ধানের শীষ প্রতীকই হাতিয়ার সুফিয়ানের

নিজস্ব প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে অনেক নাটকীয়তার মধ্যে দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান। তিনি ভোটের মাঠে নতুন মুখ। অচেনা মুখ হলেও এ বিএনপি নেতা ধানের শীষ প্রতীককে হাতিয়ার করে প্রথমবারের মতো ভোটযুদ্ধে নেমেছেন।
বোয়ালখালী উপজেলা এবং নগরীর পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও, মোহরা, পূর্ব ষোলশহর ও পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৮ সংসদীয় আসন। শহর আর গ্রামের মেলবন্ধনে গঠিত এ আসনটি বিএনপির ‘ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত। এই আসনে বিএনপি থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী এম মোরশেদ খান। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখায় এবার এ আসনে ধানের শীষের প্রতীক পান তৃণমূল থেকে উঠে আসা ছাত্রনেতা আবু সুফিয়ান।
নগরীর রাজনীতির মাঠে অতিপরিচিত মুখ হলেও ভোটের মাঠে তিনি অপরিচিত। পড়্গানত্মরে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী মইন উদ্দিন খান বাদল হলেন ভোটের মাঠে জনপ্রিয় মুখ। এই আসনের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সুফিয়ানকে দুর্বল প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, ভোটের মাঠে ধানের শীষের প্রার্থী সুফিয়ান নৌকার প্রার্থী বাদলের সামনে দাঁড়াতেই পারবেন না। তারা বলছেন, মইন উদ্দিন খান বাদল একজন জাতীয় নেতা। এখানকার ভোটারদের কাছে তার একটা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। যে কারণে এই আসন থেকে তিনি দুই বার নির্বাচিত হয়েছেন।
কিন’ বিএনপি নেতা সুফিয়ানের ভোটযুদ্ধের হাতিয়ার হলো ধানের শীষ প্রতীক। ভোটের মাঠে অনভিজ্ঞ সুফিয়ান কেবল প্রতীক দিয়ে
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ঘায়েল করতে চান।
তাই তো গত চার দিন ধরে তাজা ধানের শীষ নিয়ে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে ছুটছেন তিনি। গণসংযোগ করতে সকালে নগর ছেড়ে ছুটে যান বোয়ালখালী। বিকেলে ফিরে নগরের অলি-গলিতে চষে বেড়ান।
গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যনত্ম বোয়ালখালীতে গণসংযোগ করেন সুফিয়ান। এক ঘণ্টার মধ্যে নগরীতে ফিরে বিকেল তিনটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যনত্ম চাঁন্দগাও এলাকার মোহাম্মদপুর, খতিবের হাটসহ আশপাশের বিভিন্ন অলিগলিতে ছুটেন তিনি। এসময় তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা তাজা ধানের শীষ হাতে নিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
আবু সুফিয়ান সুপ্রভাতকে বলেন, ‘আমি ভোটের মাঠে নতুন মুখ বটে কিন’ রাজনীতির মাঠে পুরাতন। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এই এলাকায় রাজনীতি করছি। কাজেই ভোটাররা আমাকে গ্রহণ না করার কোনো কারণ দেখছি না।’
জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের কাছে প্রার্থীর পরিচয় ফ্যাক্টর নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি নতুন মুখ হতে পারি কিন’ আমার প্রতীক ভোটারদের কাছে চিরচেনা। ভোটে তারা এ প্রতীককেই বেছে নেবে।’
সুফিয়ানের গণসংযোগের সময় খতিবের হাট এলাকায় ষাটোর্ধ্ব নুর নবী নামের স’ানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয় সুপ্রভাতের এ প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ‘নৌকার প্রার্থী এক নামেই পরিচিত। কিন’ ধানের শীষের প্রার্থী এলাকায় খুব একটা পরিচিত নয়। তবে জাতীয় নির্বাচনে মানুষ ভোট দেয় প্রতীক দেখে। প্রার্থী ফ্যাক্টর নয়।’