দায়িত্বে অবহেলা শাস্তি সাময়িক বরখাস্ত!

সরকার হাবীব

পুলিশি হেফাজত থেকে আসামি পালিয়ে যাওয়া কোনো কঠিন কাজ নয়। কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকলেও আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছেই। সাম্প্রতিক ঘটনায় এর বড় প্রমাণ। গত মঙ্গলবার আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়েছে মাসুদ রানা নামের মাদক মামলার আসামি। এর আগে গত এপ্রিল মাসেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল। পুলিশের কড়া নিরাপত্তা থাকার পরও পালিয়েছিল হুমাউন রশিদ মামুন নামের অস্ত্র ও ডাকাতি মামলার এক আসামি। এ নিয়ে গত পাঁচ মাসের ব্যবধানে দুজন আসামি পুলিশি হেফাজত থেকে পালানোর ঘটনা ঘটেছে।

গত মঙ্গলবারের ঘটনার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস’া নিয়েছে নগর পুলিশ। দায়িত্বে অবহেলার শাস্তি হিসেবে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন আকবর শাহ থানার উপ-পরিদর্শক ফখরুল ইসলাম ও নগর গোয়েন্দা বিভাগের প্রসিকিউশন শাখার কনস্টেবল হাসান চৌধুরী।
আসামি পালানোর ঘটনাকে দুঃজনক বলে অবহিত করেছেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি শেখ ইফতেখার সায়মুল চৌধুরী। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশের দায়বদ্ধতার অভাব রয়েছে। দায়ী ব্যক্তিদের সাময়িক বরখাস্ত করে কর্তৃপক্ষ যে শাস্তি দিয়েছেন তা পর্যাপ্ত নয় বলেও মত দেন তিনি।
তিনি বলেন, বরখাস্ত করে কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব শেষ নয়। আসামিদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস’া করা জরুরি।

গত ২ এপ্রিল জেলা হাজতখানা থেকে কারাগারে নেওয়ার পথেহুমাউন রশিদ মামুন নামের এক আসামি পালিয়ে যায়। সেদিন আসামি মামুনকে পুলিশ আদালতে উপস’াপন করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে হাজতখানা থেকে অন্যান্য আসামিদের সাথে মামুনকেও কারাগারের উদ্দেশে গাড়িতে তোলার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশি হেফাজতে গাড়িতে তোলার কোনো এক সময় পালিয়ে যায় ওই আসামি।

আদালতসূত্রে জানা যায়, হুমাউন রশিদ মামুন অস্ত্র মামলার আসামি। মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার শান্তির হাট এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় আসামির কাছ থেকে একটি এক নলা বন্দুকও উদ্ধার করে পুলিশ। তার নামে প্রায় ৫টি অস্ত্র ও ডাকাতির মামলা রয়েছে মিরসরাই থানায়।
গত মঙ্গলবার পুলিশের হাত ফসকে পালিয়েছে মাদক মামলার এক আসামি। তার নাম মাসুদ রানা। রিমান্ড শুনানি করার জন্য কারাগার থেকে মাসুদ রানাকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। পুলিশের করা রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে মহানগর হাকিম শফি উদ্দিন আসাামিকে নগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখায় জিজ্ঞাবাদের অনুমতি দেয়। প্রসিকিউশন শাখায় নিয়ে যাওয়ার পথে আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যায় মাসুদ রানা।
আদালতসূত্রে আরও জানা যায়, গত ১৭ জুলাই মাসুদ রানা ৫০০ ইয়াবাসহ আকবর শাহ থানা পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয়। এ ঘটনায় আকবরশাহ থানায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করেন পুলিশ। এরপর থেকেই আসামি মাসুদ রানা কারাগারে ছিলেন।