বিমানবন্দর সড়কের তিন সেতু

দেড় বছরে ৫ শতাংশ, এক মাসে ৬০ শতাংশ কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
15no.-jetty-ghat-brige-at--potenga-airport-road-helal-(1)

এগিয়ে চলছে বিমানবন্দর সড়কের তিন সেতুর কাজ। গত ১২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষোভ প্রকাশের পর ইতিমধ্যে একটি সেতুর দুটি গার্ডার বসেছে এবং বাকি দুই সেতুর গার্ডার ঢালাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। নির্ধারিত সময় জুনের মধ্যেই কাজ শেষ করার লক্ষ্যে চলছে কার্যক্রম।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বিমানবন্দর সড়কের তিন সেতুর মধ্যে রুবি সিমেন্টের কাছের ব্রিজটি নিচের অংশে রড দিয়ে সেন্টারিংয়ের কাজ চলছে। বক্স কালভার্টের মতো চলছে রিং বাঁধার কাজ। পদ্মা অয়েলের কাছের ব্রিজটিও নিচের দিকে রড বাঁধাইয়ের কজ চলছে। এরপর চলবে ঢালাইয়ের কাজ। তবে এই দুই সেতুর তুলনায় এগিয়ে রয়েছে বিমানবন্দরের কাছের বড় সেতুটি। এই সেতুতে ৯টি গার্ডার বসবে। ইতিমধ্যে দুটি গার্ডার বসানো হয়েছে এবং বাকি গার্ডারগুলো বসানোর কাজ চলছে।
সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিমানবন্দরের পাশের সেতুটির সাইট ইঞ্জিনিয়ার আরমান উল্লাহ বলেন, আমাদের এই সেতুতে ৯টি গার্ডার বসবে। এখন পর্যন্ত দুটি গার্ডার বসলেও বাকি গার্ডারগুলো বসানোর জুনের মধ্যেই শেষ করা যাবে।
সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০ জুনের মধ্যে সেতুর ঢালাইয়ের কাজ শেষ হবে। ইতিমধ্যে সেতু তিনটির ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বেইজমেন্টের কাজ হয়ে যাওয়ায় এখন আর বেশি সময় লাগার কথা নয়।
১২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষোভ প্রকাশের পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন সেতু তিনটি জুনের মধ্যে শেষ করার টার্গেট দিয়েছেন। বর্তমান ঠিকাদার ও সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীরা সেই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছেন। এ তিনটি সেতুর মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস’ার (জাইকা) অর্থায়নে স’ানীয় সরকার বিভাগের প্রকল্প হিসেবে সেতু তিনটির নির্মাণকাজ হলেও এর তত্ত্বাবধায়ক মূলত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। অভিযোগ রয়েছে, দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ রশি টানাটানির কারণেই মূলত সেতু তিনটির নির্মাণ কাজে অগ্রগতি হচ্ছিল না। এ কারণে বিমানবন্দর সড়ক ব্যবহারকারী হাজার হাজার যাত্রী প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়েন।
উল্লেখ্য, অনলাইন দরপত্রের মাধ্যমে তিনটি সেতু নির্মাণের কাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়। তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৫ সালের ১৪ অক্টোবর কার্যাদেশ পায়। কিন’ কার্যাদেশ পাওয়ার দেড় বছরে এর অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ। এ কারণে এক বছর সময় বাড়িয়ে নির্মাণকাজের সময়সীমা ১২ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।