গ্রুপ থিয়েটার উৎসবের ৫ম দিন

‘দুতিয়ার চাঁন’ মঞ্চায়নে আশা জাগানিয়া সাড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
Untitled-1

আঠার শতকের শেষের দিকে এ অঞ্চলে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের যে সূচনা এ নাটকে তারই ইঙ্গিত বহন করে। একদিকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সহায়তায় দেশীয় জমিদার ও ভূ-স্ব্বামীদের ক্ষমতা ও উত্তরাধিকার রক্ষার জোর প্রচেষ্টা; অন্যদিকে সামাজিক কারণে ক্ষমতাবানদের ক্রীড়নকে পরিণত হওয়া নারী হৃদয়ের আকুতি এবং শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলিত পেশীর ঐকতানেই রচিত নাটক ‘দুতিয়ার চাঁন’।
চট্টগ্রাম গ্রুপ থিয়েটার ফোরাম এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘মানবতার সহযাত্রী মুক্তির নাটক আমার’ শীর্ষক গ্রুপ থিয়েটার উৎসবের ৫ম দিনে গতকাল জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে অরিন্দম নাট্য সম্প্রদায় পরিবেশন করে দীপংকর দে রচিত ও আকবর রেজা নির্দেশিত এই ‘দুতিয়ার চাঁন’ নাটকটি। এটির নির্দেশনা উপদেষ্টা ছিলেন নাট্যজন মুনীর হেলাল।
এ নাটকের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে হালদা কর্ণফুলী পেরিয়ে শংখ নদীর মোহনায় দুর্বিপাকে দৈবক্রমে বেঁচে যাওয়া এক কন্যা শিশুকে কেন্দ্র করে। জমিদার নূর মোহাম্মদ সিকদারের নিঃসন্তান স্ত্রী জুরামন বিবির মাতৃস্নেহে পালিত আলকুমারী বাড়ির সীমাবদ্ধ চৌকাঠের শাসন বাঁধনের মধ্যে থেকেও খুঁজে পায় মনের মানুষ ছয়ফুরকে। এক সময় যাকে কাজের সন্ধানে চলে যেতে হয় তখনকার দিনে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হিসাবে পরিচিত সুদূর রেঙ্গুন। একদিকে নানা দুর্বিপাকে লড়াই করে বেঁচে থাকা গ্রামের অতি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষেরা বৃটিশ তাবেদার, জমিদারের নানা অন্যায়-অত্যাচারে বিরুদ্ধে আবুল খায়ের মাস্টারের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে এবং অন্যদিকে বংশ রক্ষার অজুহাতে পালিত কন্যার সাথে জমিদারকে বিয়েতে রাজি করানোর জন্য নানা ছল ও কৌশলের আশ্রয় নিয়ে নিজের উদ্দেশ্যকে হাসিল করতে একের পর এক কঠিন শর্ত দেয়ার পাশাপাশি নানা দুরভিসন্ধি আঁটতে থাকে চাচা মৌলভী মকবুল। প্রেমের টানে সাগর পাড়ির কঠিন শর্তে রাজি হয় ছয়ফুর ও আলকুমারী। উত্তাল সাগর পাড়ি দেয়ার সময় তীরে পৌঁছতে না পৌঁছতেই সাগরের উত্তাল ঢেউ আর প্রকৃতির রুদ্ররোষে সলিল সমাধি ঘটে এ দুটি প্রাণের।
আলকুমারী ও ছয়ফুরের সকল আশা ভরসা চোখের নোনা জলে ভাসতে ভাসতে শেষে সাগরের অতলে হারিয়ে যায়। আশা জাগানিয়া ‘দুতিয়ার চাঁন’ দেখা দিতে না দিতেই মিশে যায় দূর দিগন্তে, যেখানে সাগর আকাশ একাকার।
এতে অভিনয় করেন যথাক্রমে কাজল সেন, নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, শহীদুল মালিক, কংকন দাশ, শারমিন আঁখি, শাহেদা আক্তার মঞ্জু, বিবি আয়েশা (সুমি), জান্নাতুন নাঈম প্রিয়া, নূরজাহান আক্তার, আকবর রেজা, সাইফুল আলম, শেখ আনিস মঞ্জুর, মো. ইয়াসিন আরাফাত, থোলাইন রাখাইন বুবু, শান্তু চক্রবর্তী, সজীব সেন, আবদুল আজিজ, অভিজিৎ আচার্য্য, সজীব সেন, মিঠু তলাপাত্র, রুবেল চৌধুরী, সাবিরা সুলতানা বীনা, অনিকা দাশ চৌধুরী।
এছাড়া মুক্তমঞ্চে পাপেট শো ম্যামনা পরিবেশন করে তারুণ্যের অভিযাত্রা। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন ঘুঙুর নৃত্যকলা কেন্দ্র এবং একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন অঞ্চল চৌধুরী, তৈয়বা জহির আরশি। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন বিকিরণ বড়ুয়া।
আজ
আজ মিলনায়তনে আহম্মদ কবীর রচিত ও মোস্তফা কামাল যাত্রা নির্দেশিত নাটক ‘ফুলজান’ পরিবেশন করবে নাট্যাধার। মুক্তমঞ্চে শিশু নাটক ‘আবর্তন’ পরিবেশন করবে কুঁড়ির মেলা। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করবে নৃত্য নিকেতন। একক আবৃত্তি করবেন মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম ও আয়শা আকতার শিমু।