দীপ্তিময় আমাদের রবীন্দ্রনাথ

মনিরা মিতা

বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে যিনি অনন্য প্রয়াস রেখেছেন এবং বিশ্রামহীনভাবে সারাটা জীবন রসদ জুুগিয়েছেন সাহিত্যের মহাসমুদ্রে তিনি আমাদের প্রাণের কবি, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্র রচনায় সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা সাহিত্য ভাণ্ডার। জীবনের আনন্দ বেদনায়, সুদিন-দুর্দিনে, সব স্তরেই তিনি তুলে নিয়েছেন কলম। বাংলা ভাষার সৌন্দর্য বিকাশ, শোভাবর্ধন সবই যেন বিকশিত হয়েছে তার লেখায়। তার কবিতা, গান বাংলা সাহিত্যের অলঙ্কার। তার প্রতিটি লেখাই প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর। দক্ষ কারিগরের মতো শব্দের পর শব্দ গেঁথেছেন নিপুণ হাতে, কোথাও যেন কোনো খুঁত নেই। তার লেখা ছড়িয়ে গেছে জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সব স্তরে। অসামপ্রদায়িক চিন্তার মহামানব তিনি। তার লেখায় সমাজের নানা কুসংস্কার সংশোধনের প্রচেষ্টা আমাদের প্রতিনিয়ত আশান্বিত করে। রবীন্দ্রনাথের লেখায় আমরা পাই দিন বদলের স্বপ্ন আর নতুন দিনের অভিমুখে যাত্রার আহ্বান।
বিশ্বকবি ১৯৬১ সালের ৭ মে, ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকো নামক স্থানের এক সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তার মাঝে ধরা দেয় কাব্যিক শক্তি। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ্তুবনফুল্থ প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথের প্রকাশিত প্রথম ছোটগল্প ‘ভিখারিণী’। তাকে বাংলা ছোটগল্পের জনকও বলা হয়। বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভাবান লেখক রবীন্দ্রনাথ। তিনি ছিলেন একাধারে একজন কবি, ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, সঙ্গীত রচয়িতা, অভিনেতা, দার্শনিক, সুরকার, গায়ক, চিত্রশিল্পী, শিক্ষাবিদ, সমাজসেবী ও সম্পাদক।
রবীন্দ্রনাথের মোট কাব্যগ্রন্থ ৫৬টি, ছোটগল্প ১১৯টি, উপন্যাস ১২টি, গীতিপুস্তক ৪টি, নাটক ২৯টি, ভ্রমণ কাহিনী ৯টি, কাব্যনাট্য ১৯টি, গান ২২৩২টি, অভিনীত নাটক ১৩টি, চিঠিপত্রের বই ১৩টি এবং অঙ্কিত চিত্রের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার।
প্রথম ভারতীয় হিসেবে রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার লাভ করেন ১৯১০ সালে তার ্তুগীতাঞ্জল্থি কাব্যের জন্য। তবে ২০০৪ সালের ২৪ মার্চ শান্তিনিকেতন থেকে তার নোবেল পদকটি চুরি হয়ে যায়। ব্রিটিশ সরকার তাকে ১৯১৫ সালে ‘স্যার’ উপাধি প্রদান করেন কিন্তু পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ১৯১৯ সালের এপ্রিলে তিনি ‘স্যার’ উপাধি বর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ১৯৩৬ সালে ডি-লিট উপাধি দেয় এবং ১৯৪০ সালের ৭ আগস্ট অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডি-লিট উপাধি প্রদান করেন।
রবীন্দ্রনাথের লেখা বাংলার রূপকে আরো মাধুর্যমণ্ডিত করে তুলেছে, দিয়েছে নতুন নতুন মাত্রা। রবীন্দ্রনাথের শব্দ ব্যবহারের নিপুণ সাবলীল ভঙ্গি মুগ্ধ করেনি এমন সাহিত্য প্রেমিক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তার সৃষ্ট সাহিত্য বাঙালি জাতির প্রাণ জাগ্রতের ধারা।