সরকারি উদ্যোগের দিকে তাকিয়ে প্রবাসীরা

দুবাইয়ে বাংলাভাষী শিক্ষার্থীদের জন্যে নেই বাংলা স্কুল

কামরুল হাসান জনি, ইউএই

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয় বরং ভিন্ন ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, শিক্ষার প্রসারেও শহরটি বেশ সমৃদ্ধ। তবে ভিনদেশী ছেলেমেয়েদের নিজস্ব ভাষা চর্চায় ইন্ডিয়ান ও ব্রিটিশ কারিকুলামসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও নেই কোনো ‘বাংলা স্কুল’। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বাংলা চর্চা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রবাসীরা। বেশ কয়েকবছর পূর্বে দুবাইয়ে একটি বাংলা স্কুল থাকলেও অব্যবস’াপনায় সেটি বন্ধ হয়ে গেলে পুনরায় চালু করার আর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আমিরাতের অন্য দুটি প্রদেশ আবুধাবি ও রাস আল খাইমায় দুটি বাংলা স্কুল রয়েছে। আবুধাবিস’ শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল দুবাই হতে ১৪২ কিলোমিটার ও রাস আল খাইমাহ বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল প্রায় ১০৬ কিলোমিটার দূরে। অতি দূরত্বের কারণে দুবাই ও উত্তর আমিরাতের শিক্ষার্থীদের যাওয়া হয় না এ দুটো প্রতিষ্ঠানে।
বাংলা স্কুলের অভাবে বাংলাদেশি ছেলেমেয়েরা যেমন বাংলা ভাষা চর্চা থেকে পিছিয়ে পড়ছে তেমনি বাংলা সংস্কৃতি চর্চা থেকেও বহুগুণ দূরে তাদের অবস’ান। কমিউনিটির ছোটখাটো ঘরোয়া আয়োজনই তাদের বাংলায় কথা বা চর্চা করার জায়গা।
জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাত প্রদেশে সাত লাখের মত প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন। প্রায় ২৫ হাজার প্রবাসী পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করেন সেখানে। অলিখিত হিসেবে এদের ৬০ ভাগই থাকেন দুবাই ও উত্তর আমিরাতে। কর্মব্যস্ততার মাঝে সন্তানের পড়ালেখা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন তারা। কিন’ সন্তানদের পড়ালেখার জন্য নেই পর্যাপ্ত বাংলা স্কুল। বাধ্য হয়ে তাই অভিভাবকরা ছুটেন ভিনদেশী কারিকুলামে পরিচালিত স্কুলগুলোতে। ভিন্ন কারিকুলামে পাঠালেও তারা সন্তানদের বাংলা সিলেবাস ও বাংলা ভাষা চর্চার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
শারজা কমিউনিটির নেতা জাহাঙ্গীর আলম রুপু জানান, ‘প্রবাসীদের প্রায় ৬০ ভাগ লোক আমরা দুবাই ও উত্তর আমিরাতে বসবাস করছি। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় এখানে কোনো বাংলাদেশি স্কুল নাই। স্কুলের অভাবে বাচ্চাদের ইন্ডিয়ান স্কুল ও ইংলিশ কারিকুলামে পড়াতে হচ্ছে। অথচ দুবাইয়ের মত শক্তিশালী বাংলা কমিউনিটি চাইলে এখানে একটি বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’
বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল দুবাইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি ও দুবাই বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা আইয়ুব আলী বাবুল বলেন, ‘কয়েকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও এর কোনো ফলাফল আসেনি। তবে নতুন করে কমার্শিয়ালভাবে কেউ উদ্যোগ নিলে বা বাংলাদেশ সরকার সরাসরি ভূমিকা পালন করলে দুবাইয়ে বাংলাদেশি স্কুল প্রতিষ্ঠা করার সম্ভব। এ ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত কোনো সহযোগিতা লাগলে আমি সেরাটাই দেয়ার চেষ্টা করবো।’
দুবাইয়ের মত শহরে বাংলা স্কুল না থাকাকে আফসোসের উল্লেখ করে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে সম্মিলিত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে কমিউনিটি নেতা ও আরব আমিরাত বিএনপি’র সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ কনস্যুলেট উদ্যোগ নিলে অথবা কনস্যুলেটের তত্ত্বাবধানে ৫ সদস্যের একটি কমিটি করে দিলে এই কাজের অগ্রগতি হতে পারে। ওই কমিটি বাংলা কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বাংলাদেশি স্কুল প্রতিষ্ঠায় বাস্তবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে।’
উত্তর আমিরাতের শারজা বা আজমান শহরের মাঝামাঝি কোনো এলাকায় একটি বাংলাদেশি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা গেলে যেমন এই অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের বাংলা শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়বে তেমনি চাপ কমবে অভিভাবকদের। সরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগে দ্রুত দুবাইয়ে একটি বাংলাদেশি স্কুল গড়ে উঠবে, এমনটাই প্রত্যাশা প্রবাসীদের।