দেশেই তৈরি হচ্ছে কম্পিউটার-স্মার্টফোন

গাজীপুরের চন্দ্রায় দেশের প্রথম কম্পিউটার হার্ডওয়্যার উৎপাদন কারখানা উদ্বোধন করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। গত বৃহস্পতিবার ওয়ালটনের নতুন ওই কম্পিউটার কারখানাকে ‘হাইটেক পার্ক’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। কারখানায় নিজস্ব মাদারবোর্ড, ল্যাপটপ ও স্মার্টফোন সংযোজন করছে ওয়ালটন। মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ‘একটি হাই-টেক পার্কে যা যা থাকা দরকার, তার সমস্ত কিছুই ওয়ালটনের রয়েছে। ওয়ালটনের কারখানায় দুই স্তর বিশিষ্ট মাদারবোর্ড তৈরি হচ্ছে। চলতি বছরের মধ্যেই ওয়ালটন মাল্টিলেয়ার মাদারবোর্ড তৈরিসহ কম্পিউটারের সমস্ত কিছুই যেমন র‌্যাম, এএসডি ডিভাইসেস ইত্যাদি নিজেরাই তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।’
ওয়ালটনের কর্মীরা জানান, বর্তমানে মাদারবোর্ড কারখানাটিতে ৫০ জনের মতো কর্মী রয়েছে। সেখানে দিনে ২০০ টির মতো মাদারবোর্ড তৈরি হচ্ছে। তবে ল্যাপটপ ও স্মার্টফোন কারখানায় একজন কর্মী প্রায় এক হাজার ২০০ ডিভাইস নিয়ে কাজ করেন। তবে চাহিদা বাড়লে উৎপাদন বেড়ে যায়। ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ নামের ওই প্রতিষ্ঠানের অধীনে কম্পিউটার উৎপাদন ইউনিটটি স্থাপন করা হয়েছে। এখানে জাপান ও জার্মানির আধুনিক যন্ত্রপাতি দেখা যায়। সেখানে ল্যাপটপ ও কম্পিউটার নকশা তৈরি, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ, মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও টেস্টিং ল্যাব রয়েছে। ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, কারখানায় মাসে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার ইউনিট ল্যাপটপ, ৩০ হাজার ইউনিট ডেস্কটপ ও ৩০ হাজার ইউনিট মনিটর। পর্যায়ক্রমে কম্পিউটারের অন্যান্য এক্সেসরিজসহ পেন ড্রাইভ, কিবোর্ড এবং মাউস উৎপাদনে যাবে ওয়ালটন। ল্যাপটপে ইন্টেলের সর্বশেষ প্রজন্মের প্রসেসরযুক্ত ল্যাপটপ তৈরি হতে দেখা যায়। কারখানায় এক হাজার লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ জানায়, গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো কম্পিউটার তৈরির অত্যাধুনিক কারখানা। যার মধ্যে দিয়ে আত্মপ্রকাশ করলো দেশের প্রথম কম্পিউটার উৎপাদন কারখানার। সেই সঙ্গে স্মার্টফোনের পর বাংলাদেশের নাম যুক্ত হলো কম্পিউটার উৎপাদনকারী দেশের তালিকায়।