দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী লিটনকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
Asoke Dev Litan-1

আদালতে দুই আসামির জবানবন্দিতে উঠে আসা টেরিবাজার এলাকার দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী লিটন নামে কথিত যুবলীগ কর্মীকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। গত ১০ এপ্রিল নগরের জেলরোড এলাকায় একটি ছিনতাই মামলায় গ্রেফতার হওয়া দুই কলেজছাত্র জালাল উদ্দিন সাইমুন ওরফে অন্তর ও সাইদুর রহমান ওরফে নিয়াজের জবানবন্দিতে লিটনের নাম উঠে আসে।
গত ১০ জুলাই আদালতে জবানবন্দিতে অন্তর জানায়, তারা দুজনই চকবাজার এলাকার বেসরকারি চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। গত ১০ এপ্রিল জেল রোডের মুখে ছোরার ভয় দেখিয়ে ফেরদৌস ওয়াহিদ নামে এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। টাকার ব্যাগটি নিয়ে নিয়াজ টেরিবাজারের রঘুনাথ মন্দিরের ভেতর দিয়ে রাস্তায় যাবার চেষ্টা করেন। এসময় লিটন ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে নিয়াজকে আটকে রাখেন। বিষয়টি তাদের এক ‘পলিটিক্যাল বড়ভাই’ কামরুল জামাল ফয়সালকে
অবহিত করেন। তখন ফয়সাল ওই মন্দিরে লিটনের কাছে গিয়ে নিয়াজকে ছাড়িয়ে আনেন। তবে টাকাগুলো লিটনের কাছ থেকে উদ্ধার করতে পারেননি।
কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মহসীন জানান, লিটন দুর্ধর্ষ এক ছিনতাইকারী। এর আগে একাধিকবার ছিনতাইসহ নানা অপরাধ সংঘঠনের অভিযোগে সে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়।
টেরিবাজার এলাকার বাসিন্দারা জানান, লিটনের পুরো নাম অশোক দেব লিটন। তার বাবার নাম অজিত দেব। কয়েববছর আগে টেরিবাজার রঘুনাথ বাড়ি এলাকার বাগানবাড়িতে শ্রী শ্রী জগদ্ধাত্রী নামে একটি মন্দির গড়ে তোলেন লিটন। এ মন্দিরের পাশে তার রয়েছে ইয়াবা বেচাকেনা ও সেবনের একটি আস্তানা। মন্দিরের আশপাশে লাগিয়েছেন তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা। এ আস্তানায় প্রতিদিন দিন-রাত বেচাকেনা চলে ইয়াবাসহ নানা প্রকার মাদকদ্রব্যের। ওই আস্তানার সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকেন নেপাল, রামু ও সজল নামে তিনজন।
পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়ন্ত্রিত কর্ণফুলী নদীর ১৪ নম্বর ঘাট ইজারাকে কেন্দ্র করে নগর ভবনের সামনে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নামধারী দুগ্রুপে সংঘর্ষ গোলাগুলি ও ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অশোক দেব লিটনসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়। বাকি দুজন হলেন-অভি পাল ও অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম। এর আগে ২০১০ সালের ৩ আগস্ট দুপুরে র্যাব পরিচয় দিয়ে জিইসি মোড় থেকে ১১ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে এই অশোক দেব লিটনসহ তিনজনকে একই মাসের ১০ তারিখে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এসময় ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস ও ছিনতাই হওয়া ২৫ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় করা মামলায় কয়েকমাস জেল খাটেন লিটনসহ অপর তিনজন। জামিন মুৃক্তি পেয়ে ফের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন লিটন।
স’ানীয় সূত্র আরও জানায়, টেরিবাজারের বাগান বাড়িতে গড়ে তোলা জগদ্ধাত্রী মন্দিরকে পুঁজি করে ‘তান্ত্রিক’ চিকিৎসার নামে লোকজনের সাথে প্রতারণাও করে আসছেন এই লিটন।
কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মহসীন জানান, লিটনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।