও একটি সিটি স্ক্যান মেশিনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন হবে।
চমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম সুপ্রভাতকে বলেন, ‘৫০০ শয্যা সংযোজন হলে হাসপাতালের চেহারা বদলে যাবে। ভোগান্তি থেকে রোগীরা রেহাই পাবে। রোগীদের চট্টগ্রামের বাইরে আর যেতে হবে না।’