‘ধর্মবর্ণ-জাতভেদ ভুলে সেবা দিতে পারাটাই প্রকৃত ধর্মচর্চা’

নিজস্ব প্রতিনিধি, লামা

রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্যাগে ভলন্টিয়ারি দল গঠিত হয়েছে। ২০ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটির দলনেতা করা হয়েছে ছাত্রনেতা মো. সৌরভকে। উপ-দলনেতা হিসেবে রয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগ সেক্রেটারি মো. শাহিন ও সজিব মল্লিক। কমিটিতে এক-তৃতীয়াংশ সেবাধর্মী কিশোরীদের রাখা হয়েছে। ১৩ নভেম্বর লামা বাজারস্থ জেলা পরিষদ গেস্ট হাউজে অনুষ্ঠিত রেডক্রিসেন্ট ইয়ুথ (আরসিওয়াই) গ্রুপ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। রেডক্রিসেন্ট ও কারিতাস স্যাপলিং-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লামা পৌরমেয়র মো. জহিরুল ইসলাম। বিশিষ অতিথি ছিলেন রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি বান্দরবান জেলার প্রোগ্রাম অফিসার মোশারফ হোসেন, ইয়ুথ লিডার যুবলীগ নেতা নাজমুল হাসান বাবলু, লামা উপজেলা কারিতাস-এর ডিডিআর এন্ড ওয়াশ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম, স্যাপলিং কো-অর্ডিনেটর ইয়াহিয়া আহমেদ, ডিডিআর ওয়াশ অফিসার এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন ও প্রেসক্লাব সেক্রেটারি মো.কামরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে প্রোগ্রাম অফিসার রেডক্রিসেন্টের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, মহাত্মা জিন হেনরি ডুনান্ট ছিলেন একজন সমাজসেবক। মানবহিতৈষী ও শ্রেষ্ঠমানব। সেই জন্যই তিনি পেয়েছিলেন শান্তিতে প্রথম নোবেল পুরস্কার। তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আজ সারা পৃথিবীতে ২৩ কোটি মানবসন্তান বিপন্ন মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবার প্রবহমান বিশ্বস্রোতে ২৩ কোটি মানুষের সাথে গর্বিত অংশীদার হচ্ছে পার্বত্য লামাসহ বান্দরবান থেকে আরো ২০৩৪ জন স্বেচ্ছাসেবক। তিনি বলেন, হেনরি ডুনান্ট জাতিধর্ম নির্বিশেষে পৃথিবীর সকল মানুষকে এক পতাকাতলে একই কর্মসূচিতে একত্র করেছিলেন। সাম্য-মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন মানব সন্তানদের একটি সংগঠনের মাধ্যমে। সেই সংগঠনের নাম রেডক্রিসেন্টে সোসাইটি। রেড ক্রিসেন্টের জন্ম এক হৃদয়বিদারক ঘটনার মধ্য দিয়ে। ধর্মবর্ণ-জাতভেদ ভুলে সেবা দিতে পারাটাই প্রকৃত ধর্মচর্চা। সেবা দেয়ার সুযোগ ও মানসিক ইচ্ছা থাকলেও দক্ষতার অভাবে তা অনেকের পক্ষে হয়ে ওঠে না। রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি সেই কাজটি করছে। কর্মোদ্যমী যুবক-যুবতীদের একত্র করে প্রশিক্ষণ দিয়ে সেবার মনোভাবের বিকাশ ঘটিয়ে।