জলাবদ্ধতা, গণপরিবহন সংকট

দুর্বিষহ নগরজীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
শিশু শিক্ষার্থীরা পানি ডিঙিয়ে স্কুল থেকে ফিরছে। ছবিটি নগরের আগ্রাবাদ এক্সেস রোড  থেকে তোলা -হেলাল সিকদার
শিশু শিক্ষার্থীরা পানি ডিঙিয়ে স্কুল থেকে ফিরছে। ছবিটি নগরের আগ্রাবাদ এক্সেস রোড থেকে তোলা -হেলাল সিকদার

ঘরবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন নগরের মানুষ। কিন’ কর্মমুখি মানুষ কর্মক্ষেত্রে ছুটছেন হাঁটুপানি ডিঙিনোর বিরক্তি ও বিড়ম্বনা নিয়ে। সকাল হতেই পোশাককর্মীদের পড়তে হয় সড়কপথের ঝক্কি-ঝামেলায়। এরপর বেসরকারি ও ব্যাংকে যাওয়া কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই।
ইপিজেডের একটি পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী বলেন, ‘ঠিক সময়ে গার্মেন্টসে যেতে না পারলে বেতন কাটা যায়। আবার বৃষ্টি হলে গাড়ি পাওয়া যায় না। গাড়ি পেলেও গাড়ি ভাড়া দিতে হয় দ্বিগুণ। আমরা যে কি করবো বুঝতে পারি না।’
খাতুনগঞ্জের ব্যাংক এশিয়ার কর্মকর্তা কার্তিক বলেন, ‘এ সপ্তাহে দুদিন বন্ধ থাকায় শনিবারে ব্যাংক খোলা রাখা হয়েছে। তাই অফিস যাচ্ছি। কিন’ আধঘণ্টার চেয়ে বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছি। একটা গাড়ি পাচ্ছি না, কোন সিএনজিও যাচ্ছে না। এ বিষয়ে পরিবহন ব্যবস’াপনায় যারা জড়িত, তাদের আন্তরিক হওয়ার দরকার।’
টানা বৃষ্টির কারণে গণ-পরিবহনের সংখ্যা কম ছিল। ফলে কোথাও হাঁটুপানি আবার কোথাও কোমর পানি ডিঙিয়ে কর্মজীবী মানুষদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে পরিবহন ব্যবস’া। অল্প কিছু যান চলাচল করতে দেখা গেলেও তারা বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। দূরত্বের পরিমাণ হিসেব না করে নগরীর অভ্যন্তরীণ বাসগুলো বাড়তি অংকের ভাড়া আদায় করছে। জলজটের কারণে হালিশহর ও আগ্রাবাদ এলাকার মানুষ যতটুকু বিপাকে পড়েছে অন্যান্য এলাকার মানুষ পরিবহন অসুবিধায় ততটুকুই বিপাকে পড়েছে।
আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ সহকারী অধ্যাপক রাফিয়া বেগম বলেন, ‘আমরা এই জলাবদ্ধতার কারণে পাঠক্রম সঠিকভাবে শেষ করতে পারি না। সব ছাত্রীদের পক্ষে নিয়মিত তিন-চার গুণ বাড়তি ভাড়া দিয়ে কলেজে আসাও সম্ভব হয় না। আমরা একজনের অসুবিধায় তাকে সাহায্য না করে উল্টো তার দুর্বলতার সুযোগ নিই। আমাদের এই নৈতিক দারিদ্রের কারণে আমরাই আমাদের শহরটাকে উন্নয়নের বিপরীতে ধাবিত করছি। এখানে স্কুল-কলেজগুলো ঠিক মত যে পাঠ কার্যক্রম চালাতে পারছে না, এ বিষয়ে দায়িত্বরত কারো আন্তরিক দৃষ্টি নেই বলে আমরা এগুতে পারছি না।’
বৃষ্টির কারণে গণপরিবহনের স্বল্পতা ও অলিগলিতে নোংরা পানি জমে থাকায় হালিশহর, আগ্রাবাদ, কদমতলী, পাঁচলাইশ, আব্দুল্লাহ খান রোড, কালামিয়া মুন্সী লেইন, মকবুল সওদাগর লেইন, কাপাসগোলা এলাকার মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে।
টানা তিনদিনের তুলনায় গতকাল শনিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল অধিক পরিমাণে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য মতে, শনিবার ৩টা পর্যন্ত নগরীর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১৭০.৮ মিলি মিটার। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে এবং বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের সম্ভাবনাও আছে।