দূষণজনিত মৃত্যুর হার কমাতে সচেষ্ট হতে হবে এখনই

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেট গত বৃহস্পতিবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকদের সমন্বিত একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রতি ছয়টি মৃত্যুর মধ্যে একটির জন্য দায়ী দূষণ। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশে আরও ভয়াবহ। এদেশে প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হচ্ছে দূষণের কারণে। বায়ু, পানি ও মাটির দূষণ এসব মৃত্যুর কারণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে বিশ্বে ৯০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে দূষণের কারণে। ওই বছর মরণব্যাধি রোগ এইডস ছাড়া যক্ষা ও ম্যালেরিয়ায় যত লোক মারা গেছে তার চেয়ে তিনগুণ বেশি মারা গেছে দূষণজনিত কারণে। আর এই মৃত্যুর অধিকাংশই ঘটেছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশসমূহে। এর অর্ধেক মারা গেছে ভারত ও চীনে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দূষণের মধ্যে বায়ুদূষণ সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী। দুই-তৃতীয়াংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী বায়ু দূষণ। আর এ কারণে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ভারত ও বাংলাদেশে। এর পরে আছে পানিদূষণ। ২০১৫ সালে পানিদূষণে মৃত্যুর সংখ্যা ১৮ লাখ। বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে তিনকোটি মানুষ আর্সেনিকদূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। একই বছরে সিসাদূষণে উচ্চরক্তচাপসহ নানা রোগে ৫ লাখ লোকের মৃত্যু হয়েছে। ৮ লক্ষ মারা গেছে কর্মক্ষেত্রে দূষণের কারণে। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মাদাগাস্কার ও কেনিয়ার মতো দ্রুত শিল্পায়নের দেশে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়ছে, দূষণের কারণে প্রতিবছর বৈশ্বিক সম্পদের ৪৬ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ক্ষতি হচ্ছে জাতীয় আয়ের ৮ দশমিক তিন শতাংশ।
প্রতি চারজনের একজন মারা যাচ্ছে দূষণের কারণে এই তথ্যটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় প্রথম বাংলাদেশ। ঘনবসতি, দুর্নীতি, অসচেতনতা ইত্যাদি কারণে দেশের পরিবেশ ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে একই সাথে বায়ু, পানি ও মাটি দূষণের কাজ হলেও তা প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগ আশানুরূপ নয়। জনগণের মধ্যেও রয়েছে অসচেতনতা। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও এ বিষয়ে যথেষ্ট ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারেনি। দূষণের দিক দিয়ে দেশের রাজধানীসহ বড় বড় নগরগুলো এগিয়ে রয়েছে।
সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। অনেকেই দূষণের কারণ জানে না। না জেনেই অনেকে দূষণ করছে। এদের সচেতন করা গেলে এবং দূষণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে এর ভয়াবহতা কিছুটা হ্রাস পেত। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তথা সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।