দু’দেশের মিলন মেলা

রাজু কুমার দে, মিরসরাই
simantahat-photo-1

দু’দেশের মানুষের মিলনমেলা ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় অবসি’ত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত হাট।
মিরসরাইয়ের সীমান্তবর্তী করেরহাট ইউনিয়নের পার্শবর্তী ছাগলনাইয়ার রাধানগর গ্রামে অবসি’ত বাংলাদেশ-ভারতের তৃতীয় সীমান্তহাট। সপ্তাহের মঙ্গলবার এ হাট বসে। হাটে রয়েছে দুই দেশের ৫০টি দোকান।
গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত হাটে গিয়ে দেখা গেছে, ভেতরে দু’দেশের শত শত মানুষ ওই হাটে বিকিকিনি করছে। কেউ পণ্য দেখছে, কেউ ঘুরে ঘুরে সেলফি
তুলছে। যেন একটি পর্যটন এলাকা। বাংলাদেশিরা হিন্দিতে কথা বলে ভারতীয়দের সাথে ঠাট্টা করছে। ভারতীয়রাও খুব আনন্দের সাথে তা গ্রহণ করছে। ৫০টি দোকানের মধ্যে ২৫টি বাংলাদেশের অন্য ২৫টি ভারতীয়দের। তবে ভারতীয়দের দোকানে বিকিকিনি বেশি দেখা গেছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা মাছ, শুঁটকিসহ বিভিন্ন দেশীয় পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন। কেউ চাইলে টাকা বাট্টা করে নিতে পারে বাজারের ভেতরে অবসি’ত মানি এক্সচেঞ্জ অফিসে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত হাটে কঠোর নিরাপত্তা রয়েছে। বাংলাদেশ গেটে দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি ও ভারতীয় গেটের দায়িত্বে রয়েছে বিএসএফ।
জানা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে ২০ টাকা মূল্যে টিকেট নিয়ে বাজারে প্রবেশ করতে হবে। বাংলাদেশিরা তাদের ভোটার আইডি কার্ড দেখিয়ে নির্দিষ্ট রেজিষ্ট্রারে নাম, বয়স ও স্বাক্ষর করে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া যায়। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে জন্ম নিবন্ধন কিংবা বিদ্যালয়ের আইডি কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। যে কোন বাংলাদেশি সর্বোচ্চ ১০০শ’ ডলার পর্যন্ত কেনা বেচা করতে পারবেন। সপ্তাহে প্রতি মঙ্গলবার এই হাট বসে। উভয় দেশের সীমান্তে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারীদের মাঝে দোকানগুলোর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখানে সব ধরনের বাংলাদেশি ও ভারতীয় পণ্য পাওয়া যায়।
করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন বলেন, সীমান্ত হাটে বিকিকিনি ভালো হয়। অনেক ভারতীয় বাংলাদেশে থাকা তাদের আত্মীয়দের দেখতে সীমান্ত বাজারে এসে থাকে। এতে করে দুই দেশের মানুষের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন সৃষ্টি হচ্ছে।
তবে ভারতীয় অনেক পণ্য মেয়াদ উত্তীর্ণ বলে তিনি অভিযোগ করেন।
উল্লেখ্য, গত ২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে দু’দেশের মধ্যকার এই হাটটি, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী নির্মলা সীতা রাম, হাই-কমিশনার পঙ্কজ শরণসহ দুই দেশের একাধিক এমপি, সচিব ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তার উপসি’তিতে এক অনুষ্ঠানে এ হাট উদ্বোধন করা হয়। মঙ্গলবারে বাজারটি উদ্বোধন করায় প্রতি মঙ্গলবার হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।