জামাল খুনের ঘটনায় গ্রেফতার ১

ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রধান আসামি শাহীন

নিজস্ব প্রতিনিধি, পটিয়া

পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জামাল উদ্দিন আকবরের খুনের ঘটনায় পটিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এতে ছাত্রলীগের উপজেলার মেয়াদোর্ত্তীণ কমিটির সহসভাপতি শাহীন উল্লাহকে প্রধান আসামি করে ১০ জন ও অজ্ঞাতানামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি রেকর্ড হয়। পুলিশ ঘটনার পরের দিন মঙ্গলবার রাতে কালারপোল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ কোলাগাঁও এলাকা থেকে গ্রামপুলিশ সদস্য জাফর আহমদ (৪৫) কে গ্রেফতার করেছে। জাফর এজাহারনামীয় ৪ নম্বর আসামি। তার পিতার নাম সমীর উদ্দিন। তবে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে জামাল উদ্দিন খুনের প্রধান আসামি ছাত্রলীগের শাহীন উল্লাহ।
গত সোমবার রাতে উপজেলার কোলাগাঁওয়ের টেক এলাকায় শাহীন উল্লাহ’র নেতৃত্বে জামাল উদ্দিন আকবরকে ছুরিকাঘাত ও পরে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
পুলিশ ও স’ানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিল্প কারখানায় টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ আধিপত্যের কারণে উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জের ধরে ২০১৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারী প্রথম খুন হন বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগের কোলাগাঁও ইউপির সভাপতি মো. বাহাদূর। ওই ঘটনায় মামলার অন্যতম আসামি শাহীন উল্লাহ ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। একইভাবে গত সোমবার রাতে খুন হওয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি জামাল উদ্দিন আকবর খুনের ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা শাহীন উল্লাহ প্রধান আসামি।
আসামিরা হলেন- নুরুল আলমের পুত্র শাহীন উল্লাহ, তার ভাই আমান উল্লাহ (৩৪), নজরুল ইসলাম রুবেল (২৫), নুরুল আমিনের পুত্র জিয়াউল হক তুষার (২৫), ফরুখ মাঝির পুত্র জুয়েল (২৫), মো. সোলেমানের পুত্র আরফাতুল ইসলাম মানিক (২৫), মৃত রফিক আহমদের পুত্র মোরশেদুল আলম (৩০), জামাল আহমদের পুত্র মো. জাহিদ (২২) ও মৃত হাফেজ আহমদের পুত্র মো. ইকবাল (৩৩)।
এজাহারভুক্ত আসামির মধ্যে কোলাগাঁও ইউপির বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগের সভাপতি নিহত মো. বাহাদুরের ভাই মোরশেদুল আলমও রয়েছে।
বাহাদুর হত্যা মামলার বাদি জামাল খুনের আসামি!
পটিয়ার বাহাদুর হত্যা মামলার বাদি এখন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জামাল উদ্দিন আকবর হত্যা মামলার ৮ নম্বর আসামি।
জামাল উদ্দিন আকবর খুনের ঘটনায় ১০ আসামির মধ্যে বাহাদুর হত্যা মামলার বাদিকে আসামি করা হয়। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ৯ ফেব্রুয়ারি বাহাদুরকে ছাত্রলীগের শাহীন উল্লাহসহ একদল সন্ত্রাসী কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। পরিকল্পিতভাবে বাহাদুর হত্যা মামলার বাদীকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা খুনের মামলায় আসামি করায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল জানিয়েছেন, তার খালাত ভাই বাহাদুর হত্যা মামলাটি পরিকল্পিতভাবে ধামাচাপা দিতে মামলার বাদী মোরশেদকে আসামি করা হয়েছে। প্রকৃত আসামিদের আড়াল করতে একটি মহলের ইশারায় বাহাদুর হত্যা মামলার বাদিকে আসামি করা হয়েছে।
পটিয়া কালারপোল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জামাল উদ্দিন আকবর খুনের ঘটনায় থানায় একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এতে এজাহারনামীয় ১১ জন ও অজ্ঞাতনামা অর্ধ শতাধিক। আসামিদের মধ্যে জাফর আহমদ নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।