দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি হচ্ছে

কেন্দ্র থেকে ঘোষণা হতে পারে আগামী সপ্তাহে

সালাহ উদ্দিন সায়েম

বিএনপি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার ১৫১ সদস্যের মেয়াদোত্তীর্ণ কার্যনির্বাহী কমিটি অবশেষে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় দক্ষিণ জেলাকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। এরই অংশ হিসেবে দক্ষিণ জেলার কার্যনির্বাহী কমিটি ভেঙে সম্মেলন করার লক্ষ্যে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা। দলীয় সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
২০১৭ ও ২০১৫ সালে তিন দফা দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন’ নেতাদের মধ্যে সমন্বয় না হওয়ার কারণে সেসব উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
২০০৯ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি গঠিত হয়। কমিটির জাফরুল ইসলাম চৌধুরী সভাপতি ও অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। নেতাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে ২০১১ সালে এ কমিটি পুনর্গঠন হয়। এ প্রক্রিয়ায় শেখ মহিউদ্দিনকে সরিয়ে গাজী শাহজাহান জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। জাফরুল ইসলাম ও শাহজাহান জুয়েলের নেতৃত্বে ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির বয়স প্রায় ৮ বছর চলছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার ১১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কমিটির আহ্বায়ক যিনি হবেন তিনি সম্মেলনে নতুন কমিটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না-কেন্দ্র থেকে এমন শর্ত দেওয়া হয়েছে। এ শর্ত মেনে দক্ষিণ জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী কমিটির আহ্বায়ক হতে দলের হাইকমান্ডের কাছে ইচ্ছা পোষণ করেছেন বলে দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে।
জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর কাছে গতকাল এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দলীয় সূত্র মতে, আহ্বায়ক কমিটিকে জেলার সম্মেলন করার লক্ষ্যে আগে দক্ষিণ জেলার আওতাধীন সকল উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন কমিটি গঠন করতে হবে।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহসভাপতি আহমদ খলিল খান সুপ্রভাতকে বলেন, ‘সকল উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নের কমিটি গঠন করা খুব কঠিন কাজ। আর এটা বয়োজ্যেষ্ঠ নেতার পক্ষে করা সম্ভব নয়। একজন কর্মঠ নেতাকে এ দায়িত্ব দিতে হবে।’
গত ১৩ মার্চ দক্ষিণ জেলা বিএনপির চার শীর্ষ নেতাকে রাজধানীকে ডেকে নিয়ে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ। জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. শাহজাহান জুয়েল, সিনিয়র সহসভাপতি শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মামুন মিয়া ওই সভায় অংশ নেন। এ সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কেন্দ্রীয় নেতাদের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার নতুন কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কোন প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠন করা হবে-তা নিয়ে আলোচনা করতে গেল সোমবার রাতে নগরীর নাসিমন ভবন দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক করার কথা ছিল দক্ষিণ জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের। দক্ষিণ জেলার নেতাদের নিয়ে আলোচনায় বসতে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবর রহমান শামীমকে। কিন’ কেন্দ্রের নির্দেশে এ বৈঠক বাতিল করা হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে দক্ষিণ জেলা বিএনপির বিবদমান নেতারা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়বেন-এই কারণে কেন্দ্র থেকে ওই বৈঠক বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন কেন্দ্র থেকে নতুন কমিটির ঘোষণা আসবে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে কেন্দ্র থেকে আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা আসতে পারে।
এদিকে আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বে আসতে বিএনপির কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ করেছেন দক্ষিণ জেলার প্রত্যাশী নেতারা। এদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. শাহজাহান জুয়েল, সিনিয়র সহসভাপতি শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও সহসভাপতি মো. ইদ্রিস মিয়া।
জানতে চাইলে শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সুপ্রভাতকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে যেহেতু দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত আছি তাই আহ্বায়ক হতে ইচ্ছা পোষণ করেছি। তবে সংগঠনকে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা কার রয়েছে সেটা বিবেচনার দায়িত্ব কেন্দ্রের।’
ইদ্রিস মিয়া সুপ্রভাতকে বলেন, ‘বিগত সময়ে আমি সংগঠনের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছি তা অন্য কোনো নেতা করেছেন বলে মনে হয় না। তাই আমি দক্ষিণ জেলা বিএনপিকে সুসংগঠিত করতে দায়িত্ব নিতে ইচ্ছা পোষণ করেছি। আমার হাতে দায়িত্ব দিলে তিন মাসের মধ্যে সকল উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিট কমিটি গঠন করে জেলার সম্মেলন করতে পারবো।’
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ জেলা বিএনপির আওতাধীন সকল উপজেলা ও পৌরসভা কমিটি কেন্দ্র থেকে বিলুপ্ত করা হয়েছিল।