দক্ষিণ জেলা বিএনপি : নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে নতুন মোড়

সালাহ উদ্দিন সায়েম

দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতৃত্ব নির্বাচন নতুন মোড় নিয়েছে। অব্যাহতি প্রত্যাহারের পর আবার দলে ফিরে আসা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েলের নাম দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। আর সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে আলোচিত সাবেক জেলা ছাত্রদল নেতা লিয়াকত আলীর নাম।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির ‘অভিভাবক’ হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় এক প্রভাবশালী নেতা তাদের নাম দলের চেয়ারপারসনের কাছে প্রস্তাব করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্য ও চট্টগ্রামে বিএনপির তিনজন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যানসহ আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এতে সম্মতি দিয়েছেন। সম্মতি দেওয়া দুই বিএনপি নেতার সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
তবে এ দুই নেতার বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। খালেদা জিয়া গুলশান কার্যালয়ে তাদেরকে ডেকে এ নিয়ে কথা বলতে পারেন বলে দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে গত এক বছর ধরে জল কম ঘোলা হয়নি। নেতৃত্বের জন্য অনেক নেতার নাম দফায় দফায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের কাছে প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু নেতৃত্বের তালিকাটি নানা রাজনৈতিক সমীকরণে একের পর এক পরিবর্তন হতে থাকে।
তবে কি এবার চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব ?
দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকরা দক্ষিণ জেলায় যুবদল কিংবা ছাত্রদলের একজন নেতাকে বিএনপির নেতৃত্বে আনতে চান। এ লক্ষ্যে সাধারণ সম্পাদক পদে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি লিয়াকত আলীকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আর জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর বয়স আর বাধ্যক্যজনিত কারণে তাঁকে এ পদের জন্য আর উপযুক্ত মনে করছেন না দলের চেয়ারপারসনের কাছে জুয়েলের ব্যাপারে সম্মতি দেওয়া এক কেন্দ্রীয় নেতা।
জাফরুলের জায়গায় জুয়েল উপযুক্ত হবে বলে মনে করেন বিএনপির এ কেন্দ্রীয় নেতা।
নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে জাফরুল ইসলাম চৌধুরী কিছু জানেন না বলে গতরাতে সুপ্রভাতকে জানিয়েছেন।
কিন্তু সভাপতি পদে শাহজাহান জুয়েলের নাম প্রস্তাব করা হলেও তিনি বিষয়টা নিয়ে সুপ্রভাতের কাছে পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করেছেন।
তিনি প্রথমে বলেন, ‘ম্যাডাম যদি আমাকে যোগ্য মনে করে দায়িত্ব দেন তাহলে তো তা পালন করা আমার কর্তব্য হবে।’
এরপর পটিয়া আসনের সাবেক এ সংসদ সদস্য বললেন, ‘ম্যাডাম যদি আমাকে ডেকে এ ব্যাপারে মতামত জানতে চান, তাহলে আমি উনাকে বলবো, যারা বিগত নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং আগামী নির্বাচনের জন্য যাদের সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে তাদের যেন কমিটিতে না রাখেন। তরুণ নেতাদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে মত দেবো।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন যদি এ মতামতে সায় দেন তাহলে শাহজাহান জুয়েল তাঁর অনুসারী দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি বদরুল খায়ের চৌধুরীর নাম কমিটিতে রাখার প্রস্তাব করবেন।
দলীয় সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের ব্যাপারে মূলত ভূমিকা রাখছেন দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান। তাঁর সাথে দীর্ঘ সময় ধরে গভীর সম্পর্ক ছিল জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর। কিন্তু গত ছয় মাস আগ থেকে তাঁদের সম্পর্কে ফাটল ধরে। দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে জাফরুলের ওপর অসন্তুষ্ট মোরশেদ খান।
দলীয় সূত্র জানায়, মোরশেদ খানের সাথে জাফরুলের দূরত্বের সুযোগটা লুফে নেন বাঁশখালী গণ্ডামারা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী। তিনি মোরশেদ খানের কাছে ভিড়ে যান। মোরশেদ খানও লিয়াকতকে কাছে টেনে নেন। বাঁশখালী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাফরুল ইসলামের সাথে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে লিয়াকতের। গত ছয় মাস ধরে ঢাকা ও চট্টগ্রামে মোরশেদ খানের সাথে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন তিনি।
বছর খানেক আগে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি পদে পরিবর্তন না এনে কেবল সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারক পর্যায়ে।
তখন জাফরুলকে ফের সভাপতি আর জেলা বিএনপির সহসভাপতি এনামুল হক এনামকে সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য প্রায় চূড়ান্ত করা হয়।
কিন্তু দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে প্রত্যাশী একজন নেতার বিরুদ্ধে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদককে ‘গাড়ি উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি’র অভিযোগ উঠার পর আটকে যায় এই নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া।