দিয়াজ হত্যা মামলা চবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আলমগীর টিপুর ভাই গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যা মামলায় মোহাম্মদ আরমান নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। গতকাল বুধবার দুপুরে নগরীর চান্দগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিকালে আরমানকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আরমান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০০৯-১০ শিড়্গাবর্ষের ছাত্র এবং চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপুর ভাই। একই মামলায় আলমগীর টিপুও আসামি।
মামলার তদনত্ম কর্মকর্তা সিআইডি’র এএসপি জসিম উদ্দিন জানান, ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রায় আড়াইবছর পর আসামি আরমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উলেস্নখ্য, ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ২ নম্বর গেট এলাকার নিজ বাসা থেকে দিয়াজের ঝুলনত্ম লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দিয়াজ চবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ঁ ৭ম পৃষ্ঠার ৫ম কলাম
ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ছিলেন। এ ঘটনার ২২ দিন আগে দিয়াজসহ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের চার নেতার বাসায় তা-ব চালানো হয়। ৯৫ কোটি টাকার দরপত্রের ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতির অনুসারী নেতাকর্মীরা ওই তা-ব চালায় বলে অভিযোগ উঠে।
২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিপলু কুমার দের আদালতে আত্মহত্যা, না হত্যা এ প্রশ্ন উঠায় কবর থেকে দিয়াজের লাশ তুলে পুনঃময়নাতদনেত্মর আবেদন করে সিআইডি। ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর প্রথম ময়নাতদনত্ম প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছিল, হত্যা নয় দিয়াজ আত্মহত্যা করেছেন।
২০১৬ সালের ২১ নভেম্বর দিয়াজের প্রথম ময়নাতদনত্ম হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। এরপর আদালতের নির্দেশে দিয়াজের লাশের দ্বিতীয়বার ময়নাতদনত্ম করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা।
২০১৭ সালের ২৭ জুলাই দেওয়া দ্বিতীয় ময়নাতদনত্ম প্রতিবেদনে দিয়াজকে আঘাতের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে উলেস্নখ করা হয়।
এ বিষয়ের উপর ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবর আদালতে বাদি নারাজি আবেদন করেন। এসময় আদালত দিয়াজের দ্বিতীয় ময়নাতদনত্ম প্রতিবেদন অনুসরণ করতে সংশিস্নষ্টদের নির্দেশ দেন। এর আগে ২০১৬ সালের ৭ আগস্ট দিয়াজের মায়ের করা আবেদনের প্রেড়্গিতে আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং গ্রেফতারের নির্দেশ দেন আদালত।
এর আগে প্রথম ময়নাতদনত্ম প্রতিবেদনে ‘আত্মহত্যার’ কথা এলেও তা প্রত্যাখ্যান করে আদালতে হত্যা মামলা করেন দিয়াজের মা। মামলায় আসামি করা হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জামশেদুল আলম চৌধুরী, চবি ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি আলমগীর টিপু, কর্মী রাশেদুল আলম জিশান, আবু তোরাব পরশ, মনসুর আলম, আবদুল মালেক, মিজানুর রহমান, আরিফুল হক অপু ও মোহাম্মদ আরমান।