দুদকের মামলায় কারাবন্দি কাস্টমস কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর জামিন নামঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় কারাবন্দি চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন হাজারী ও তার স্ত্রী হালিমা বেগমের জামিন নামঞ্জুর করেছে আদালত।
গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ-১ আকবর হোসেন মৃধা তাদের জামিন আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ফলে দুর্নীতির মামলায় এ দম্পতিতে থাকতে হচ্ছে কারাগারে। জানা গেছে, কাস্টমস কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের স্ত্রী হালিমা বেগম একজন গৃহিণী। সাধারণ গৃহিণী হয়েও তিনি ৩ কোটি ২ লাখ ৩২ হাজার টাকার সম্পদের মালিক।
দুদকের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম কাস্টমস অ্যাপ্রেইজার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন আমজাদ হোসেন হাজারী। ২০০৫ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তার স্ত্রী হালিমা বেগমের নামে স’াবর-অস’াবর সম্পদ অর্জন করেন। স্ত্রীর নামে আয়কর নথি খুলেন। এতে আয়ের খাত দেখানো হয় পোল্ট্রি খামার। অথচ বাস্তবে তার অস্তিত্ব নেই। এজাহারে বলা হয়, ২০১১-২০১২ সাল পর্যন্ত হালিমা বেগম আয় দেখান ৩ কোটি ৬৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭৩৫ টাকা। ব্যয় দেখান ৮৮ লাখ ৬৯ হাজার ৫৭৯ টাকা। প্রদর্শিত ৩ কোটি ৬৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭৩৫ টাকা আয়ের মধ্যে নগরীর পতেঙ্গা বন্দরটিলা মৌজায় ১০ শতক জমির উপর নির্মিত পোল্ট্রি খামার থেকে আয় দেখান ৩ কোটি ২৬ লাখ ৬৭ হাজার ৫৫০ টাকা। বাকিগুলো অন্য খাত থেকে। এছাড়া আয়কর বিবরণীতে হালিমা কোনো দায়দেনা উল্লেখ করেননি। দুদকের তদন্তকালেও দায়দেনা পাওয়া যায়নি।
দুদকের কৌসুলি মো. মাহমুদুল ইসলাম জানান, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এ দম্পতির বিরুদ্ধে গত ৬ জানুয়ারি নগরীর ডবলমুরিং থানায় মামলা করে দুদক। ১৪ জানুয়ারি তারা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাদের চার সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের আদেশ দেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন এ দম্পতি। শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।
প্রসঙ্গত, কাস্টমস কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন হাজারী ২০০৮ সালে চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে চট্টগ্রাম নগর লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। সমালোচনার মুখে ২০১০ সালে পদটি ছেড়ে দেন তিনি। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম-কুমিল্লা-সিলেট কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসার্স এক্সিকিউটিভ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।