দুই ভাইয়ের চোখ তুলে এসিড দেয়া মামলার শুনানি ১১ সেপ্টেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাঙ্গুনিয়ায় দুর্ধর্ষ আইয়ুব বাহিনীর হাতে চোখে খেজুর কাঁটা গেঁথে প্রকাশ্যে এসিড ঢেলে বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধার দু’সন্তান। ১৯৯১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সোবহানের দুই সন্তান কবির আহমদ ও সবুর আহমদের উপর এমন বর্বর নির্যাতন চালায় আইয়ুব বাহিনী। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর এ মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন ৫ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নুরে আলম এর আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সোবহানের দু’সন্তানের চোখ উৎপাটন করে এসিড দেওয়ার মামলায় সালাউদ্দিন কাদেরের ক্যাডার আইয়ুব বাহিনীর আইয়ুবসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ১৯৯৩ সালের ১৬ আগস্ট বিচার শুরু করে আদালত।
অভিযুক্ত অন্যরা হলেন- আবুল হাশেম, আবদুল হক, আবদুল ছালাম, জাহাঙ্গীর, ইব্রাহীম, সোলেমান, গোলাম কাদের, রশিদ আহমদ, মকবুল হোসেন, জাফর, তছলিম, আবুল হাসেম।
আদালত সূত্রে আরো জানা যায়, বর্বরতার বিচার চেয়ে মামলা করায় ওই বছরের ৩০ অক্টোবর যাত্রীবাহী জিপ থেকে মুক্তিযোদ্ধা সোবহানকে ধরে নিয়ে যায় আইয়ুব বাহিনী। ১২ দিন পর দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হাত পা এবং গলা কাটা অবস’ায় লাশ পাওয়া যায় মুক্তিযোদ্ধা সোবহানের।
১৯৯৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকারের আমলে সংসদে মুক্তিযোদ্ধা সোবহান খুন ও তার দুই পুত্রের উপর সালাউদ্দীন কাদেরের ক্যাডার আইয়ুব বাহিনীর বর্বরতার বিচার দাবি করে তৎকালীন সাংসদ বর্তমান স্বাস’্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বক্তব্য দেন। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে এসিড দগ্ধদের চিকিৎসার জন্য ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুক্তিযোদ্ধা সোবহান খুনের মামলায় ২১ জন আসামির মধ্যে সন্ত্রাসী আইয়ুবসহ ১৭ জনের যাবজ্জীবন সাজা হয়।
২৬ বছর ধরে এ মামলার রায়ের জন্য অপেক্ষায় আছে জানিয়ে এসিড দগ্ধ ভিকটিম কবির ও সবুরের ভাই বাদি ফরিদুল আলম বলেন, ‘আমার দুই ভাইয়ের উপর নির্যাতনের বিচার চাইতে গিয়ে খুন হন আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবা। আমাকেও অপহরণ করে আইয়ুব বাহিনী। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাও বিচারাধীন আছে। প্রাণভয়ে আজ ২৬ বছর ধরে রাঙ্গুনিয়ার নিজ গ্রামে যেতে পারি না আমরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবার খুনের মামলায় তাদের সাজা হয়েছে। কিন’ তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এসেছে। এছাড়া একাধিক খুন, এসিড নিক্ষেপ, অস্ত্র, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৪/১৫টি মামলা রয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে থানায় সাজা পরোয়ানাও আছে। তারপরও তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
মামলার সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট লোকমান হোসেন বলেন, এ পর্যন্ত আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন ৩১ জন সাক্ষী। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ৫ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নুরে আলমের আদালতে এ মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য দিন ধার্য আছে।