কাল থেকে কমতে পারে বৃষ্টি রাঙামাটিতে

দেশের সর্বোচ্চ ২৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা বর্ষণ আজকের পর থেকে কমবে, তবে বাড়তে পারে দেশের কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয় রাঙামাটিতে ২৮৯ মিলিমিটার। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আর টানা এ বর্ষণে রাঙামাটির নানিয়ারচরে পাহাড়ধসে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও রাস্তার ভাঙ্গনে পার্বত্য এলাকাগুলোর সাথে সড়ক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে গত তিনদিন ধরে টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া সন্দ্বীপে ২০৪, সীতাকুণ্ডে ২৪৬, কক্সবাজারে ১০৮, কুতুবদিয়ায় ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস প্রসঙ্গে আবহাওয়া অফিস পতেঙ্গা কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ ফরিদ আহমেদ বলেন, আজ রাতের পর থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমবে। তবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলা কুমিল্লা, সিলেট অঞ্চলে বর্ষণ বেড়ে যাবে। সাগর থেকে আসা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু এখন এসব এলাকায় অবস’ান করছে। তাই এসময়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের আবহাওয়া ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে।
তবে বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা আজো রয়েছে জানিয়ে ফরিদ আহমেদ বলেন, ভারী বর্ষণের সতর্কতা থাকার কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড় ধসের ঝুঁকি রয়েছে। এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মৌসুমী লঘুচাপের কারণে সাগরের উপর দিয়ে সঞ্চালনশীল মেঘমালা বিরাজ করছে। এর প্রভাবে সাগরে বায়ুচাপের তারতম্য হচ্ছে এবং বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে সাগর উত্তাল রয়েছে বলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে দেখানো তিন নম্বর স’ানীয় সতর্কতা সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। সাগরের এই সঞ্চালনশীল মেঘমালার কারণে চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকার পাশাপাশি বরিশাল ও খুলনার উপকূলীয় এলাকায়ও বর্ষণ হচ্ছে।