দেশকে ভালোবাসতে হলে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতিবিদদের মধ্যে বিরল উল্লেখ করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মান্নান বলেছেন, ‘কেউ একবার উপকার করলে বঙ্গবন্ধু তাঁর দশবার উপকার করেছেন।’
গতকাল বুধবার সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।
সভায় বাংলাদেশকে যদি ভালোবাসতে হয়, তাহলে বঙ্গবন্ধুকে আমাদের চিনতে হবে, তার সম্পর্কে জানতে হবে, তাহলেই আমরা প্রকৃত দেশপ্রেমিক হতে পারবো বলে মন্তব্য করেন আব্দুল মান্নান।
বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন, ‘স্বাধীনতার সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু ছিলেন বলেই আমরা আজ স্বাধীন রাষ্ট্র দেখতে পেয়েছি। দেশকে ভালোবাসতে হলে,

দেশের জন্য কাজ করতে চাইলে, দেশ প্রেমিক হতে চাইলে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। তার জীবনী পড়ার মাধ্যমে সঠিক পথের দিশা পাওয়া যাবে।’
একাত্তরের পরাজিত শত্রুরা এখনো নানা ধরনের অন্যায় অপকর্ম চালাচ্ছে উল্লেখ করে আব্দুল মান্নান বলেন, ‘তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শুধু জাতির পিতাকেই হত্যা করেনি, হত্যা করেছে গোটা জাতিকে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে দেশের নানা উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জাতির জনকের আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবুর রহমান, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানা জরুরি। শিশু কিশোর, তরুণ প্রজন্মের মাঝে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানাতে হবে। তিনি দেশের জন্য কি করেছেন, কেমন ভালোবাসতেন।’
এর আগে সকালে নগরীর সার্কিট হাউজ থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শোক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। শোক দিবসে জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ। সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার প্রমুখ। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা শেষে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু ভিত্তিক চিত্রাংকন, আবৃত্তি ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কারসহ সনদপত্র তুলে দেন প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। আলোচনা সভায় বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের পদস’ কর্মকর্তা ও সর্বস্তরের শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিরা উপসি’ত ছিলেন।