দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইড্থের ব্যবহার এক টেরাবাইট ছাড়াবে

বিজ্ঞপ্তি

দেশে বর্তমানে প্রায় ৭০০ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ডে) ইন্টারনেট ব্যান্ডউইড্থ ব্যবহার হচ্ছে। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে যার পরিমাণ ছিল ৪২১ জিবিপিএস। যে হারে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বাড়ছে তাতে করে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ বছরের মধ্যেই তা এক টেরাবাইট (১০২৪ জিবিপিএস) ছাড়িয়ে যাবে। দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করা গেলে এই সময়ের মধ্যে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার আরও বাড়বে।

জানা গেছে, দেশে ব্যবহৃত মোট (৬৬০ জিবিপিএস) ব্যান্ডউইথের মধ্যে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইএসপি)গ্রাহকরা ব্যবহার করে ৪৫০ জিবিপিএস। আর মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো (মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা) ব্যবহার করে ১৮০ জিবিপিএস। অবশিষ্ট ৩০ জিবিপিএস ব্যবহার করে ওয়াইম্যাক্স ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা। দেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গ্রাহকের সংখ্যা আট কোটির বেশি হলেও তারা ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের ব্যবহারে পিছিয়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের কয়েকটি প্রকল্প এখন চালুর অপেক্ষায়। ইউনিয়ন পর্যায়ে উচ্চগতির (ব্রডব্যান্ড) ইন্টারনেট পৌঁছাতে পারলে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে। অন্যদিকে, সারাদেশে এক লাখ কানেক্টিভিটি তৈরিরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, ফলে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার আরও বাড়াবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ২০০৬ সালে সাবমেরিন ক্যাবল সি-মি-ইউ-৪-এ যুক্ত হয়। এটি দিয়ে দেশে আসছে ৪০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইড্থ। আর দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সি-মি-ইউ-৫ দিয়ে আসছে ২০০ জিবিপিএস। যদিও দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সক্ষমতা এক হাজার ৫০০ জিবিপিএস। অন্যদিকে, ছয়টি আইটিস্তি সামিট কমিউনিকেশন লিমিটেড, ফাইবার অ্যাট হোম, নভোকম লিমিটেড, ওয়ান এশিয়া, বিডি লিংক কমিউনিকেশন লিমিটেড ও ম্যাংগো টেলিসার্ভিসেস লিমিটেডের মাধ্যমে ভারত থেকে বর্তমানে দেশে আসছে দেড় শতাধিক জিবিপিএস ব্যান্ডউইড্থ। জানতে চাইলে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি’র সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক বলেন, ‘মোবাইল অপারেটররা কম ব্যান্ডউইড্থ ব্যবহার করলেও বেশি গ্রাহককে সেবা দিতে পারছে ‘লোকাল ক্যাশ’ থাকার কারণে। ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব লোকাল ক্যাশে থাকছে। ফলে তারা ছয় থেকে ১০ গুণ বেশি সেবা দিচ্ছে।’